Chanakya Perspective about Life


নারীশক্তি

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃষ্টি বজ্রপাত থেকে ব্রজের গােপ গােপীগনকে রক্ষা করার জন্য স্বীয় আঙ্গুলে করে বিশাল গােবর্ধন গিরি ধারন করেছিলেন। সেই ত্রিলােকপা- লনকারী পুরুষােত্তম শ্রীকৃষ্ণকে একজন নারী গর্ভে ধারন করেছিলেন। সুতরাং নারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কারাে সাধ্য নয়। নাররি মায়ায় পুরুষকে শক্তিহীন হতে হয়। তাই নার। ঈশ্বর অপেক্ষা অনেক শক্তিশালী। নার। সহজে অনেক কিছু বুঝে ওঠার ক্ষমতা রাখে। hসংসার মায়ায় নিমজ্জি হয়ে নারীর কঠোর বাক্য ও নরম প্রকৃতির। আচরনে পুরুষ মুগ্ধ হয়ে যায়।

 মায়াময় সংসারে জন্ম নিয়ে বৃথাই অতিবাহিত করা উচিত নয়। এই দুর্লভ মানব জন্ম নিয়ে কিছু না কিছু করা একান্ত কর্তব্য। আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে ভগবান শ্রীহরির সেবা আরাধনা করা। তাহলে আমরা মানব জন্মে কৃতকাৰ্য্য হতে পারবাে। আর যদি তাও না পারা যায় নারী পুরুষের মধ্যে একটা সহৃদয় প্রীতিও ভালবাসা থাকা প্রয়ােজন। যৌবনের সঠিক আনন্দ না নিয়ে জীবনকে ব্যর্থ করা উচিত নয়। যারা যৌবনের আনন্দ অথবা ঈশ্বর প্রেমের সুকৃতি থেকে বঞ্চিত তারা এভাবে বৃথাই আসা যাওয়া করে থাকে। ও ভবিষ্যতের জন্য টাকা পয়সা জমিয়ে রাখার দরকার আছে প্রতিটি মানুষের। যে না রাখতে পারে তাকে আফশােস করে মরতে হয়। পয়সার দ্বারা স্ত্রীকে রক্ষা করা যায়। খারাপ সময়ের জন্য মানুষকে ভাবতে হয় কারন সেই সময় টাকা পয়সার দরকার হয়। তাই পয়সাকে সব সময় রক্ষা করার আগ্রহ থাকতে হবে। নারী ও সম্পত্তি সর্বদাই ঠিক ঠিক করে রাখতে হবে,সজাগ থাকতে হবে, কারন এই দুটো জিনিস যে কোন সময় ফাঁকি দিতে পারে। নারী যদি কোন সাধারন বংশের হয় একেবারে সুন্দরী না হলেও তাকে বিয়ে করা উচিত। ভীষনাকার নারীকে বিয়ে করলে ক্ষতিকর। কারন বিয়ে করা উচিত সমকক্ষ নারীর সাথে। এটাও জেনে রাখা উচিত পুরুষের চেয়ে নারীর আহার দ্বিগুন, শ্রম করার ক্ষমতা চারওন, সাহস ছাগুন ও কাম বাসনা আট গুন। তবে এদের লজ্জপুরুষের অপেক্ষা চারগুন বেশী

। যে কোন পুরুষের স্ত্রীর চারটি গুন থাকা উচিত। সেগুলি হল- ভােজনে জননীর মত, ভ্রমনে ভগ্নি সদৃশ, বিচারে স্বামীর পক্ষাবলম্বন আর শয়নে কেবলমাত্র রমনের জন্য স্ত্রীর সমান। আর ও ৬ন থাকবে যে কোন কাজে মন্ত্রীর মত এবং স্বামীকে সেবা করবে দাসীর মত। যারা স্বামীর অনুগত ও স্বামী সেবা করে থাকে তারা সতী নারী। সবাই জানে তার প্রমান । সতী সাবিত্রীকে স্বয়ং ধর্মরাজ ও টলাতে পারেন নি। বাজা ও গুরু পিতৃতুল্য এবং বন্ধু পত্নী ও শ্বাশুড়ী সর্বদা মাতৃ তুল্য। কিন্তু তাদের বিষয়ে অন্যথা ভাবলেই সে হয় মহাপাপী। যে যন্ত্র কাঠ ছিদ্র করতে পারে সে যন্ত্র কিন্তু পদ্ম ফুলের পাপড়িকে ছিদ্র করতে পারে না। এমনতর ভালবাসা প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের থাকা উচিত। ভালবাসার বন্ধন পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ বন্ধন। নারীর সাথে। পুরুষের ভালবাসার বন্ধন খুব শক্তিশালী হওয়া উচিত। 

যে মনে করে যে সুন্দরী নারী তার ভালবাসার জালে বেশ আটকে গেছে সে মূখ। কারন ভবিষ্যতে সেই নারীর কথায় তাকে বাঁদরের মত নাচতে হয়। 

