The mystery of the creation of the sea and after it



সমুদ্র সৃষ্টির রহস্য

 পৃথিবীর তখন সবে জন্ম হয়েছে। টগবগে গরম একটা আগুনের পিণ্ড। তখন সমুদ্র, মহাসমুদ্র বলে কিছুই ছিল না। কারণ, পৃথিবীতে তখন এক ফোটাও জল ছিল না। তবে গ্রহটার আবহমণ্ডলে ছিল প্রচুর জলীয় বাষ্প। কোটি-কোটি বছর ধরে পৃথিবী এই অবস্থায় ছিল। তারপর ধীরে-ধীরে ঠান্ডা হল। ঠান্ডা হওয়ার সময় সংকোচন-প্রসারণের ফলে কোনাে-কোনাে জায়গা ডেবে গিয়ে। প্রকাণ্ড-প্রকাণ্ড গর্ত তৈরি হল। আর কোনাে-কোনাে জায়গা উঁচু হয়ে তৈরি হল। পাহাড়, মালভূমি ইত্যাদি। 

পৃথিবী ঠান্ডা হতেই আবহমণ্ডলের জলীয় বাষ্প জমে তৈরি হল মেঘ। পুরাে গ্রহটা ঢেকে গেল ঘন কালাে মেঘে। তারপর একদিন নামল মুষলধারায় বৃষ্টি। বছরের-পর-বছর কেটে গেল, বৃষ্টি আর থামে না। চারদিকে শুধু জল আর জল। প্রকাণ্ড-প্রকাণ্ড গর্তগুলােতে জল জমতে লাগল। ধীরে-ধীরে সেগুলাে ভরতি হয়ে। তৈরি হল সমুদ্র, মহাসমুদ্র ইত্যাদি।।

মহাসাগরের বিস্তার 

 পৃথিবীতে পাঁচটা মহাসাগর আছে। এগুলাে হল প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। শেষ দুটি মহাসাগরকে যথাক্রমে সুমেরু এবং কুমেরু মহাসাগরও বলা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়াে। এর বিস্তার 16 কোটি 40 লক্ষ বর্গ কিলােমিটার। এর পরে আছে আটলান্টিক মহাসাগর। এর ওপরের তলের ক্ষেত্রফল। 7 কোটি 27 লক্ষ বর্গ কিলােমিটার। অর্থাৎ, মাপে প্রশান্ত মহাসাগরের অর্ধেকেরও কম। তৃতীয় স্থানে আছে ভারত মহাসাগর। এর ক্ষেত্রফল 7 কোটি 10 লক্ষ বর্গ কিলােমিটার। আটলান্টিক মহাসাগরের চেয়ে সামান্য ছােটো।

  এই তিনটি মহাসাগরের তুলনায় উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর অনেক ছােটো।। এদের বিস্তৃতি যথাক্রমে 1 কোটি 45 লক্ষ বর্গ কিলােমিটার এবং 1 কোটি 42 লক্ষ বর্গ কিলােমিটার। এই মহাসাগর দুটি উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই বরফে ঢাকা থাকে। প্রশান্ত মহাসাগর যেমন গভীর তেমন বিপজ্জনক। তবে এর বিশাল জলরাশি বেশ শান্ত। পর্তুগিজ নাবিক ম্যাজিলান তার পালতােলা জাহাজে ভাসতে-ভাসতে যখন এই নিস্তরঙ্গ সমুদ্রে এসে উপস্থিত হলেন তখন তিনি চেঁচিয়ে বলে উঠেছিলেন ‘এল প্যাসিফিকো’—অর্থাৎ, কী শান্ত। তার এই কথা থেকেই এই মহাসাগরের নামকরণ করা হয় প্যাসিফিক ওশেন বা প্রশান্ত মহাসাগর। 

আটলান্টিক মহাসাগরের নাম কীভাবে এসেছে তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে অনুমান করা হয় আটলাস পর্বত কিংবা রূপকথার দেশ আটলান্টিস থেকে এই নামের উৎপত্তি।। 

