The Key of the Success - Success Tips for life


ব্যর্থতাকে ভুলে সাফল্যকে আপনার সঙ্গী করুন।

 আপনি কি এই জটিল পৃথিবীর নানান রকম প্রতিযােগিতায় বার বার হেরে যাচ্ছেন? আপনার প্রতিটা পদক্ষেপই কি ভুল প্রমাণিত হচ্ছে? হারতে হারতে কি আপনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ? তাই আজ আপনার সম্বল শুধু হতাশা আর কান্না। যারা এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে তাদেরকে দেখে আপনি নিশ্চয়ই দুঃখ করেন ? ভাবেন যে ওরা বােধহয় কোন যাদুকাঠির জোরেই এগিয়ে চলেছে। আমি বলি, না ওদের কাছে কোন যাদুকাঠি নেই, ওরা আমার আপনার মতােই সাধারণ মানুষ কিন্তু ওরা যে কাজটা করেছে সেটাকে ভালভাবে বুঝে নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে করছে। আপনিও হয়তাে ওদের চেয়ে প্রতিভাবান তাই আপনিও অনেক আশা করেন, আশাগুলােকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেন তবুও আপনার বেশিরভাগ আশা নিরাশায় পর্যবসিত হয়। আপনিও ওদের মতাে আপনার আশার গন্তব্যস্থলে পৌছতে চান আর সেই আশায় প্রাণপণ দৌড়ান কিন্তু পৌছতে পারেন না সঠিক জায়গায় কারণ আপনি জানেন না যে কোন পথে গেলে আপনি পৌছতে পারবেন সঠিক গন্তব্যস্থলে। যদিও মানুষের আশাকে গন্তব্যস্থল বলা ভুল হবে কারণ গন্তব্যস্থলে পৌছনাের পর মানুষ বিশ্রাম নেয়, কিন্তু আমাদের আশার কোন শেষ হয় না। আমাদের একটা আশা পূরণ হলেই মনের মধ্যে জন্ম নেয় আর একটা আশা। আমাদের সব আশাকেই পূরণ করতে হবে কিন্তু কিভাবে? শুধু ছুটলেই হবে না ছুটতে হবে একটা নিয়ম মেনে। সব কিছুরই শেষ আছে, আর সব কিছুর শেষেই আছে আনন্দ অথবা দুঃখ। বেশির ভাগ মানুষই সুখ চায় কিন্তু তা পায় খুব কম জন। বেশির ভাগ মানুষেরই আশা নিরাশায় পর্যবসিত হয়। এ প্রসঙ্গে কবি সুভাষ মুখােপাধ্যায়ের একটা কথা খুব মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন—“জীবনে কিছুই কিছু নয় যদি কৃতকার্য না হলে আমরা আমাদের মনে যে আশা নিয়ে এগিয়ে চলি নানান কষ্ট সহ্য করি সে আশা যদি পূরণ না হয় তাহলে সব কষ্টই কিন্তু বৃথা। ইঞ্জিনবিহীন যে রেলগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে তাকে কেউ রেলগাড়ি বলে না, বলে রেলগাড়ির বগি কিন্তু সেটা যখন ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত হয়ে। ছুটতে থাকে তখন সবাই তাকে বলে রেলগাড়ি। সেই রকম আমাদেরও দাঁড়িয়ে থাকার নাম জীবন নয়, জীবন মানে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া। তাই বলি আর হার নয় এবার থেকে জেতার পালা। আসুন এগিয়ে যাই জয়ের সন্ধানে। 

সফলতা কাকে বলে।  

আমরা সবাই আমাদের আশার গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে চাই, মানে জিততে চাই, মানে সফলতা চাই, তাই প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে সফলতা কি বা সফলতা কাকে বলে।