যে নারী অপর পুরুষের সাথে সর্বদা কথা বলতে অভ্যস্থ এবং অপর পুরুষের নাড়ী নক্ষত্র লক্ষ্য করেও আলােচনা করে থাকে, সেই নারী ছলনাময়ী। তার থেকে দূরে থাকা একান্ত দরকার। এমন নারী কোন একজনের হয়ে থাকতে পারে না। যে নারী তার স্বামীর মত না নিয়ে ব্রতাচরন করে থাকে সে তার স্বামীর আয়ু কমিয়ে দেয়। স্বামীর মতামত ব্যতিত কোন কাজ যদি কোন স্ত্রী করে থাকে তাহলে সে তার স্বামীর ক্ষতি সাধনে ব্যস্ত নারীগন ব্রত ও তীর্থযাত্রা করে পাপহীনা হতে পারে না যদি তারা স্বামীর্সেবা থেকে বঞ্চিত থাকে। স্বামী সেবা তাদের একমাত্র স্বর্গলাভের সুপথ। স্বামীর ভালবাসা লাভই স্ত্রীর কাছে স্বর্গ বলে মানতে হবে। পূর্বে নাকিপ্রচলিত ছিলনার। তার স্বামীর লিঙ্গকে একটা পাত্রে রেখে ধৌত করে সেই জল তারা পান করলে স্বামী খুশী ও সুখী হত। সঙ্গে সঙ্গে স্বামীও স্ত্রীকে মনের মানুষ বলে ধারনা করতাে এবং যথাসম্ভব ভালবেসে রক্ষা করতাে। কারন মিথ্যা, বেইমানি, ঠকবাজি, লােভ, ক্রোধ,হিংসা নারীর স্বাভাবিক দোষ। নারীর এরপব্যবহারের জন্য বিস্মিত হওয়ার কোন কারন নেই। কুটীল নারীর স্বভাব বােঝা বড় কঠিন।

  যে নারী পবিত্র ও সতী সাধবী হয়ে সে স্বামীর কাছে সর্বদা সত্যি কথা বলে থাকে। এমন নারী যে গৃহে থাকবে সেই গৃহ সৌভাগ্যশালী হয়ে থাকে। বড় বড় জ্ঞানী ও বিদ্বান মন্ডলী এরূপ নারীকে পেতে ইচ্ছা পােষন করেন। তবে সাবধান দেবতারা ও নারীর মন বুঝতে পারে না। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আকর্ষন নারীর রূপ ও যৌবন। নারীর শরীর যে সুন্দরে গঠিত তা হল-মাংস, পেশী, হাড় ও যৌনাঙ্গ। পুরুষ কেবলমাত্ৰতাতেই হারিয়ে যেতে চায়। নারীর ও চির স্বভাব সর্বদা নিজেকে যুবতী ভাবে। বুদ্ধাবস্তা পর্যন্ত সে পুরুষকে তার দিকে আকর্ষন করে আনন্দ পেতে চায়।

 নারীর মুখের সৌন্দর্য্য ও শরীরের গঠন পরুষকে আকর্ষন করে। ৰন গরুষ একটা নারীর সাথে সাথে থাকা সত্বেও অপর নারীর দিকে। খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়। এটা পুরুষের মারাত্মক বিভ্রান্ত। কারন সে বােঝে যে সব নারীর অঙ্গ ও মন সমান। যে পুরুষ একজন মাত্র নারীকে। ভালবাসে সেই আদর্শ পুরুষ। তার চলার পথে কোন বাধা আসতে পারে না। কারন মহাশক্তি মা মহামায়া তাকেই সাহায্য করেন। 

মাসিক ধর্ম হয়ে যাওয়ার পর নারীগন আবার কুমারী হয়ে যায়। মাসিক ধর্ম কালে কোন পুরুষ তাদের কামনা বশে স্পর্শ করলে পুরুষের আয়ুষ্কাল। কমে যায়। এ সংসারে যত যুদ্ধ ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে সব নারীদের জন্য। তাই বুদ্ধিজীবিগন বলে থাকেন ভুলেও সামান্য নারীর মায়াজালে কেউ যেন না জড়িত হয়। নারী সর্বনাশের মূল। নারীর সংসর্গ সম্পূর্ন পরিত্যাগ করা উচিত। যে নারী সকালে মাতৃভাবে স্বামী সেবা করে সারাদিন ভগ্নির ন্যায় ভালবাসা দেয় আর রাতে বেশ্যার মত ব্যবহার করে তাকেই সুখী ও ভাল স্ত্রী বলে মনে করা হয়। 

যে কোন পরিবারে ঝগড়া ঝাটি হয়ে থাকে কেবলমাত্র নারীর কারনে। অবশ্য পরুষরা যদি না ভেড়য়া হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তাদের ভাল করে বুঝে কাজ করা উচিত। পন্ডিত চানক্যের নারী বিষয়ে যাবতীয় বক্তব্য আমাদের মেনে এবং বুদ্ধি খরচ করে বিচার করে চলা উচিত।

