Clever fox - Story For Students


চালাক শেয়াল

কাল থেকেই বেজায় মেজাজ খারাপ সিংহমশাইয়ের। ঘুম ভেঙে উঠে সবে একটা মস্ত হাই তুলেছে কি তােলেনি, অমনি পাশ থেকে তার চেলা খোঁড়া নেকড়েটা বলে উঠল, আপনার নিশ্বাসে বেজায় দুর্গন্ধ, মহারাজ।

  ব্যস আর যায় কোথায়! সিংহ তাে অমনি খেপে-টেপে অস্থির! সাত সকালে অমন নিন্দে-মন্দ শুনলে কারই বা মেজাজ ঠিক থাকে! হাই তােলা-টোলা সব চুলােয় গেল, সিংহ তেড়ে গর্জন করে উঠল, কী! আমার নিশ্বাসে দুর্গন্ধ! বলতে তােমার আটকাল না! সাহস তাে কম নয় তােমার! নেকড়েটা কাচুমাচু মুখে বলল, আজ্ঞে, কী করব, মহারাজ! গন্ধটা এখনও পাচ্ছি যে।

অসম্ভব! বাজে কথা! মিথ্যে কথা! হতেই পারে না! চারপায়ে লাফাতে। লাফাতে সিংহ বলল, আমি বনের রাজা। আমার নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে কখনও?

কেন হবে না, মহারাজ! নেকড়েটা সরল মুখে বলতে লাগল, রােজ রােজ। গাদা গাদা কঁচা মাংস খান। মুখ-টুক কখনও ধােন না। বাসি মুখে দুর্গন্ধ তাে হবেই। তবে রে! রাগে অপমানে সিংহ গরগর করতে লাগল। ইচ্ছে করছিল, একখুনি নেকড়ের ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে। ওর মুণ্ডুটা কচকচ করে চিবিয়ে খায়। নিন্দে করার ফলটা ভালাে করে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু অনেক কষ্টে রাগটা সামলাল সিংহমশাই। নেকড়েটা তার অনেকদিনের চেলা। সারাক্ষণ তার সঙ্গে। সঙ্গে ঘােরে। সবসময় তার সেবা করে। ও ১না থাকলে বেজায় মুশকিল হবে যে! বাজে কথা ছাড়াে তাে! নেকড়েকে এক দাবড়ানি দিয়ে সিংহ বলল, তােমার নাকটাই। খারাপ। নেকড়ে তবু ছাড়ে না! জোরে জোরে নিজের নাক টানতে টানতে বলে, , মহারাজ, আমার নাক খুব পরিষ্কার। এখনও গন্ধটা পাচ্ছি আমি। আমার কথা বিশ্বাস না হয়, বনের যে-কোনও পশুকে আপনি জিজ্ঞেস করুন।

 বলে কী নেকড়েটা! সত্যি তার নিশ্বাসে দুর্গন্ধ? পরীক্ষা করার জন্য সিংহ নিজেই কয়েকবার মুখ হাঁ করে জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলল। কই, কোনও দুর্গন্ধ সে টের পাচ্ছে না তাে! ধুস, যত্তো সব বাজে কথা! 

এমন সময় একটা বুনাে ভেড়া যাচ্ছিল দূর দিয়ে। তাকে দেখতে পেয়ে সিংহ হাঁক পাড়ল, অ্যাই—একটু শুনে যা তাে এদিকে। ডাক শুনে তাে ভয়ে ভেড়ার প্রাণ উড়ে যাবার জোগাড়। আজ হয়ে গেল তার দফারফা। সিংহের আদেশ পালন করবে, না প্রাণ নিয়ে সে ছুটে পালাবে—বুঝতে না পেরে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ভেড়াটা। যেন কাঠের পুতুল। সিংহ এবার গর্জন করে উঠল, আয় বলছি এদিকে। আর উপায় নেই। গুটিগুটি ভেড়াটা হাজির হল সিংহের সামনে মস্ত একটা হাঁ করে জোরসে একটা যাবার জোগাড়। আজ হয় নিশ্বাস ছাড়ল সিংহ। জিজ্ঞেস করল, বল তাে, আমার নিশ্বাসে কি খুব দুর্গন্ধ?

ভেড়া বেচারা নেহাত সরল সাদাসিদে গােছের। তার মাথায় তেমন ঘােরপ্যাচ খেলে না। সিংহমশাই নিজে তাকে ডেকে তার মতামত জানতে চাইছেন, এ তাে তার কাছে গর্বের কথা। কিছু না বুঝে সে বলে উঠল, হ্যা রাজামশাই, আপনার নিশ্বাসে খুব দুর্গন্ধ। তবে রে হতচ্ছাড়া! যত বড়াে মুখ নয়, তত বড়াে কথা! খেপে গিয়ে সিংহ অমনি এক কামড়ে ভেড়ার মুণ্ডু ছিড়ে ফেলল।

 নেকড়েটা বলল, দেখলেন তাে, আমি ভুল বলিনি। এক ধমকে সিংহ তাকে থামিয়ে বলল, থামাে থামাে। ওই বােকালােকা ভেড়াটা বােঝে কী! আর একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করা যাক। ডাকো তাে ওই দামড়া মােষটাকে। 

সিংহের ডাক পেয়ে মােযটা তাে থরথর করে কাঁপতে লাগল। সিংহ বলল, নির্ভয়ে তুমি একটা কথার উত্তর দাও তাে। এরা বলছে, আমার নিশ্বাসে নাকি খুব দুর্গন্ধ। তােমার কি তাই মনে হয়? আবার হাঁ করে সজোরে একটা নিশ্বাস ছাড়ল সিংহ। সামনে মরা ভেড়াটা পড়ে থাকতে দেখে মােষের আর বুঝতে কিছু বাকি রইল না। বাঁচতে হলে সিংহের মনখুশি-করা একটা উত্তর তাকে দিতে হবে। উপর দিকে মুখ তুলে কয়েকবার হাওয়া শুকল মােষটা। তারপর বলল, কই না। ততা। আপনার নিশ্বাসে মিষ্টি ফুলের গন্ধ ভুরভুর করছে একেবারে।

 কী! মিষ্টি ফুলের গন্ধ! ব্যাটা ডাহা মিথুক কোথাকার! খােশামুদি করার আর জায়গা পাস না! বলেই সিংহ একলাফে ঝাপিয়ে পড়ল মােষটার ঘাড়ে। সিংহকে খুশি করতে গিয়ে প্রাণটা গেল বেচারার। 

কাণ্ড দেখে নেকড়েটাও এবার ভয় পেয়ে গেছে। কী জানি, কী করে এবার 

সিংহ। যা খেপে গেছে এখন! 

খানিকটা দম নিয়ে সিংহ বলল, ডাকো দেখি আর একজনকে। সে কী বলে, শুনি।

অনেক খুঁজে পেতে নেকড়ে এবার ধরে আনল এক শেয়ালকে। হাঁ করে নিশ্বাস ফেলে সিংহমশাইয়ের সেই এক প্রশ্ন, বলাে তাে আমার নিশ্বাসে কি খুব দুর্গন্ধ? ঠিক ঠিক বলবে কিন্তু। শেয়াল দারুণ চালাক। ভেড়া আর মােষের অবস্থা দেখে তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। বেশ কয়েকবার জোরে জোরে নাক টানল সে। তারপর খুব কেশে-টেসে মাথা-টাথা চুলকে বলল, আজ্ঞে মহারাজ, কয়েকদিন ধরে আমার 

বেজায় সর্দি লেগেছে। নাকে কোনও গন্ধই টের পাচ্ছি না।

Post a Comment

0 Comments