 সফলতা এরকম কোন নির্দিষ্ট বস্তু নয় যে আমরা তা একবার অর্জন। করলেই সারাজীবন সে আমাদের কাছে থাকবে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে পারার নামই সফলতা। যার যা লক্ষ্য তার কাছে। সেটাই তার সফলতা। সফলতা ঠিক তরল পানীয়ের মতাে, কোন জলকে যেমন যে পাত্রে রাখা যায় তা সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। সফলতাও ঠিক সেই রকম তাকে যে যেভাবে চায় সে তার কাছে সেইভাবেই ধরা দেয়। নানান রকম মানুষের আশা নানান রকমের হয়। কেউ চায় অর্থ, কেউ চায় নাম যশ খ্যাতি, কেউ চায় একটু সুখ। সেই রকমই যে যার আশাকে পূর্ণ করতে পারার নামই সফলতা।

 মানুষ সফল হতে না পারলেই তার দুঃখ বাড়ে তাই আমরা এখন জানবাে সফল হতে গেলে আমাদের কিসের প্রয়ােজন। ।

সহযােগীতা। 

একজন মানুষ আর একজন মানুষকে প্রেরণা জুগিয়ে সহযােগীতা করতে পারে। প্রেরণা ভয় থেকেও আসতে পারে আবার ভালবাসা থেকেও আসতে পারে। যেমন একটি ছেলে পড়াশুনা না করলে তার বাবা-মা তাকে মারবে এই ভয়েও সে পড়ার প্রেরণা পেতে পারে আবার সে। ভালভাবে পড়াশুনা না করলে তার মা-বাবার মাথা নীচু হবে এই ভালবাসার জোরেও তার পড়াশুনার প্রেরণা আসতে পারে। আবার কোন প্রেমিকা হয়তাে তার প্রেমিককে বললাে তুমি কাজ করে অনেক টাকা রােজগার না করলে তােমায় বিবাহ করবাে না তখন প্রেমিকাকে হারানাের ভয়ে প্রেমিকের মনে কর্ম প্রেরণা আসতে পারে। আবার একজন প্রেমিক তার প্রেমিকাকে প্রকৃত সুখি করার জন্য একমাত্র ভালবাসার টানেই তার কর্ম প্রেরণা আসতে পারে। ।

সহযােগীতা হারানাের কারণ কী। 

 আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি সহযােগীতা করে আমাদের মন তাই সব সময় মনকে ঠিক রাখতে হবে। কোন কোন সময় কেউ আমাদের সমালােচনা করলে আমরা প্রেরণা হারিয়ে ফেলি, কোন কাজে ব্যর্থ হলে আমরা প্রেরণা হারিয়ে ফেলি, বারবার আমরা যদি আমাদের কর্ম বদল করি তাহলেও আমাদের প্রেরণা হারিয়ে যায়। 

প্রেরণা ধরে রাখার উপায় 

 আমরা যদি আমাদের মনকে ঠিক রাখি তাহলে প্রেরণাও আমাদের সঙ্গে থাকে। তাই আমাদের উচিত সমালােচনা থেকে কিছু শেখার অভ্যাস করা। সত্যিকারের সমালােচকরাই কিন্তু আমাদের ভুলত্রুটিগুলাে আমাদেরকে ধরিয়ে দেয় তাই সে ক্ষেত্রে রেগে না গিয়ে সেই ভুলগুলাে শুধরে নেওয়াই আমাদের কর্তব্য। 

কোন কাজে ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়া চলবে না, মনে রাখতে হবে ব্যর্থতা কিন্তু শেষ কথা নয়। ব্যর্থতা মানে অবরােধ মাত্র, তা বেশিদিন থাকে না। 

আমাদের উচিত আমরা এখন যে কাজ করছি মন দিয়েই আমাদেরকে সেই কাজ করতে হবে, কোনদিনই ভাবলে হবে না যে আমি এ পথে উন্নতি করতে পারবাে না। একদিন হয়তাে আপনিও আপনার মালিকের মতাে জায়গায় যেতে পারেন। তাই একই জায়গায় মন দিয়ে কাজ করে যান মনে উন্নতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে। 

