10 best tips for achieving anything you want in life.


আপনার সাফল্য কি? জীবনে সফল হতে হয় কীভাবে?

 কারও কারও কাছে, যখন তারা সাফল্যের কথা চিন্তা করে, তখন তারা সম্পদ কল্পনা করে; অন্যরা শক্তি চায়; কিছু কেবল বিশ্বের উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চান।

 এগুলি সমস্ত পুরোপুরি বৈধ, সত্যই সাফল্য একটি ধারণা যা বিভিন্ন লোকের কাছে বিভিন্ন জিনিস। যদিও আপনার কাছে সাফল্য যাই হোক না কেন, এটি সহজেই কিছু নয় যে সহজেই আসবে।

মানসিকতা

আমাদের মানসিকতাই আমাদের সাফল্য এনে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রথমেই আমাদেরকে সফল হওয়ার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। তবেই আমরা সফল হতে পারবাে। যেমন একজন ছাত্র যদি নিজেকে ছাত্র ভাবতেই না পারে তাহলে সে পড়াশুনায় সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। আবার একজন পরিচালক যদি নিজেকে পরিচালক ভাবতেই। পারে তাহলে সে কর্ম পরিচালনা করতে পারবে না। ।

নিজেকে মুক্ত করুন।

আমাদের মাথায় সব সময় নানান রকম চিন্তা ঘুরপাক খায় তাই। আমরা কাজে অসফল হই বা বিপদে পড়ি, তাই আমাদের দরকার মুক্তভাবে কাজ করার। সামনে বই খুলে পড়তে পড়তে যদি আমরা অন্য চিন্তা করি তাহলে আমাদের পড়ার বিষয় মনে থাকে না তাই আবার নতুন। করে পড়তে হয়। অফিসে কাজ করতে করতে বাড়ির কথা চিন্তা করলে কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তাই আমাদের উচিত যখন যে কাজটা করবাে মনটাকে তখন সেই কাজের মধ্যেই রাখা।

 সৎ চিন্তা।

 আমাদেরকে সব সময় সৎ চিন্তা করতে হবে, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, ধৈর্যশীল হতে হবে। আমরা কোন কাজ করার আগেই খারাপ চিন্তা করি, ভাবি যদি আমি সফল হতে না পারি, তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা অসফল হই তাই আমাদের কাজ শুরু করার আগেই ভাবতে হবে আমি সফল হবােই। এই সৎ চিন্তাই তাহলে আমাদেরকে সফলতার অর্ধেক পথ পার করে দেবে।

স্বভাব। 

আমরা বেশির ভাগ মানুষই সকলের দোষ দেখতে পাই। কার কি ভাল গুণ আছে তা না দেখে তার খারাপ গুণগুলাে দেখার চেষ্টা করি। একটা কথা মনে রাখতে হবে সকলের মধ্যেই ভাল খারাপ সকল গুণই আছে তাই আমরা যদি সকলের ভালটাই দেখি তাহলে সকলে আমারও ভালটাই দেখবে। তাই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে আমি সকলের ভালটাই দেখবাে এবং খারাপ কিছু কাজ করার চেষ্টাও করবাে না কারণ হাজারটা ভাল দিয়েও একটা খারাপকে ঢাকা যায় না। আবার একটা খারাপই কয়েক হাজার ভালকে এক মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

হতাশা কিভাবে আসে

কিছু কিছু মানুষ সব সময় খারাপটা চিন্তা করে এবং সত্যি কথা। বলতে কি তারাই হতাশায় জড়িয়ে পড়ে। যারা ভালর সময়েও ভাবেন খারাপ হলে কি হতাে, যারা শুধু কি পেয়েছে তার হিসাব না করে কি কি। পাওয়া হয়নি তার হিসাব করে। যারা জানে কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। তবুও কষ্ট করতে চায় না তাদের জীবন হতাশায় ভরে যায়।

