Golden Egg - A motivational story


সােনার ডিম

লােকটা ভারী গরিব। বউ ছেলেপুলে নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটায়। কোনও দিন পেট পুরে দুটো খেতে পায়, কোনও দিন পায় না। মনের দুঃখে।

ঠাকুরকে ডাকে লােকটা। বলে, আমাদের দুঃখ দূর করে দাও, ঠাকুর। আর যে। পারি না।

 ঠাকুর তার মনের কথা শুনলেন। স্বপ্নে একদিন দেখা দিয়ে বললেন, তাের। দুঃখ এবার দূর হবে। কাল সকালে তুই একটা হাঁস দেখতে পাবি। তাকে যত্ন করে পুষিস। তাের আর কোনও কষ্ট থাকবে না।

 সকালে ঘুম থেকে উঠে লােকটা দেখল, তার পুকুরে সাদা একটা হাঁসের ছানা ভেসে বেড়াচ্ছে। ঠাকুর তাহলে সত্যি তাকে দয়া করেছেন। লােকটার আর আনন্দ ধরে না। সে বউকে বলল, আর আমাদের ভাবনা নেই। এই হাঁসের ডিম বেচে দিব্যি সংসার চলে যাবে আমাদের। . সারা সকাল ধরে হাঁসের জন্য একটা সুন্দর খোঁয়াড় বানাল লােকটা। সারাদিন হাঁসটা পুকুরে চরবে। রাত্রে খোয়াড়ে থাকবে। রােজ সকালে ডিম দেবে একটা করে। আর কোনও চিন্তা থাকবে না।

তবে হাঁসটা বেশ বাচ্চা এখনও। ডিম পাড়ার সময় হয়নি। পুকুরে জলে। সারাদিন ভেসে বেড়ায়। বাচ্চাদের পেছন পেছন ঘুরে বেড়ায়। যেন বাড়ির আর একটা বাচ্চা। বেশ লাগে দেখতে।

ভােরবেলা খোয়াড় থেকে বার করার সময় লােকটার বউ রােজ উকি মারে ভেতরে। ডিম পাড়ল নাকি হাঁসটা? ওর যেন আর তর সইছে না। লােকটা বলে, পাড়বে, পাড়বে। অপেক্ষা কর আর কয়েকটা দিন।

 শেষকালে একদিন ঘটল সেই ঘটনাটা। ভােরবেলা হাঁসটাকে বার করতে গিয়ে খোঁয়াড়ের ভেতরে উকি মারল বউ। ও মা, ওটা কী? ডিমের মতাে কী একটা চকচক করছে যেন। এতদিনে ডিম পেড়েছে তাহলে। খুশি হয়ে বউ হাত গলিয়ে ডিমটা বার করে আনল। বাইরে এনে সে তাে অবাক! এ আবার কেমন ডিম! বেজায় ভারি ঠেকছে ডিমটা। আর রােদ লেগে সােনার মতাে ঝকমক করছে। এমন ডিম আবার হয় না কি! বউয়ের ডাকাডাকিতে লােকটা ছুটে এল। ডিমটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখল অনেকক্ষণ। বউকে বলল, বেশি চেঁচামেচি কোরাে না। আমার মনে হয়, এটা সাধারণ হাঁসের ডিম নয়, খাঁটি সােনার ডিম। সত্যিই তাই। শহরে গিয়ে সােনার দোকানে দেখাতেই দোকানদার বলল, কোথায় পেলে তুমি । এই সােনার ডিম? এর তাে অনেক দাম। লােকটা আর কিছু ভাঙল না। সেই ডিম বেচে সে অনেকগুলাে টাকা পেল। প্রচুর হাটবাজার করে বাড়ি ফিরল। কী আনন্দ তখন তাদের সকলের! এখন আর তাদের খাওয়া-পরার অভাব নেই। হাঁসটা রােজ একটা করে ডিম দেয়। সেই ডিম বেচে লােকটা টাকা আনে। ঘরে। দেখতে দেখতে তাদের অনেক টাকা । হল। জমিজমা হল। পাকা বাড়ি হল। খাবার-দাবার জামা- কাপড় কোনও কিছুরই অভাব রইল না।

 দিনে দিনে বড়াে-লােক হয়ে উঠতে লাগল তারা।

হাঁসটা ভারী লক্ষ্মীমন্ত। লােকটা হাঁসের খুব যত্ন করে। তার খোঁয়াড় পরিষ্কার। করে। তার জন্য ভালাে ভালাে খাবার এনে দেয়। ছেলেমেয়েরা হাঁসটাকে আদর করে। তাকে পাহারা দেয়, যাতে শেয়াল-টেয়ালে আবার না মেরে ফেলে। লােকটার বউ কিন্তু খুশি নয়। সে মাঝে মাঝে বলে, হাঁসটা বড়াে বেয়াড়া, বাপু। মাত্র একটা করে ডিম দেয়। দুটো-তিনটে করে ডিম দিলে কত ভালাে হয়! আমরা আরও তাড়াতাড়ি কত বড়ােলােক হয়ে যেতাম!

লােকটা বলে, দেবে দেবে। সেজন্যেই তাে এত ভালাে ভালাে খাবার খাওয়াচ্ছি ওকে। একটু সবুর করাে।

কিন্তু কদ্দিন আর সবুর করা যাবে? রােজ রােজই তাে সেই একটা করে ডিম। বাঁধা বরাদ্দ একেবারে। বউয়ের আর ধৈর্য থাকে না। কবে তাদের আরও অনেক টাকা হবে! অনেক গয়নাগাঁটি হবে! বাড়িটা দোতলা-তিনতলা হবে! 

বউটা সেই চিন্তায় দিনরাত ছটফট করতে থাকে। স্বামীকে তাগাদা দেয়, কই বেশি ডিম দিচ্ছে না তাে হাঁসটা! লােকটা বলে, না দিলে আমি কী করব? বউ তখন বুদ্ধি দিল, তুমি একটা কাজ করতে পারাে। হাঁসটার পেটে নিশ্চয়ই অনেক সােনার ডিম আছে। হাঁসের পেট চিরে সবগুলাে ডিম একসঙ্গে বার করে নিতে পারাে। তাহলে আর রােজ রােজ অপেক্ষা করতে হয় না। আমরা তাহলে তাড়াতাড়ি বড়ােলােক হতে যেতে পারি।

বুদ্ধিটা তাে মন্দ নয়। বউয়ের কথাটা বেশ মনে ধরল লােকটার। লােভে তার চোখদুটে চকচক করে উঠল। তা হলে আর দেরি করে লাভ কী! হাঁসটাকে অমনি। খোয়াড় থেকে বের করে আনল লােকটা। তারপর ধারালাে একটা ছুরি দিয়ে হাঁসের পেটটা চিরে ফেলল। কিন্তু কই, কোথায় অনেক সােনার ডিম। একটাও ডিম নেই তাে হাঁসের পেটে! লােভে পড়ে কী ভুলটাই না করল সে! রােজ যা হােক, একটা করে পাওয়া যেত সােনার ডিম। তা-ও হারাতে হল। এখন শুধু কপাল চাপড়ানাে ছাড়া আর কিছু করার রইল না।

Post a Comment

0 Comments