শ্রদ্ধাশীলতা 

 আমরা যদি সফল হতে চাই তাহলে আমাদেরকে প্রথমেই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমরা যদি শ্রদ্ধাশীল হই তাহলে আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় হবে। মন দায়িত্ব গ্রহণে সাহায্য করলে মনের মধ্যে আমার বােধের জন্ম হবে। নতুন সুযােগ গ্রহণের মানসিকতা তৈরী হবে। কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার সাহস জন্মাবে, কাজ করতে ইচ্ছা জাগবে, কাজে ঝুঁকি নিতে ভয় করবে না। কিন্তু আমরা যদি অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হই তাহলে কাজে প্রেরণা আসবে না আর সেই জন্যই বার বার কাজে ভুল করবাে। আর সেই দোষ অপরের ঘাড়ে চাপানাের ব্যবস্থা করবাে। তাই পরে পরে আর আমরা দায়িত্ব নিতেই চাইব না। নানান অজুহাত দেখিয়ে সরে যেতে চাইবাে আর এইভাবে চলতে থাকলে আমরা কোনদিনই সফলতার চূড়ায় পৌছতে পারবাে না কিন্তু আমরা তা চাই না তাই আমাদেরকে সব সময়। চেষ্টা করতে হবে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার। 

কথা রাখতে হবে।  

একটা কথা আছে যে কথা দিলে মাথা দিতে হবে। কাউকে শুধু কথার কথা দিলে হবে না। কথা দিলে কথা রাখতে হবে। তাহলে বিশ্বাসযােগ্যতা। বাড়বে এবং সফলতার পথ সুগম হবে। 

লেনদেন করতে হবে  

একজনকে সাহায্য করলেই তবে তার থেকে কোন সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। সফলতার জন্য সাহায্য খুবই জরুরী তাই সকলকে ভালবাসতে হবে সকলের ভালবাসাই তােমায় সাফল্যের শিখরে উঠতে সাহায্য করবে। 

সফল ব্যক্তির কি কি গুণ থাকা দরকার।  

আশাবাদী হতে হবে। নিজের বিশ্বাসে অবিচল থাকতে হবে। বােঝার ক্ষমতা গ্রহণ করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণ করার সাহস দেখাতে হবে। অন্তরের প্রেরণাকে জাগ্রত রাখতে হবে। সমস্যা হলে সকলের সাথে আলােচনা করতে হবে। সকলকে সম্মান করতে হবে। অপরকে সাহায্য করার মানসিকতা রাখতে হবে। ।

নিজেকে হাজির করবেন কিভাবে।  

সব সময় সকলের কাছে নিজের সম্বন্ধে বড়াই করার কোন মানে হয় । নিজের কাজ দিয়েই সকলের কাছে নিজেকে হাজির করতে হবে। তােমার কাজই প্রমাণ করবে তােমার গুণাবলী। ।

নিজের মনকে সুখি করতে হবে 

আমরা যদি নিজের মনকে সুখি করতে পারি তাহলেই আমরা সকলকে সুখি করতে পারবাে। আর যদি আমরা সকলকে সুখি করতে পারি তাহলে আমাদের মনে যে আনন্দের সৃষ্টি হবে সেই আনন্দই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 

কি করা উচিত নয় 

আমাদের এমন কিছু ভাবা উচিত নয় যা আমাদেরকে পিছন দিকে। টেনে নিয়ে যাবে। যেমন আমার বুদ্ধি নেই, আমার পক্ষে খেলাধূলা হবে , আমি ক্লান্ত বা আমি পারব না। এইরকম ভাব যদি মনের মধ্যে জন্মায় তাহলে আমাদের চলার পথে বিরাট প্রাচীরের সৃষ্টি হবে। আমরা আর এগিয়ে যেতে পারব না। তাই এই রকম ভাবনাকে মন থেকে দূরে সরাতে হবে। 

ব্যর্থ হলে কি করবেন 

মানুষ একবার ব্যর্থ হলেই মনে করে তার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয় তখন তার মনের মধ্যে ব্যর্থতা ভর করে বসে। অর মনের মধ্যে কেউ ব্যর্থতার ছবি পুষে রেখে কোন কাজেই সফল হতে পারে না। 