  হতাশা থেকে মুক্তির উপায়।

 আপনি যদি হতাশা থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে মনকে সব সময় বােঝানাের চেষ্টা করুন যে আপনি সুখি। আপনার চেয়ে যে দুঃখি তাকে। দেখে নিজের মনকে বােঝান যে আপনি অন্ততঃ তার চেয়ে সুখি। আর তাই ভেবে বসে না থেকে কাজে ঝাপিয়ে পড়ন তাহলেই আপনার হতাশা কেটে যাবে।

নিজের কর্ম বিষয়ে সচেতন হােন 

আমরা বেশির ভাগ মানুষই কাজ করতে চাই। আবার কাজকে ভয় পাই বা কাজের ক্ষেত্রে অলস হয়ে পড়ি। একটা কাজের কথা মাথায় এলেই তা শেষ করার কথা ভাবি কিন্তু তা ঠিক সময়ে শুরুই করতে পারি । কাল কাল করে আমাদের কাজে বিলম্ব ঘটে যায়, তাই আমাদেরকে মনে রাখতে হবে কাল বলে কিছু নেই। সে গত কালই হােক আর আগামী কালই হােক সব সময় শুধু আজকের কথা চিন্তা করতে হবে। যে। কাজ আজকে করার তা আজকেই করতে হবে। মনে রাখতে হবে আজকের কোন কাজ কালকের জন্য রেখে দিলে কালকের কাজেও ব্যাঘাত ঘটবে। 

সফলতার গুণাবলী

অনেককেই বলতে শুনেছি যে আমার শিক্ষাগত যােগ্যতা নেই তাই । আমি সফল হতে পারবাে না। আসলে এটা কিন্তু ভুল ধারণা। সফল হওয়ার জন্য দরকার হয় চরিত্র, দায়বদ্ধতা, দৃঢ় বিশ্বাস, সৌজন্যবােধ ও সাহস। আপনার যদি এই গুণগুলাে থাকে তাহলে শিক্ষাগত যােগ্যতা ছাড়াও আপনি সফল হতে পারবেন। তাই চেষ্টা করুন এই ক্ষমতাগুলাে অর্জন করতে।

প্রকৃত শিক্ষিত কাকে বলবাে

 জীবন মানেই বাধা। জীবনে চলার পথে নানান রকম বাধা আসবে। যে তা বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে কাটিয়ে চলতে পারবে সেই ভাল মন্দের তফাৎ বুঝতে পারবে। শালীনতা ও অশালীনতার তফাৎ বুঝতে পারবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যার আছে তাকেই আমরা প্রকৃত শিক্ষিত বলবাে।

গুণাবলীর পার্থক্য

 আমরা সবাই কিছু না কিছু গুণ নিয়ে জন্মেছি তাই কাউকেই খারাপ ভাবতে পারবাে না। আমি হয়তাে লেখাপড়ায় ভাল আপনি হয়তাে খেলাধুলায় ভাল, আমরা যে যেদিকেই ভাল হই না কেন আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হবে সৎ চিন্তা করা। আমি যদি ভাবি সকলকে বােকা বানাবো তাহলে যেমন আমি উন্নতি করতে পারবাে না সেই রকম আপনিও যদি ভাবেন খেলার মাঠে কাকে মেরে মাঠের বাইরে বসিয়ে দিতে পারবাে তাহলে আপনি কোনদিনই খেলায় উন্নতি করতে পারবেন । মনে রাখবেন নােংরা পথ দিয়ে হাঁটলে যেমন জামা-কাপড় নােংরা হয় সেই রকম অসৎ চিন্তা করলে মনও খারাপ হয়।

উন্নতি কিসের উপর নির্ভর করে।

উন্নতি নির্ভর করে শিক্ষার উপর তাই কোন ব্যাপারে উন্নতি করতে হলে আমাদেরকে সেই ব্যাপারে সম্পূর্ণ শিক্ষা অর্জন করতে হবে। আর কোন বিষয় জানার ইচ্ছা যদি আমাদের মনের মধ্যে প্রবলভাবে থাকে তাহলে সে ব্যাপারে শিক্ষা গ্রহণ অসাধ্য নয়।