মিত্রতা  

মিত্রতা একটা বৃহৎ কল্যানকর ব্যাপার। আদিকাল থেকে পৃথিবীতে একটা মিত্রতার বন্ধন চলে আসছে। মিত্রতার একটা মাহাত্ম্য আছে। মানব সমাজে নিজের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার জন্য কারাে না কারাে পাশে থাকা দরকার হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় যদি কেউ এসে সাহায্য করে তাহলে সে হল তার একমাত্র মিত্র বা বন্ধু। ভাল ও গুনবান মিত্র জীবনের সুখ ও শান্তি এনে দিতে পারে। কিন্তু ভাল মিত্র চিনব কেমন করে। আচাৰ্য্য চানক্য মিত্রতা বিষয়ে যে সকল কথা বলে গেছেন সেগুলি আমরা যদি বিচক্ষনতার সাখে লক্ষ্য করি তাহলে সেরূপ আচরনের মাধ্যমে আমরা মানব জীবনে সুখ শান্তি আনতে পারব। চিনে নিয়ে মিত্ৰতা করা মঙ্গল। যে সামনে মিষ্টি কথা বলে আর গােপনে ক্ষতি করার ব্রত নিয়ে থাকে সেরুপ লােকের সাথে মিত্রতা বন্ধনে অমঙ্গল হয়। এমন বন্ধু অপেক্ষা জ্ঞানী। শত্রু অনেক ভাল । মিথ্যাবাদী বন্ধকে বিশ্বাস করা উচিত হবে না। কারন। সেই বন্ধু রেগে গেলে সমস্ত গােপন কথা ফাঁস করে দিতে পারে। তাই। মিথ্যাবাদী বন্ধুর কাছে কোন কথা বলা উচিত নয় তার কাছ থেকে কোন কিছু আশা করাও উচিত নয় নিজ সমকক্ষ মানুষের সাথে কেবলমাত্র মিত্ৰতা করা উচিত। নিজের অপেক্ষা বড় বা ছােটর সাথে বন্ধুত্ব অমঙ্গল জনক। 

বড় বা ধনী পয়সাওলা লােকের সাথে বহুবন্ধ থাকে। এমন বন্ধু কেবল। নিজের স্বার্থের জন্য এসে থাকে। তারা কেবল ধনী মিত্রকে সর্বনাশ করতে চলে আসে কৌশলে মিষ্টি কথা বলে   

তবে মিত্রতার পিছনে কোন না কোন স্বার্থ অবশ্যই থাকে। স্বার্থ। ব্যতিত কোন বন্ধুত্ব হতে পারে না। এটা চরম সত্য কথা। সুখের সময় অনেক বন্ধু আসে কিন্তু দুঃখের সময় আসল বন্ধুকে চেনা যায়। দুঃখের সময় যে সঙ্গ দেয় তাকেসত্যিকারের বন্ধু বলে মনে করা যায়। তাকে সর্বদা নিজের কাছে রাখতে হয়। অপর স্বার্থপর বন্ধুর নিকট থেকে দুরে থাকা উচিত। কারন বন্ধুই বন্ধুকে রক্ষা করে। অনেক সময় নিজের ভাই অপেক্ষা বন্ধু ভাল হয়েথাকে। 

সমান বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন সমান কল্পনাসম্পন্ন,সমান আর্থিক অবস্থা সম্পন্ন বন্ধুত্ব বজায় থাকে। গাধা আর ঘােড়া, কুকুর আর বিড়ালে, ছাগল আর বাঘে কোনদিন বন্ধুত্ব হয় না,হতে পারে না। মানুষ যেমন মানুষের সাথে থাকে,তার প্রভাব অবশ্য সেই মানুষের উপর পড়ে। যেমন একটা বীজের প্রভাব তার দ্বারা উৎপন্ন বৃক্ষের উপর পড়ে। এই কথাকে উপলব্দি করে আসল বন্ধুকে বেছে নেওয়া উচিত। বন্ধ ভাল হলে নিজে ও ভাল হতে পারে। 

বন্ধুর ঘাম যেখানে পড়ে সত্যিকারের বন্ধু হলে সময় মত সেই। জায়গায় রক্ত বইয়ে দেবে। তবেই তাকে আসল বন্ধু বলে বােঝা যাবে। তার বন্ধু যদি তা না করতে পারে তার চেয়ে নদীর কুমীর অনেক ভাল যে সে কিন্তু না পারুক অন্তত মিথ্যা করে চোখের জল ফেলতে পারে। যে ব্যক্তি বন্ধুত্ব থাকা কালীন কোন বন্ধুর বাড়ীতে থাকা মেয়েকে মন্দ দৃষ্টিতে দেখে এবং তাকে ভালবাসতে আগ্রহী হয় সে বন্ধু সবচেয়ে বড় পাপী 

শ্রীকৃষ্ণ ও সুদামা, শ্রীরামচন্দ্র ও বিভীষন, শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন এদের বন্ধুত্বকে পুরানে আদর্শ বন্ধু বলে নিদর্শন আছে। যখন কারাে সাথে বন্ধত করতে হবে তখন বিচার বিবেচনা করে বন্ধুত্ব স্থাপন করা দরকার।

  বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বন্ধুত্ব করার পূর্বে ভাল ভাবে ভেবে চিন্তে বন্ধুত্ব করে। কারন তারা জানে যে সুসময়ের বন্ধুগন অসময়ে শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। নিজের পরিবারের মধ্যে ও বন্ধু থাকে। মােল বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে নিজের ছেলেকে বন্ধ করা যায়। কারন নিজের সন্তানের থেকে ভাল বন্ধ। আর হয় না। সুন্দরী ও গুনবতী নারীর সাথে বন্ধুত্বের ব্যবহারে যে সুখ পাওয়া যায় এমন আর কোথাও পাওয়া যায় না। এমন নারীকে প্রেমিকা অথবা স্ত্রী করে নিয়ে নিজের সুখ আর শান্তি কখনাে খােয়ানাে উচিত নয়। বন্ধুকে বন্ধু হিসাবে রেখে দিলে মঙ্গল। কারন বন্ধুত্ব এমন একটি চাবি কাঠি যার দ্বারা সমুদ্র পর্যন্ত অতিক্রম করা যায়।