সাগর ও উপসাগর 

বড়াে-বড়াে নদীর যেমন শাখানদী থাকে তেমন মহাসাগরগুলােরও সাগর, উপসাগর। থাকে। মহাসাগরের জল কোথাও-কোথাও স্থলভাগের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। এগুলােকেই সাগর ও উপসাগর বলা হয়। এদের সঙ্গে মূল মহাসাগরের সংযােগ থাকে। পৃথিবীতে মহাসাগরের সংখ্যা পাঁচটি হলেও সাগর ও উপসাগরের সংখ্যা অনেক। প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যেসব সাগর ও উপসাগর যুক্ত আছে সেগুলাে হল বেরিং সাগর, চিন সাগর, জাপান সাগর, পীত সাগর, ওখটস্ক সাগর, সেলিবিস সাগর, ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর, আলাস্কা উপসাগর ইত্যাদি। আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত আছে লাব্রাডার সাগর, ভূমধ্য সাগর, হাডসন উপসাগর, বেফিন উপসাগর, মেক্সিকো উপসাগর, ক্যারিবিয়ান উপসাগর ইত্যাদি। আর ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যােগাযােগ আছে আরব সাগর, লােহিত সাগর, এডেন। উপসাগর, পারস্য উপসাগর ইত্যাদি। সুমেরু মহাসাগরের সাগর ও উপসাগরগুলি হল শ্বেত সাগর, সাইবেরিয়া সাগর, কারা সাগর, খাটাঙ্গা উপসাগর ইত্যাদি। কুমেরু মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত আছে রস সাগর, ওয়েডেল সাগর ইত্যাদি।

পৃথিবীর জলসম্পদ।  

পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগ জল। এই জল ছড়িয়ে আছে সমুদ্রে, মহাসমুদ্রে, মেরু অঞ্চলে, নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুরে, এমনকী মাটির নীচেও। এই বিপুল জলরাশির 97 শতাংশই সমুদ্রের লােনা জল। তাই এই জল সরাসরি মানুষের। কাজে আসে না। বাকি তিন শতাংশের 2.31 শতাংশ জল মেরু অঞ্চলে শক্ত বরফ হয়ে জমে আছে। আর অবশিষ্ট 0.67 শতাংশ জল ছড়িয়ে আছে নদী-নালা-খাল- বিল ইত্যাদিতে। এই 0.67 শতাংশ জলই আমরা প্রতিদিনের কাজে ব্যবহার করি। এই জলকে বলা হয় মিষ্টি জল। পৃথিবীর এই সমগ্র জলরাশিকে বলা হয় বারিমণ্ডল। আর স্থলভাগকে বলা হয় শিলামণ্ডল।

সমুদ্রের তলা কেমন?  

জলের ওপর থেকে সমুদ্রের তলা দেখা যায় না। তাই একসময় মানুষ ভাবত সমুদ্রের তলাটা বুঝি সমতল। মানুষ যেদিন গভীর সমুদ্রের নীচে যেতে পারল সেদিন অবাক হয়ে দেখল তলাটা সমতল তাে নয়ই, বরং সেখানে রয়েছে মালভূমি, উপত্যকা, জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, গভীর খাত, ছােটো-বড়াে নানা আকারের প্রবাল দ্বীপ ইত্যাদি। 

কোনাে মহাসাগর, সাগর বা উপসাগর কোনাে দেশ বা মহাদেশের সঙ্গে যেখানে মিলেছে সেই জায়গাকে বলা যায় উপকূল। এই উপকূল ধীরে-ধীরে ঢাল। হয়ে সাগর বা মহাসাগরের তলায় নেমে গেছে। এই ঢালের প্রথম অংশকে বলা হয় মহীসােপান। কিছুদূর পর এই ঢাল একটু খাড়াভাবে সমুদ্রের তলায় নেমে যায়। ঢালের এই অংশকে বলা হয় মহীঢাল। মহীঢাল যেখানে শেষ হয় সেখান থেকে শুরু হয় সমুদ্রের তলদেশ। সমুদ্রের তলায় পাহাড়, মালভূমি ইত্যাদির সঙ্গে একাধিক খাতও দেখতে পাওয়া যায়। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘মেরিয়ানা’ নামে একটি খাত আছে। এই খাতটি এত গভীর যে এর মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টও তলিয়ে যেতে পারে। এই খাতটির গভীরতা 37,800 ফুটের মতাে।। 

গভীরতার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম খাতটির নাম ‘এমডেন’ খাত। এটিও। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। এর গভীরতা 35,400 ফুটের মতাে। এ ছাড়াও প্রশান্ত মহাসাগরে আর যে খাতগুলি আছে তাদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য চ্যালেঞ্জার’ খাত, ‘অ্যালুসিয়ান’ খাত এবং ‘আটকামা’ খাত। 

আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে খাতের সংখ্যা কম। এই মহাসাগর দুটির তলদেশ অপেক্ষাকৃত সমতল। আটলান্টিকের ‘ব্লেক’ খাত ও স্যান্ডউইচ খাত এবং ভারত মহাসাগরের ‘সুন্ডা’ খাত উল্লেখ করার মতাে।

Post a Comment

0 Comments