মন ভাল রাখার উপায়

আপনার মনে যদি শান্তি থাকে তাহলে আপনি সবকিছু করতে পারবেন। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আমরা যখন কারাে কোন উপকার করি তখন আমাদের মনের মধ্যে একটা আনন্দের সৃষ্টি হয়। আর মনে আনন্দ থাকলে কাজে উন্নতি ঘটে। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এবং পরিবারের সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকে জীবন সুখের হয় তাই নিজে সুখ পাওয়ার জন্য অপরকে সুখি করার চেষ্টা করুন।

প্রতিদান 

উপরের দিকে থু থু ছুঁড়লে তা যেমন নিজের গায়েই এসে পড়ে, সেই রকম আমরা যদি কারাে ভাল করতে চাই তাহলে তারাও আমার ভাল। করবে। আর যদি আমি তাদের খারাপ ভাবি তাহলে তারাও আমার খারাপ ভাববে। উন্নতি করতে হলে সকলের সহযােগীতা দরকার, তাই সকলের ভাল করতে শেখাে। 

স্বভাব 

ভাল স্বভাবের মানুষের সাথে মিশলে যেমন নিজের স্বভাব ভাল হয় সেই রকম খারাপ স্বভাবের মানুষের সাথে মিশলে নিজের স্বভাবও খারাপ হয়ে যায়। আমরা যত উন্নতি করবাে আমাদের শত্রু সংখ্যা ততই বেড়ে যাবে। আর আমরা যদি সেইসব শত্রুদের মােকাবিলা করতে যাই তাহলে আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আমাদের উচিত শত্রর। মােকাবিলা না করে শত্রুদের কাছ থেকে সরে দাঁড়ানাে।

কাজে মনােনিবেশ কিভাবে করবেন 

আমরা বেশির ভাগ সময় কাজে মনােনিবেশ করতে পারি না। তাই আমাদের প্রথম দরকার যে কাজটি আমরা করবাে সেটিকে ভালবাসার। আমরা যদি আমাদের প্রয়ােজনীয় কাজগুলি করতে অভ্যাস করি তারপর যা করতে পারবাে, যদি সেগুলি করতে অভ্যাস করি তাহলে সব অসম্ভব। কাজ করাও আমাদের কাছে সম্ভবপর হবে।

বিজয়ী হতে গেলে কি করতে হবে

বিজয়ী হতে হলে আমাদেরকে সব সময় সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে, সকল সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে, কাজটি শেষ করার সঙ্কল্প। নিতে হবে, কোন অজুহাত দেখানাে চলবে না। কোন কঠিন কাজও করার জন্য ঝাপিয়ে পড়তে হবে, বিবেচনা করে কথা বলতে হবে। শুধু শুধু কারাে সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়া চলবে না। প্রাপ্তির প্রতি নজর দিতে হবে।

 অসাধারণত্ব

আমরা সাধারণ ব্যক্তিরা সুযােগের অপেক্ষায় বসে থাকি। মনে মনে।

ভাবি সুযােগ এলে ঠিক কাজে লাগিয়ে দেবাে কিন্তু অসাধারণ ব্যক্তিরা সুযােগ আসার অপেক্ষায় থাকে না তারা সুযােগের কাছে ছুটে যান তাই আমাদেরকেও সফল হওয়ার জন্য সুযােগের কাছে দৌড়ে যেতে হবে। অসাধারণ হতে হবে, মনে রাখতে হবে ভাগ্যযুক্ত চেষ্টা সর্বদা সফল হয়।

সাফল্যের ফল।

সাফল্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে সুখ, যে সাফল্যে সুখ নেই তাকে কিন্তু সাফল্য বলা যাবে না। স্পর্শ করলেই যেমন অনুভব করা যায় না, চোখ দিয়ে দেখলেই যেমন নিরীক্ষণ করা যায় না, সেই রকম সুখ না থাকলে সে সাফল্যকে সাফল্য বলা যাবে না। তাই সেই রকম সাফল্য চাইবেন। যে সাফল্যে আপনি সুখ পাবেন। 