 বংশ বিষয়

 প্রাচীনকাল থেকে বংশ ও রক্তের একটা গুরুত্ব আছে। কারন রক্ত কথা। বলে। অনেক পরিবারে রক্তের সত্যতা না থাকায় ছােট বড় কথা নিয়ে দ্বন্দ্ব। বাধতে দেখা যায়। সামান্য ভুলের কারনে সমস্তপরিবার ছন্নছাড়া হয়ে যায়। মহাপন্ডিত চানক্য বহু বছর পূর্বে এই বিষয়টিকে উপলব্ধি করে। জনহিতার্থে অনেক দামী দামী কথা বলে গেছেন।

 ভাল আর মন্দ বােঝার ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে বুদ্ধিমান বলে স্বীকার করা হয়। এমন ব্যক্তি সর্বদা সুখ ভােগ করে যার অন্তর ভাল মন্দ বুঝতে পারে। যে পরিবারে কুলটা স্ত্রী থাকে, অবিশ্বাসী কাজের লােক থাকে, গৃহের মধ্যে বিষাক্ত সাপ থাকে সে পরিবারে কখনাে সুখ বা শান্তি থাকে না। সেখানে দুঃখ আত্মীয় স্বজন নিয়ে বসে থাকে আর দিন রাত কলহ লেগে থাকে। 

পরিবারের আসল অর্থাৎ প্রধান সদস্য যদি সুখ-দুঃখে ভেঙে না পড়ে, বিপদ সময়ে ধৈৰ্য্য না হারিয়ে যদি মন প্রান দিয়ে নিজের পরিবারকে সাহায্য করে এবং নিজের ছেলে ও স্ত্রী যদি বশে থাকে আদেশ মাত্রেই পালন করে তাহলে সে পরিবার সর্বসুখী। এমন পরিবারকে একটা ভাল পরিবার বলে মনে করা যায়। এমন পরিবারে শান্তি ও সত্যিকারের ভালবাসা পাওয়া যায়। নিজের পাগলামির জন্য মানুষ কষ্ট পায়। যৌবনের যে কোন ভুল মানব মনে সর্বদা কষ্ট ও দুঃখ এনে দেয়। 

 বুদ্ধিমান মানুষ কষ্ট সহ্য করেতার সন্তানকে ভাল করে বিদ্যা শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলতে চায়। কারন তার জানা আছে যে সন্তানের দ্বারা পরিবারের মুখ উজ্জ্বল হবে। নিজের সমস্ত দুঃখ কষ্টের অবলুপ্তি ঘটবে। ভাল কাজের জন্য পরিবারের নাম উজ হয়ে থাকে। গুনবান ও বুদ্ধিমান। সন্তান পরিবারের সম্মানকে রক্ষা করে চলে। T যে মা বাবা তার সন্তানকে বিদ্যা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে সেই বাবা মা তার বড় শত্র। কারন সন্তান বড় হয়ে যখন সমাজকে চিনতে ও বুঝতে পারে তখন তার বড় আফশােষ হয় এবং মনের মধ্যে হিংসার প্রভাব পড়ে । আহবাবা মায়ের কর্তব্য সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষা দেওয়া। । 

সন্তানকে অধিক ভালবাসা দিলে তা অনেক দোষের হয়ে থাকে। কঠোর ব্যবহার করলে অনেক গুনের সৃষ্টি হয়। তাই সন্তান ও শিষ্যকে অধিক স্নেহ না দেখিয়ে কঠোর হওয়া উচিত। পিতা ও গুরুর এটা একটা মৌলিক দায়িত। সন্তানের দোষ দেখা মাত্রই সেটাকে শােধন করা কর্ত্তব্য। ছােট বেলার সামান্য কঠোরতা যৌবনে মিষ্টি হয়ে উঠবে। অধিকশাসন ও প্রয়ােজনের অধিক ভালবাসা দুটোই ক্ষতিকারক। 

সন্তান আর জলের মধ্যে কোন তফাৎ থাকে না। জল যে পাত্রে রাখা। হয় সে সেই পাত্রের আকার ধারন করে। তাই বাবা-মার উপর নির্ভর করে। তারা তাদের সন্তানকে কি শিক্ষা দেবে। তাদের ব্যবহার সন্তানকে ঠিকভাবে তৈরী করবে। বাবা-মা তাদের সন্তানকে মনােমত ছাঁচে ঢেলে তৈরী করতে পারে। 

বড় বড় জঙ্গলে মাত্র একটি বৃক্ষ জন্মে থাকে যার সৌগন্ধে সমগ্র বন জঙ্গল মুখরিত হয়ে উঠে। তেমনি ভাল একজন সন্তান লক্ষ লক্ষ বুদ্ধিহীন ছেলের থেকে ভাল হয়ে থাকে। বুদ্ধিহীন ও চরিত্রহীন সন্তান থাকার চেয়ে নিঃসন্তান থাকাই ভাল। একজন বুদ্ধিমান ও গুনবান সন্তান সারা পরিবারের নাম উজ। করে। যেমন একটি মাত্র চন্দ্র সারা পৃথিবীতে আলাে বিকিরন করে কৃতার্থ। অনেক সন্তান অপেক্ষা যদি একটি মাত্র সন্তান বাবা মাকে বার্ধক্যে সেবা যত্ন করতে পারে তাহলে হাজার সন্তান অপেক্ষা সেই একটি মাত্র। সন্তানই সর্বশ্রেষ্ঠ। 