ব্যর্থতাকে দূরে সরাবেন কি করে । 

আমরা যখন কোন বড় কাজে ব্যর্থ হই তখনই আমরা মনে মনে নিরাশ হয়ে পড়ি কিন্তু এই ব্যর্থতা থেকে মনকে সফলতায় ফিরিয়ে আনার একটা সহজ উপায় আছে। যখন তুমি ব্যর্থ হবে তখনই এমন কোন সহজ কাজে ঝাপিয়ে পড় যেখানে তুমি সফল হবেই। আর সেই ছােট্ট সফলতাই তাহলে তােমার মন থেকে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিতে পারবে।

 স্বাধীন হতে হবে সফলতা অর্জন করতে হলে নিজেকে স্বাধীন হতে হবে। নিজের মনের ইচ্ছায় কাজ করতে হবে তা না হলে মন চাইবে এক কাজ আর আপনি করবেন অন্য কাজ তাহলে কিন্তু সফলতা আসবে না। মনের সঙ্গে। কাজের স্বাধীনভাবে মেলবন্ধন ঘটাতে হবে তাহলেই সফল হওয়া যাবে।

  মন যা চায় তাই করাে আগেই বলেছি মন যা চায় তা না করে অন্য কাজ করলে সুখও পাওয়া যায় না আর সফলতাও আসে না, তাই বলে যদি আপনার মন। চায় ডাকাতি করতে তাহলে নিশ্চয়ই আপনার তা করা উচিত নয় কারণ। সকলের ভাল না করলে নিজের ভাল হবে না। ।

কি করা উচিত। 

আমাদের মন সব সময় নানান কথা বলে তাই সব সময় মনের কথায় আমাদের কাজ করা উচিত নয়। আমাদেরকে বিবেচনা করতে। হবে কি করা উচিত কি করলে সফলতা আসবে সেটাই আমাদের করা। উচিত। . উদ্দীপনা ও বাধা প্রত্যেক মানুষের জীবনেই বাধা আসে তাই বাধাকে ভয় করলে চলবে । উদ্দীপনা রাখতে হবে যে যত বাধাই আসুক আমি এগিয়ে চলবই তাহলেই আমরা সফল হতে পারবাে। 

দায় ভার গ্রহণ   

আমাদের দায়িত্ব আছে আমাদের নিজের প্রতি পরিবারের প্রতি কাজের প্রতি তাই কোন জায়গাতেই অসফল হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। বার বার চেষ্টা করতে হবে সফলতার জন্য। 

শিক্ষা গ্রহণ আমরা হয়তাে অনেক কষ্টে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছলাম কিন্তু সেখানে আমরা আমাদের আশার জিনিসটা পেলাম না কিন্তু সে জন্য ভেঙে পড়লে চলবে না। দেখতে হবে আমরা আমাদের আশার জিনিসটা পাইনি ঠিকই কিন্তু শিখেছি অনেক কিছু। 

কেউ যদি খারাপ কিছু বলে কেউ যদি তােমায় খারাপ কিছু বলে তাহলে তুমি রেগে না গিয়ে সেই কথাগুলাে ভাবাে, তােমার সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে তা কি সত্যি। যদি সত্যি হয় তা শুধরে নেওয়ার ব্যবস্থা করাে। আর যদি তা মিথ্যা হয়। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলার ব্যবস্থা করবে।

 মনে মনে ভাবুন আমি এই কাজটি করতে পারবাে। আমার যথাযথ ক্ষমতা আছে। কেউ আমার সম্বন্ধে খারাপ কিছু বললে কান দেব না। আমি সব সময় সকলের ভাল করবাে। নিজের উন্নতির জন্য সদা সচেষ্ট থাকবাে। সব সময় এই রকম কথা ভাবলে কাজে মন লাগবে।

Post a Comment

0 Comments