সাফল্যের পুরস্কার

আমরা দৌড় প্রতিযােগীতায় দেখেছি এক সঙ্গে হয়তাে দশজন দোড়ায় কিন্তু যে জয়ী হয় সেকি অনেক আগে দৌড়ে চলে যায়। না তা নয় হয়তাে সে অন্য প্রতিযােগীর চেয়ে এক পা এগিয়ে থাকে আর সেই জন্যই সে জিতে নিতে পারে পুরস্কার। আমাদেরও সেই রকম জিততে হলে অনেক এগিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। দরকার আর সকলের চেয়ে সামান্য একটু এগিয়ে যাওয়ার। ।

প্রতিযােগীতা

যদি উন্নতি করতে চান তাহলে নিজেই নিজের সঙ্গে প্রতিযােগীতা করুন। আজ যে কাজটি করেছেন আগামী কাল এর চেয়ে ভাল কাজ করার চেষ্টা করুন, তাহলে উন্নতি আপনার হবেই। ॥ পরাজয়। পরাজয়ের কথা বলতে গেলে একজনের কথা না বললেই নয়। সেই ব্যক্তি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন, ২৪ বছর বয়সে তার ব্যবসা আবার ভেঙে পরে ২৬ বছর বয়সে তার স্ত্রী মারা যান, ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেসের নির্বাচনে হেরে যান, সাধারণ নির্বাচনে হারেন ৪৫ বছর বয়সে, ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন, ৪৯ বছর। বয়সে হারেন সিনেটের নির্বাচনে, শেষে ৫২ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট। নির্বাচিত হন। যার কথা বললাম তিনি আব্রাহাম লিঙ্কন। একে কি আপনি ব্যর্থ বলবেন, না, সাফল্য নির্ধারিত হয় সেই দিয়ে, যে কোন ব্যক্তি কতবার বিফল হয়েও মনােবল নিয়ে এগিয়ে গেছেন সফল হওয়ার জন্য এবং হয়েছেনও। একটা কথা মনে রাখতে হবে পরাজয় মানেই শেষ নয়। পরাজয় মানেই সাফল্যের পথে কিছু সময়ের অবরােধ বা ছােট বাধা যা। বেশিদিন থাকে না।

মনের ইচ্ছাতেই সাফল্য

 মনে মনে আমরা যদি পরাজয়কে মেনে নিই, মনের মধ্যে যদি দ্বিধা থাকে পারবাে কি পারবাে না তাহলে অর্ধেক পরাজয় সেখানেই হয়ে যায়। যদি আগে থেকেই ভাবি আমি হেরে যাব তাহলে আমার হার অবশ্যম্ভাবি। জিততে হলে জেতার আশা করতে হবে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে হবে তাহলে আপনি একদিন না একদিন জিতবেনই। ।

কাজের সঙ্গে চিন্তার সম্পর্ক

আমরা যদি কোন কাজ করার আগে সে বিষয়ে চিন্তা না করি তাহলে সফল হতে পারবাে না। লক্ষ্য নির্ধারণ না করে তীর ছুঁড়লে যেমন লক্ষ্যভেদ হয় না সেই রকম চিন্তা না করে কাজ করলে সফলতাও পাওয়া যায় না। তাই কোন কাজ করার আগে আমাদেরকে সেই কাজ সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।

ইচ্ছার বৈচিত্র

 ইচ্ছা যত প্রবল হবে সফলতা ততই দ্রুত আসবে। প্রেমিকের যদি তার প্রেমিকাকে স্ত্রী হিসাবে পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকে তাহলে সে যেমন তার প্রেমিকার জন্য সবকিছু করতে পারে সেই রকম আমাদের মনেও যদি প্রবল ইচ্ছা থাকে, আমরা যদি সফল হওয়ার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকি তাহলে আমরা সফল হবােই।

পূর্ণ আনন্দ

কোন কঠিন পরিস্থিতির মােকাবিলা করে যখন কোন খেলােয়াড়। জেতে তখন তাকে বলতে শুনি আজ খুব আনন্দ হচ্ছে আজকের খেলাটা আমার সারা জীবন মনে থাকবে। এ থেকেই বােঝা যাচ্ছে যে আমরা যত কঠিন পরিস্থিতির মােকাবিলা করে জিততে পারবো ততই আমাদের আনন্দ বেশি হবে।

Post a Comment

0 Comments