Heaven - Chanakya Perspective about it.

স্বর্গ

 পৃথিবীতে বাস করে সেই স্বর্গ পায় যার পুত্রকন্যা তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে। স্ত্রী সুন্দরী ও আজ্ঞাকীর হয়। অর্থাদি যা পায় তাতে সন্তুষ্ট থাকে। এর চেয়ে বড় স্বর্গ আর হয় না।

  পিতার কর্তব্য সন্তানকে ভাল শিক্ষা দিয়ে পালন করা। স্ত্রী এমন হবে যার দ্বারা সত্যিকারের আনন্দ পাওয়া যায়।

 চালাক পুরুষ সেই হয় যে নিজের মনের কথা কখনাে কাউকে প্রকাশ করে না। অপরের বাড়ীতে বাস করা সবচেয়ে মুখতা। যার ভিতর বাহির সমান তাকে গ্রহন করতে হয়।

  বুদ্ধিমান মানুষ নিজের সন্তানকে ভাল শিক্ষা দিয়ে নিজের জীবনকে সুখী করার চেষ্টা করে। তার একটিমাত্র আশা সন্তান বড় হােক গুনী জ্ঞানী। হােক বংশের সম্মান বজায় রাখুক। 

যে মা-বাবা তার সন্তানকে শিক্ষা দিতে পারে না। তেমন বাবা মা তাদের সন্তানের শত্রু হয়। যখন ঐ সন্তান বড় হয়ে সমাজের সাথে চলতে থাকে তখন সে নিজের দূর্বল স্থানের সংবাদ পেয়ে যায়। যখনই কোন সভা সমিতি ও লােকালয়ে যাবে তখন তার মনে হবে যে কাক হয়ে ময়ূরের দলে। এসে পড়েছি। তখন মা বাবার উপর ধিক্কার দিয়ে মনে কষ্ট পাবে।

 অধিক ভালবাসা,অধিক মার ধাের করা,অধিক পরিমানে বকাবকি করা একেবারে বাচ্চাদের প্রতি ভাল নয়। তাই সন্তান আর শিষ্যকে সীমা রেখে শাসন করা উচিত। তার ফলে আর কোন ক্ষতির ভয় থাকে না। শাস্ত্রের যে কোন শ্লোকের অর্ধেক অংশ, যদি অর্ধেক না পারে তবে তার অর্ধেক অংশ প্রত্যহ জপ করলে অশেষ কল্যান হয়। কারন সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারন করার সাথে সাথে গ্লানি দুর হয়ে মনে পবিত্রতা পূর্ন হয়। সংস্কৃত দেবভাষা। যে দিন থেকে এই দেবতার ভাষা ভারতবর্ষে থাকবে না সেদিন থেকে এর অধঃপতন। ঘটবে। কারন সংস্কৃত শব্দ তুলে দেওয়ার সাথে সাথেপাশবিকতা বেড়ে যাবে। বেকার বসে থাকা মানুষের জীবন বৃথা। তাকে যাহােক কিছুকরা দরকার।

  মানব জীবনে বহু প্রকার কষ্ট আছে এবং থাকবে। বিনা আগুনে যে জীবন জলতে থাকে এবং তাতে প্রভূত কষ্ট ভােগ করে সেগুলি হল স্ত্রী বিয়োগ, নিজের বন্ধুর কাছ থেকে অপমানিত হওয়া, দেনার টাকা না দিতে পারা, খারাপ রাজার। সেবা করা, দুষ্ট লােকের সঙ্গ দেওয়া আর দারিদ্রতা বড়ই কষ্টদায়ক হয়ে থাকে। নদীর ধারে থাকা গাছ, অপরের ঘরে থাকা নিজের স্ত্রী, মন্ত্রী ছাড়া রাজা এরা যে কোন পরিস্থিতিতে নষ্ট হয়ে যায়। নদীর ধারের গাছ নদীর জোয়ার ভাটার জন্য নষ্ট হয়ে যায়। পত্নী কাছে না থেকে অপরের বাড়ী থাকলেই অবশ্যই খারাপ হয়ে যাবে। অবশ্য বৃদ্ধা পত্নীকে নিয়ে সমস্যা হয় । ভাল পরামর্শ না পাওয়ার জন্য রাজা তার রাজত্ব চালাতে পারে না। 

প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব শক্তি থাকে আর সে তাতেই সারাদিন ব্যস্ত থাকে। যেমন ব্রাহ্মনের শক্তি তার শিক্ষায়, রাজার শক্তি তার সেনায়, বেশ্যার শক্তি ধন দৌলতে আর শুদ্রের শক্তি তার সেবায় থাকে। নির্ধনকে বেশ্যা, শক্তিহীন রাজাকে প্রজারা যে গাছে ফল থাকে না সেই গাছের পাখিরা এবং ভােজন কারী অতিথিরা সবাই ছেড়ে চলে যায়। এটা চরম সত্য কথা।

