Cat and Rat - A funny story


ইঁদুরে বেড়ালে

বাব্বা, বাড়ি তাে নয়, যেন ইঁদুরের ডিপাে একেবারে! ধাড়ি, নেংটি, বাচ্চা- কাচ্চা—পালে পালে ইঁদুর ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময়। ভাড়ারঘরের দেয়াল, মেঝে, যেখানে পেরেছে, গর্ত কেটে বাসা বেঁধেছে ওরা। দিন নেই, রাত নেই, দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে ইচ্ছেমতন। এটা কাটছে, সেটা টানছে, ওটা নিয়ে পালাচ্ছে। কোনও ভয় নেই, ডর নেই। কেটে-কুটে খুঁড়ে-কুঁড়ে ঘরদোর আঁঝরা করে ফেলছে দিন দিন। ইঁদুরের জ্বালায় বাড়ির লােকজন অস্থির একেবারে। একদিন তাে কত্তাবাবুর একপাটি জুতাের আধখানা প্রায় খেয়েই ফেলল রাত্তিরবেলা। গিন্নিমার মাথার চুলগুলাে কুচিকুচি করে কেটেই দিল একদিন। খােকাবাবুর অঙ্কের বইটা কখন যে কোথায় টেনে নিয়ে গেল, কে জানে। আর তাে পারা যায় না! আগে গিন্নি-মা দু-চক্ষে বেড়াল দেখতে পারতেন না। কোথেকে এবার একটা হলাে বেড়াল আমদানি করে বসলেন। কালাে-কুলাে গাবদা-গােবদা ধুমসাে বেড়াল একখানা। আর কী পেল্লায় সাইজের গোঁফ! বাপরে! 

এসেই তাে প্রথম দিন গােটা চার-পাঁচ ইদুর টপাটপ জলখাবার খেয়ে ফেলল। বেড়াল-বাবাজি। তারপর থেকে রােজ প্রায় আটটা-দশটা করে। কাণ্ড দেখে তাে। ইঁদুরদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া! ভয়ে কেউ আর গর্ত থেকে বেরােতেই চায় না।

 বেরােলেই তাে সাক্ষাৎ যমের মুখে একেবারে! " কিন্তু তাতেও কি রক্ষে আছে নাকি! সব সময় তক্কে তক্কে ঘুরছে তুলােটা। কখন যে কোন গর্তের কাছে ওৎ পেতে বসে থাকে চুপিচুপি, বােঝাই মুশকিল। 

যেই না কারুর একটুখানি লেজের ডগা দেখতে পেয়েছে, বা কানের একফালি অমনি খপ করে ধরে ফেলল, আর গিলে ফেলল গপ করে। কী ধড়িবাজ রে বেড়ালটা! আহারে, সে কী করুণ অবস্থা ইঁদুরগুলাের! ছিল এ্যাদ্দিন রাজার হালে। এখন গর্ত ছেড়ে আর বেরােতেই পারে না। ভালাে করে খেতেও পায় না। এখনও প্রাণে যারা বেঁচে আছে, খেতে না পেয়ে তাদের আধমরা অবস্থা। যত নষ্টের গােড়া ওই হুলাে বেড়ালটা। তার ভয়ে দিনের বেলা তাে দূরের কথা, রাত্তিরেও কেউ গর্ত থেকে বেরােতে সাহস পায় না। দেখতে দেখতে এদিকে তাে ইদুরের। সংখ্যা কমে যাচ্ছে দিন দিন। কারও ছেলে, কারও বউ, বাবা মা মাসি দাদু নাতি-বেড়ালটার পেটে সব চলে যাচ্ছে একে একে। এভাবে চললে তাে ইদুরগুলাে নির্বংশ হয়ে যাবে একেবারে। 

নাহ, এভাবে চলতে পারে না। বেশিদিন। এর একটা বিহিত চাই। চাই-ই চাই! মাঝ রাত্তিরে একদিন এই নিয়ে ইঁদুরদের জরুরি সভা বসল ভঁড়ার- ঘরে। চারদিক নিশুতি, শুনশান। তুলােটা বােধহয় পেট ফুলিয়ে নাক ডাকিয়ে ঘুম নারছে কোথাও। আলােচনা করার এই সুযােগ। 