সন্তানকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ভালবাসা দিতে হয়। দশ বছর বয়স পৰ্যন্ত তাকে বুকে রাখতে হয়। মােল বয়স হলে নিজের সন্তানকে বন্ধুর মত ভাবতে হয়। বন্ধুর মত ভালবাসতে পারলে নিজের মনের মত হয়ে। যাবে। তখন দেখা যাবে সন্তানই বাবার কাধে কাধ মিলিয়ে চলবে। সুখ শান্তি আর লক্ষ্মী থাকে সেই ঘরে। মুখের পূজা হয় না যেই ঘরে। যে ঘরে স্বামী স্ত্রীর বিবাদ হয় না। যে ঘরে বিদ্যানের হয় পূজা পাওনা।

বহু নিগুনী সন্তান অপেক্ষা একজন বুদ্ধি মান সন্তান অনেক ভাল। যে গরু দুধ দেয় না বা লাঙ্গল বয় না সে গরু রেখে কোন লাভ নেই। তেমন বুদ্ধিহীন ও জ্ঞানহীন সন্তানের দ্বারা বাবা মার কোন কাজ হয় না। যেমন দুগ্ধহীন গরু কোন কাজে লাগে না। তেমন মুখ সন্তান কোন কাজের নয়। মানবের পঞ্চ পিতা। যেমন-১ জন্মদাতা ২ পালন কৰ্ত্তা ৩ সৎসার কারী ৪ বিদ্যাদান করে যে ৫ সংঙ্কটে প্রান রক্ষা কারী। পুরুষের চারটি বড় শত্রু। যেমন ১ ঋণ করে যাওয়া পিতা। ২ চরিত্রহীন মা ৩ সুন্দরী পতিতা স্ত্রী ৪ মূখ সন্তান। ধনী ঘরে জন্ম নিলে যে সে সন্তান বড় হয়ে গেল তা হয় না। মহান সেই ব্যক্তি যারগুন আর বিদ্যা থাকে। সে সব ব্যক্তিদের কখনাে ছােট ভাবা উচিত নয়। যে ছােট ঘরে জন্মালে ও বুদ্ধিমান, শিক্ষিত আর জ্ঞানী। হয়ে থাকে সে সকলের চেয়ে বড়। মানুষ মাত্রেই তারগুনের দ্বারা বড় হয়। 

বিদ্যাথা ও গুনী ব্যক্তিদের আটটি বিষয় থেকে দুরে থাকা উচিত। I যেমন- কাম, ক্রোধ, লােভ,সুদিষ্টপদার্থশঙ্গার, খেলাধুলা, অতি নিদ্রা ও অতি সেবা। এইসব বিষয় থেকে দুরে থাকলে বিদ্যাথা ও গুনী ব্যক্তিগন জীবনে

 সুখ ও শান্তি পাবে। ভয়ঙ্কর অন্ধকার থেকে তারা আলােয় আসতে পারবে। যে গৃহের সন্তান বিদ্বান ও বুদ্ধিমান হয়, স্ত্রী শান্তিপ্রিয় এবং পূর্নরূপে গৃহিনী হয়, ঘরে সমস্ত কাজ নিজে করে। যে ঘরে আত্মীয় স্বজনের আদর যত্ন হয়, যে ঘরেশিবের পূজা করা হয়, যে ঘরে পানীয় জলও খাবার মজুত থাকে, যে ঘরে বুদ্ধি মান ও জ্ঞানী লােকেদের সহবাস থাকে সে ঘর সুখী ও শান্তিপূর্ন হয়। এমন গৃহ স্বর্গের চেয়েও আনন্দ পূর্ন স্থান। যে ঘরে সুন্দরী,বুদ্ধিমান ও গুনবান স্ত্রী থাকে আর ভাল সন্তান থাকে সে ঘর সকলের মন জয় করে। সে ঘরে বাসকারী ব্যক্তি সুখী হয়ে থাকে।

 ধর্মকর্ম 

 ঈশ্বরে ভক্তি ও বিশ্বাস রেখে উপযুক্ত কাজ কর্ম করাই ধর্ম। কারন ধর্ম। একমাত্র সত্য,তার উপর আর কিছুই নেই। মানবতা তার সাথে অঙ্গাঙ্গি জড়িত। তাই প্রথমে ধর্ম বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। ধর্ম পথে থাকি কর জীবন যাপন ভাই। আচাৰ্য্য চানক্য ধর্ম সম্বন্ধে অনেক কথা বলে গেছেন। ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। সর্ব প্রথমে আমি ত্রিভুবনেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে প্রনাম করি। শাস্ত্র ও ধর্মনীতিকে বিশেষভাবে জ্ঞাত হয়ে মানবের মঙ্গল কারনে তার থেকে রাজনীতির কথাগুলি প্রকাশ করছি। 

শান্তের কোন একটি শ্লোকের অর্ধেক অথবা অর্ধেকের অর্ধেককে প্রত্যহ পাঠ করলে মঙ্গল। দান,ধ্যান, অধ্যয়ন দ্বারা দিনকে সার্থক করা উচিত। দান আর জ্ঞান এই দুটো বস্তু পুরুষের থাকা একান্ত কর্তব্য। এই দুটোকে নিয়মিত পালন করলে মানুষের মন সব কাজে লাগে। তার সময় ব্যর্থ হয় না [ মানুষ ধর্ম,অর্থ, কাম ও মােক্ষ এই চারটির মধ্যে কোন একটি প্রাপ্তির। জন্য যদি চেষ্টা না করে তাহলে তার ভবে জন্ম নেওয়া বৃথা।তার পক্ষে যাওয়া। আসা কেবল মাত্র সার। সে ব্যক্তি নিজের উপর বােঝা হওয়ার চেয়ে পৃথিবীর

