Donkey Scandal - A motivational story

গাধার কাণ্ড 

গাধা আর কাকে বলে! বনের ভেতর তাে কত জানােয়ারই ছিল। ঘােড়া, মােষ, হরিণ, শেয়াল, রামছাগল, এমনকি ভালুক-ভায়া পর্যন্ত। কারুর সঙ্গে সে আর। ভাব জমাতে পারল না, গেল কিনা শেষমেশ সিংহের সঙ্গে ভাব জমাতে! সিংহ ভাবল, ভালােই হল। একা একা শিকার করার অনেক পরিশ্রম, অনেক ঝামেলা। সঙ্গে কেউ একটা থাকলে তাে সুবিধেই হয়। বােকা গাধাটাকে পাওয়া গেছে যখন, ওর সঙ্গে ভাব করলে মন্দ হয় না। দু-দশটা মিষ্টি কথা বলে, ওপর ওপর ভাব পাতিয়ে, চাকরের মতাে দিব্যি খাটিয়ে নেওয়া যাবে। ভাব! ভাব!! ভাব!!! সিংহ অমনি ভাব জমিয়ে ফেলল গাধার সঙ্গে। গাধার তখন ফুর্তি দেখে কে! ফুর্তির চোটে তার লেজ মােটা হয়ে উঠল। 

গাধার মুখােমুখি বসে অনেকক্ষণ গল্প করল সিংহ। অনেক সুখ-দুঃখের কথা। বলল। শেষকালে আড়মােড়া ভেঙে বলল, চল ভাই, এবার শিকার ধরতে যাই। বসে বসে শুধু গল্প করলে তাে আর পেট ভরবে না। 

তা তাে বটেই। গাধাও তাে তাই চাইছিল। সারা জীবন শুধু ঘাস-পাতা খেয়ে। খেয়ে জীবন কাটল। মুখে-পেটে চড়া পড়ে গেল। সিংহের সঙ্গে থেকে আজ একটু মুখ বদল করা যাবে। একটু ভালাে-মন্দ পেটে পড়বে। চারপায়ে অমনি সে খাড়া হয়ে উঠল। লেজ নাড়তে নাড়তে বলল, হ্যাঁ, চলুন শিকারে যাই। বেশ খিদে খিদে পাচ্ছে মনে হচ্ছে। 

সিংহ আর গাধা চলল শিকার ধরতে। লম্বা লম্বা পা ফেলে আগে আগে চলেছে গাধা। নিজেকে তার এখন মস্ত বীর মনে হচ্ছে। নেহাত গাধা গাধা লাগছে না। 'বনের ভেতর ঢুকে শুরু হল তাদের শিকার ধরা। সিংহের যেমন মস্ত মস্ত থাবা, তেমনি তার গায়ের জোর। এক এক লাফে ঝাপিয়ে পড়ছে এক একটা জন্তুর ওপর। এক থাবা মেরে সাবাড় করছে এক একটাকে। দেখতে দেখতে একরাশ শিকার করে ফেলল সিংহ। হরিণ থেকে শুরু করে, পুঁচকে খরগােস পর্যন্ত। কারুর রক্ষে রইল। ।

গাধাও কম যায় না এদিকে। তার গায়েও কম জোর নাকি। সিংহ মারছে এক একটাকে। আর গাধা সেগুলাে টেনে টেনে জড়াে করছে এক জায়গায়। পেট ভরে জোর একটা ভােজ হবে আজ। সেই আনন্দে যেন গায়ের জোর আরও বেড়ে গেছে গাধার।

তারপর একসময় শিকার তাে শেষ হল। এবার ভােজের পালা। গাধা বেশ জমিয়ে বসতে গেল ভােজ খাবে বলে। সিংহ বলল, রােসাে। আগে ঠিকমতাে ভাগ করে ফেলি। তারপর নিশ্চিন্তে বসে খাওয়া যাবে। 

বেশ তাে। হােক না ভাগ। গাধার তাতে কোনও আপত্তি নেই। সিংহ না হয় একটু 

বেশি নেবে। তা নিক গে। তারপরেও যা থাকবে, গাধার পক্ষে তাই ঢের! 

সিংহ এবার খাবার ভাগ করতে বসল। গাধা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল। দেখতে দেখতে সমস্ত খাবার সমান তিনটে ভাগে ভাগ করল সিংহ। গাধা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, তিন ভাগ কেন? আমরা তাে দু-জন। 

সিংহ বলল, বুঝিয়ে দিচ্ছি। আমি হলাম গিয়ে বনের রাজা। রাজা হিসেবে এই এক ভাগ আমার পাওনা। কেমন, বুঝলে তাে? গাধা চুপচাপ ঘাড় নেড়ে বলল, বুঝেছি। এবার এই দ্বিতীয় ভাগটা! সিংহ বলল, এটা শিকার করার মজুরি হিসেবে আমারই পাওয়া উচিত। তাই না? 

তা তাে বটেই! গাধা ঘাড় নেড়ে যায় দিল। তারপর বলল, বাকি ভাগটা তাহলে আমার।

 সিংহ এবার মুখ ফোলাল। কেশর ফোলাল। গম্ভীর গলায় বলল, হিসেব মতাে ওটা তােমার ভাগেই পড়ার কথা। তবে সবসময় তাে আর সরল হিসেবে কাজ চলে না। এখন তুমি যদি ওই তিন নম্বর ভাগটা আমাকে ছেড়ে না দাও, তাহলে তােমাকে বাপু বেজায় ফ্যাসাদে পড়তে হবে। ভালাে করে ভেবে বলাে, ওটা এখন আমাকে ছেড়ে দেবে কি না? 

না ছেড়ে আর উপায় আছে? নইলে তাে বােধহয় প্রাণটাই যাবে সিংহের। হাতে! 

গাধা তখন আর কী করে! ভােজের আশা ছেড়ে খালি পেটে সে গুটিসুটি ফিরে এল! ঘাসপাতা-ই তার ঢের ভালাে। মরতে কেন যে সিংহের সঙ্গে ভাব জমাতে গিয়েছিল! শুধু খাটুনিই সার!

Post a Comment

0 Comments