একটা বুড়ােমতন ধেড়ে ইঁদুর হয়েছে সভাপতি। খেতে না পেয়ে পেয়ে তার গলা দিয়ে আওয়াজ বেরােচ্ছে না। চি চি করে কোনওরকমে সে বলল, শয়তান বেড়ালটার হাত থেকে কী করে বাঁচা যায়, বলাে দেখি। কার মাথায় কী বুচ্ছি আসে, বাতলাও। মাঝবয়েসি একটা ইদুর রাগে ফুঁসতে ফুসতে বলল, ভারি বিচ্ছু বদমাস ওই হুলােটা। ওকে জব্দ করা দরকার। চলাে, আমরা দল বেঁধে একসঙ্গে ওকে ঘিরে ফেলি। ছিড়ে কুটিকুটি করে দিই। 

অত সােজা না! ঝুড়ির তলা থেকে একটা নেংটি ইঁদুর উঁকি মেরে বলল, তার আগেই হুলােটা আমাদের কচকচ করে চিবিয়ে ফেলবে। যা হুমদো চেহারা একখানা! 

কে একজন দরজার কোণ থেকে বলে উঠল, আমার বাপু বড় ভয় করে। চলাে, সবাই পালাই এখান থেকে। কোথায় পালাব এতকালের গর্ত ছেড়ে! বুড়াে-হাবড়া মতন একটা ইদুর ফেঁস। করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল একটা। বলল যেখানে যাব, সেখানেও তাে বেড়াল থাকতে পারে। ' তা ঠিক। সবাই চুপ করে বসে রইল অনেকক্ষণ। কারুর মুখে আর কথা জোগায় না। হঠাৎ কোখেকে টুং টাং আওয়াজ উঠল একটা। কীসের আওয়াজ? চমকে সকলে এদিক-ওদিক তাকাতে ১ লাগল। দেখা গেল, পুঁচকে একটা ইদুরছানা তাকের উপর উঠে ছােট্ট ঘণ্টি বাজাচ্ছে একটা। সবাই অমনি ধমকে উঠল, এ্যাই! চুপ কর। কোথায় পেলি ওটা? পুঁচকে-টা বলল, উঠোনে কুড়িয়ে পেয়েছি। আচ্ছা, একটা কাজ করলে হয়। এই ঘন্টিটা যদি বেড়ালের গলায় বেঁধে দেওয়া যায়, তাহলেই তাে কেল্লা ফতে! এ্যাই! চুপ কেন? কী হবে তাতে? জিজ্ঞেস করল সভাপতি। পুঁচকে বলল, দারুণ মজা হবে তখন। বেড়ালটা যখন যেদিকে যাবে, গলার ঘণ্টি থেকে টুং টাং আওয়াজ শােনা যাবে। অমনি যে যার জায়গায় লুকিয়ে পড়ব। তাহলে তাে আমাদের আর ধরতে পারবে না বেড়ালটা। 

বাহবা বাহবা বাহা! দারুণ বুদ্ধি বের করেছিস তাে! তাের ওইটুকু মাথায় এমন বুদ্ধি এল কী করে, বল দেখি! ফুর্তিতে সবাই হইহই করে উঠল। একেবারে! আরে থাম, থাম! চুপ কর। বুড়াে সভাপতি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলল, বুদ্ধিটা তাে ভালই। কিন্তু তার আগে ঠিক কর, বেড়ালের গলায় ঘণ্টিটা বাঁধতে যাবে কে? তুই যাবি? তুই? তুই? তুই? 

ওরে ব্বাবা! সবাই অমনি মুখ নামিয়ে নেয়। কারুর মুখে আর কথাটি নেই। ঘণ্টি বাঁধতে গিয়ে বেড়ালের পেটে যাবে নাকি শেষকালে! 

 মা-আ-ও! হলােটা কোথায় যেন ডেকে উঠল না? ব্যস, চোখের পলকে সবাই হাওয়া!

Post a Comment

0 Comments