 উপর-বােঝা হয়ে থাকে। তার ইহ পরকাল সব নষ্ট হয়ে যায়। জীবনে ভাল কাজ করতে পারলে সময় মত সব কিছু পাওয়া যায়। ভাল কাজ জীবনকে মহান করে দেয়। তাই এই জীবনের প্রতিটি মুহর্তকে কাজে লাগাতে হয়। মৃত্যু এসো। গেলে আর কিছুই করার থাকবে না। না এই শরীর, না কল্পনা না আশা,

 প্রতিটি বিষয় জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সব শেষ হয়ে যায়। সবচেয়ে কাছের দেবতা সাক্ষাৎ সূৰ্য্যদেব। আগুন ও বড দেবতা। দেবতা মানবের হৃদয় মধ্যে বাস করে। বুদ্ধিমান লােকেদের ক্ষেত্রে পাথরের বা মৃত্তিকার। দেব দেবাই ভগবান। তারা ঐ মূর্তির মধ্যে ভগবানকে দর্শন করে। বুদ্ধিমান। ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতে শ্রীভগবান পৃথিবীর সর্বত্র বিরাজমান। 

সত্যই সবচেয়ে বড় মহান। সতই হল ভগবান। সত্য ব্যতিত আর যা কিছু সবই মিথ্যা। সূর্য উদয় হয় এটা সবচেয়ে বড় সত্য। বায় যে প্রবাহিত হয় এটাও সত্য। পৃথিবীর সকল বস্তু ও ঘটনা সত্যের উপর নির্ভরশীল। সেজন্য সকল প্রানীকে সত্যকে মানা উচিত। যে কোন মানুষ সত্যের উপর নির্ভর করে জীবনে সাফল্য আনতে পারে। 

 চিরস্থায়। এ সংসারে কিছুই নয়। পুরুষ জীবনের শুরু থেকে চঞ্চল। শ্রীলক্ষ্মী ও চঞ্চল। তিনি কখনাে একস্থানে একজনের কাছে বেশিদিন থাকেন । এভাবে এ সংসারে প্রতিটি বস্তু চলমান। ধন সম্পত্তি, সম্পর্ক,ঘরবাড়ী সবই চঞ্চল। এদের মধ্যে কোন কিছুই চিরস্থায়ী কারাে সঙ্গ দেয় না। 

ভান ও ধর্ম একমাত্র অটল ও অচল। জ্ঞানই স্থায়ী বমিানব থেকে জ্ঞান। কখনাে পৃথক হয় না। শ্রবন শক্তি মানবের বেশী, তাই শ্রবন দ্বারা জ্ঞান ও মােক্ষ লাভ করে। মানবের উচিত মন্দ কথা না শুনে জ্ঞানের কথা শােনাই উচিত

  যা হবে বা যা ঘটবে কখন কি হবে তা কেউ বলতে পারে না। ঘটনার সাথে তাল মিলিয়ে চলা উচিত। নইলে মানুষ এ সংসারে টিকে থাকতে পারে না। মৃত্যু সবচেয়ে বড় শক্তিশালী এবং তা সত্য। যা প্রতিটি জীব জন্তুকে দিনের পর দিন গ্রাস করে আসছে। সংসার যাত্রা অবসান হওয়ার পর মুত্যই একমাত্র সম্বল যা তার রাজত্ব যথাযথ ভাবে চালিয়ে যায়। মুত্য কখনাে। নিদাগত হয় না। সে সদা জাগ্রত থাকে। তাই মৃত্যুকে ভােলা উচিত নয়। মৃত্যুকে সর্বদা মনে রেখে সব সময় ভাল কাজ করা উচিত। জীবনের লক্ষ্য। ভাল হওয়া চাই। যে যেমন কাজ করে সে সেইমত ফললাভ করে। কর্মের মধ্যে মানুষ মায়াজালে জড়িত হয়ে আছে। যখন মৃত্যু আসে তখন সব কিছু পড়ে থেকে যায়। কিছই প্রানীর সাথে যায় না। থেকে যায় কেবল ধর্ম ও কর্ম। সংসারে। মানুষ কর্মের ফল পায় মাত্র। তবে একটা কথা সত্য যে মানুষ ধর্মের ফলই এই সংসার থেকে লাভ করে। তাই মানুষের কর্তব্য সর্বদা ভাল কাজ করে যাওয়া। অন্যের মঙ্গল চিন্তা করাই ভাল। অন্যের মঙ্গল কামনা করলে নিজের মঙ্গল ও শান্তিলাভ হয়। মন ঠিক রেখে ইন্দ্রিয়কে শুদ্ধি করা যায়। কর্মই মানুষকে ছােট ও বড় করে দেয়। অতএব সর্বদা ভাল কাজ করতেই হবে। খারাপ থেকে দুরে থাকলে ঘৃণা, ক্রোধ, লােভ ও মােহের ত্যাগ হয়ে যায়। যেভাবে ফুলে সৌগন্ধ, তিলে তেল, কাঠে অগ্নি, দুধে ঘি ইত্যাদি জিনিসগুলিকে বাহির থেকে দেখে বােঝা যায় না। এই সব গুনগুলিকে কেবল বিচারের দ্বারা বুঝতে পারা যায়। ঠিক এমনি ভাবে মানব শরীরে আত্মা থাকে। এই

 আত্মাকে শরীর থেকে পৃথক করে চেনা যায় না। কেবল বিচার বুদ্ধির দ্বারাই মাহাত্ম্য বুঝে নিতে হয়। মানুষের আত্মাটাই সবচেয়ে প্রধান। আত্মা যে পরমাত্মার অংশ। তাই। প্রথমে আত্মাকে চিনতে হয়। দেবতা মন্দিরে বা মাটির মধ্যে থাকে না, নিজের অন্তরকে খাটি করলে দেবতাকে পাওয়া যায়। মন আর ভক্তি শ্রদ্ধার মধ্যে দেবতা মিলে। যেমন ভাবা তেমন ফল পাওয়া যায়। খারাপ ভাবনায় খারাপ ফল আর ভাল ভাবনায় ভাল ফল।

 খারাপ মন ও অভ্যাসকে সব সময় দুরে সরিয়ে রাখতে হয়। সেই স্থানে মধুর ভাষা,দয়া-মায়া,সত্যি ও প্রেমকে নিজের সাথে সাথে রাখলে মহানন্দ লাভ হয় তাতে পরম সুখলাভ হয়ে থাকে। জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ ভালমানুষের কাছ থেকে পাওয়া যায় যার বিদ্যা ও বুদ্ধি আছে সেই সবচেয়ে ধনী মানুষ। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। এই সংসারে সব কিছুই ঈশ্বরের আয়ত্বাধীন। ঈশ্বর রাজাকে ভিখারী করে আবার ভিখারীকে রাজা করতে পারে। ঈশ্বর ব্যতিত সবই মিথ্যা। তাই সব সময় ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখতে হয়। 

যার মা লক্ষ্মীপ্রতীম এবং বাবা স্বয়ং ভগবানের সেবুক হয়। ভাই ও ভক্তিমান থাকে তার মত সুখী আর এ জগতে কেউ হয় না। সমগ্ৰ সংসারের চালক ভগবান। নিজের ভাল মন্দ ভাবার কোন প্রয়ােজন নেই। সব ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিতু

 ঈশ্বর যদি সব কিছু না দেখে তাহলে নবজাত শিশুর জন্য মায়ের পয়ােধরে দুধ আসে কি করে। এই কথাগুলি ভেবে সকাল সন্ধ্যা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা উচিত। হে ঈশ্বর তুমিই জীবন দিয়েছাে, তুমিই রক্ষা কর। মন্দ বস্তু থেকে সর্বদা। আমাকে দুরে রাখ। তুমি ব্যতিত আমার আর আপন জন কেউ নেই। তুমিই। আমার আর আমি তােমার। 

ভােজন কালে কোন কথা আলােচনা করে ভােজন করতে নেই। মৌন থেকে ভােজন করা শরীরের পক্ষে পরম উপকার। তাই চাণক্য পন্ডিত বলেছেন-ভজন, ভােজন আর রমন এইগুলি অতীব গােপন। এক বছর মৌন ভাবে ভােজন করলে জীবের অনেক কল্যান হয়। তার কোন দুঃখ থাকে না

 যে ব্রাহ্মন প্রকৃতিজাত ফল মুল খেয়ে নির্জনে থেকে ভগবানকে পূজা অর্চনা করে সেই প্রকৃত ভক্ত। যে ব্রাহ্মন কেবলমাত্র একবার ভােজন করে সন্তুষ্ট হয় এবং মাসিক ধর্ম শেষ হওয়ার পর একবার মাত্র স্ত্রী সঙ্গ করে সেই জ্ঞানী ও পবিত্র ব্রাহ্মন। তিনি দীর্ঘায়ু পান।

  যে ক্ষুধার্ত ব্রাহ্ম নকে ভােজন করান এবং ব্রাহ্মনকে দান দেন তিনি সারা জীবন ভাল ফল লাভ করেন। ঈশ্বর তার উপর বিশেষ ভাবে সন্তুষ্ট থাকেন এবং তার জন্য স্বর্গের দ্বার খােলা থাকে। যে প্রানী দান দেয় না, সাধু ব্যক্তিকে সম্মান করে না, তীর্থযাত্রা করে , কেবল অর্থের পশ্চাতে ধাবমান হয় আর মন্দ কর্মে ব্যস্ত থাকে সেই প্রানীকে মৃত বলে জানবে। যে ব্যক্তি কৃষ্ণ পূজা করে না রাধা কৃষ্ণের লীলা মাধূর্য গীত শ্রবন ও মনন করে না সে ব্যক্তির মানব জীবন বৃথা। এভাবে কেবল মাত্র আসা যাওয়া সার হয়ে থাকে। পেঁচা দিনের বেলা দেখতে পায় না তাই বলে সে যদি বলে থাকে সূৰ্য্য। নেই তাতে কার কি যায় আসে। তেমন কেউ যদি বলে ভগবান বলতে কিছু। নেই তার কথা কে মানবে। অনেক গাছে পাতা ও ফুল হয় না তাহলে কি বসন্তের দোষ হবে। চাতকের মুখে বর্ষার জল যায় না, তাতে কি বর্ষার কোন দোষ থাকতে। পারে। 

ঈশ্বর যা করবেন তাই হবে। তার অমােঘ নিয়মকে কেউ পরিবর্তন। করতে সক্ষম নয়। এ ধর্মের কাজে সব সময় প্রথম হওয়া চাই। মিষ্টিকথা বলা ও দান প্যান করা মানবের কর্তব্য। অতিথি সেবা ও শিব পূজা করা মহান ব্যক্তির লক্ষন। সাগরের জল লবণাক্ত, সূর্য কিরন প্রখর, চন্দ্রের কিরন ক্ষীন হয়। দূর্বল শরীরে কোন কাজ হয় না। কামধেনু একটি শ্রেষ্ঠ পশু। তাই ঈশ্বরের সাথে তাদের তুলনা হয় না। বাস্তবে ঈশ্বর অতুলনীয়। ভাল কাজ করলে ছোট জীবন ও মহান হয়। দীর্ঘায়ু ব্যক্তি যদি ।রাপ কাজ করে তাতে তার ফল ভাল হয় না। তার দুর্লভ জন্মটাই বৃথায়। পর্যবসিত হয়। তার বেঁচে থাকা উচিত নয়। 

প্রতিটি মানুষের আয়ু ভাগ্য, বিদ্যা, ধন আর মৃত্যু তার মায়ের গর্ভ কেই ভগবান বিচার করে দেন। মানুষ তাই ভাগ্যের দাস। প্রথম থেকে =গ্যে যা লেখা থাকে তাই হয়। পরমাত্মার জ্ঞানই প্রানীকে অন্ধকার থেকে আলােকে নিয়ে আসে। জ্ঞানই সবচেয়ে আলাের প্রকাশ। এর দ্বারা অভিমান ও শেষ হয়। অজ্ঞান হলে মানুষ মায়াজাল থেকে অনেক দূরে চলে যায়। এই প্রকার। মষ পৃথিবীর যে কোন স্থানে যে কোন ভাবে আনন্দ পেতে পারে। সখ। কখনাে নিজের ইচ্ছামত পাওয়া যায় না। এই সংসারের যাবতীয় উত্থান- পতন ঈশ্বরের হাতে। ভাগ্যে যা ফলবে তাই মেনে নিয়ে আন্দে দিনাতিপাত করা উচিত। তাতে ভগবানও সে ব্যক্তির উপর খুশী থাকেন। মানুষ যখন জ্ঞানের কথা শ্রবন করে,যখন কাউকেমারা যেতে দেখে। তখন তার মনে বৈরাগ্যের সৃষ্টি হয়। অবশ্য বৈরাগ্য কিছু সময়ের জন্য থাকে। সেই সময় টুকু মনে হয় যেন ভগবানই একমাত্র সম্বল, আর এই সংসার মায়াজাল। কোন প্রকার খারাপ কাজ করা উচিত নয়। আবার কিছু। পরে মায়াজালে পড়ে সব কথা ভুলে যায়। মানুষের জীবন, মৃত্যু ও জ্ঞানকে ভােলা উচিত নয়। জীবন তাে আলাে। ই-কারের খেলা। এ জীবনে পাপ কাজ থেকে যত দুরে থাকা যায় তত ভাল। 

পঞ্চ ইন্দ্রিয়- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা আর ত্বক। এদের সাথে। কর্মেন্দ্রিয় হাত, পা, মুখ, লিঙ্গাদি সংযম রাখা উচিত। যে মানুষ রূপ, রস, অভিমান, স্পর্শ- এগুলি বিজয় করেছে সেই মানুষ মহান। কমের দ্বারা সংসারকে বশে আনা কোন ব্যাপার নয়। যে মানুষ কাম, ক্রোধ, লােভ, মােহ,অহংকারের হাতে খেলনা হয়ে যায়। তার আর কোন জ্ঞান থাকে না। তিনি গাে হত্যার মত মহাপাপী । এ সংসারে কেউ চির জীবন থাকে না। কেন যে মানুষ ভাবে না যে একদিন আমাকে মৃত্যুর কবলে ঢলে পড়তে হবে। এসব ভুলে গেলে চলবে না। কখনাে খারাপ কাজ না করে ভানী ভদ্র বা ভালাে মানুষের সাথে মেশা উচিত। ভগবানকে কখনাে ভােলা উচিত নয়। যত পূণ্য কাজ করবে। ততটা জীবনে সুখ পাওয়া যায়। যে মানুষ জীবকে দয়া করে আর ভগবানের কথা-শাস্ত্রের কথা বলে। বেড়ায় সে বড় সাধু। মানব জীবনে তার কোন অসুবিধায় পড়তে হয় না। 

যে ময়লা বস্ত্র পরিধান করে, দন্ত পরিষ্কার রাখে না, বেশী ভােজন। করে, আদৌ ঠাকুরের নাম করে না, সূর্যের উদয়-অস্তের সময় নিদ্রা যায়, তারকাছ থেকে লক্ষ্মী চলে যায়। ভজ্ঞানশাস্ত্র সবচেয়ে বড় শাস্ত্র। বিদ্যার কোন সীমা নেই। এই অনিত্য ও সীমিত জীবনে বহু বাধা। আছে। তাই মানুষের উচিত জ্ঞানকে নিজের মধ্যে হজম করে নেওয়া। 

এমন অনেক মানুষ আছে যারা বড় বড় ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে ও জ্ঞান আহরন করতে পারে না। যেমন অনেকে সুস্বাদু রান্না আহার করে ও তারস্বাদ বুঝতে অক্ষম। ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে যদি জ্ঞান অ ই করতে পারা। যায় তাতে লাভ আছে। _ যে মানুষ সারা জীবন ভাল কাজ করে কাম, ক্রোধ, লোভ মােহাদি। ত্যাগ করতে পেরেছে সে ব্যক্তি সর্বদা মুক্তিপ্রাপ্ত, মরার পর সেই অবশ্য। স্বর্গলাভ করবে। মানুষকে ধর্মকর্ম করতে হবে। তা না হলে কোনদিন তার মুক্তি নেই।

Post a Comment

0 Comments