 অরন্যে আগুন লাগার পর হরিণেরা, বিদা অঞ্জ করার পর বিদ্যার্থীরা, ভিক্ষা নেওয়ার পর ভিখারীরা যে যার নিজের স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। রাজার শােভা তার সেনা, বনিকের শােভা ব্যবসা, ঘরের শােভা। সুন্দরী স্ত্রী আর বন্ধুত্বের শােভা নিজের মনের মত মানুষ হবে। শত্রকে সময় মত ঝামেলায় ফাসিয়ে দেওয়া উচিত। বন্ধুকে ধর্মের কাজে লাগান ভাল। বুদ্ধিমান পুরুষ সর্বদা এমনই কাজ করে থাকেন।

  দনি ব্যক্তি আর সপের মধ্যে ভাল সপ। কারন সপ মাত্র একবার। দংশন করে বিষ ঢেলে দেয় তাতে মানুষ মরতে পারে। কিন্তু দর্জন মানুষ। সারাজীবন বিষ ঢেলে যায় এবং মানুষকে সারাজীবন দংশনের জ্বালা ভােগ। করায়। রােজ মরার চেয়েএকেবারে মরে যাওয়াই ভাল। রাজারা সাধারণত খানদানী ভাল ভাল পরিবারের লােককে তাদের কাছে। কাছে রাখে। কারন ভাল খানদানী পরিবারের লােকজন রাজাকে বিপদে। ফেলবে না। তাকে ফাকি দেবে না তার সাতে বিশ্বাস ঘাতকতা করবে না,রাজার। অঢেল টাকা পয়সা দেখে ঈর্শা করবে না। খানদানী পরিবারের মানুষ লে মাত্র রাজার জন্য প্রানও দিতে পারে। তাই রাজা ব্যক্তিগন ভাল পরিবারের ভাল মানুষের সাথে সব সময় যােগাযােগ রাখে। সাগর খুব গভীর এবং শান্ত থাকে। কিন্তু প্রলয়ের সময় সে তার নিজের সীমা। লঙ্ঘন করতে বাধ্য হা। তথাপি নিজের মর্যাদাকে সে কোনদিন ক্ষুন্ন করে না। পশু আর মুখ লােক দুজনেই সমান হয়। মুখ ব্যক্তি চতুষ্পদ জন্তুর মত হয়ে যায়। তার যে কাটা আছে সেটা দেখা যায় না কিন্তু তার কড়া কথাগুলি কাটার মত বিধতে থাকে

। , কিংশুক ফুল দেখতে অপূর্ব সুন্দর কিন্তু তার কোন সৌগন্ধ নেই ভাল। বংশে রূপবান সুদর্শনধারী যুবক বিদ্যা জ্ঞান হীন। এরা দুটোই সমাজের বােঝা। কারন এদের দ্বারা কোন মহৎ কাজ সম্পন্ন হয় না। কালাে ও খারাপ দর্শনধারী কোয়েলের স্বর তার সম্পদ আর পুরুষের সৌন্দর্য্যত তার বিদ্যায়। বংশ রক্ষার জন্য পরিবারের একজনকে, গ্রাম রক্ষার জন্য সমস্ত পরিবারকে, দেশ রক্ষার জন্য সমস্ত গ্রামকে আর আত্মরক্ষার জন্য যদি সংসারকে রাখা যায় সেটা বেশ ভাল।

 ক্ষমতা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে দারিদ্রতা দূর হয়, প্রজা পাপ করলে ধুয়ে যায়, চুপ করে থাকলে ঝগড়া শেষ হয়। জেগে থাকলে ভ ধারে কাছে। আসতে পারে। এগুলি অতীব সত্য কথা।

  সীমাহীন কাজ করা আদৌ উচিত নয়। সীমার মধ্যে রেখে কাজকরতে হয়। কারন অতি বেশীটাইক্ষতিকারক। বেশীরূপের জন্য সীতান হয়েছিল। অতি দপকরার জন্য কাৰনের মৃত্যু হয়েছিল। অধিক দান করার জন্য বলিকে পাতালে যেতে হয়েছিল। এসব দেখে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। একটা সৌগন্ধযুক্ত ভাল ফুল সমস্ত বাগানকে মাতিয়ে দেয়। তেমন একটি ভাল সন্তান সমস্ত বংশের মান উল করে। শত বুদ্ধিহীন পুত্র অপেক্ষা একজন বুদ্ধিমান পুত্র অনেক ভাল। একটিমাত্র চাদের আলােয় সমস্ত রাত্রি উডল হয়ে থাকে। তেমন একটা গুনবান পত্র থাকলে সমস্ত বংশের মান উজ্জ্বল হয়ে যায়। দুঃখ কষ্ট দেওয়া মাতা পিতার শত পুত্র। থেকে কি লাভ। তার চেয়ে একটাই পুত্র ভাল যে তার মা বাবাকে বৃদ্ধাবস্থায় লালন পালন করতে সক্ষম। তাই একশত অপেক্ষা একটার মূল্য বেশী। পুত্রকে দশ বছর বয়স পর্যন্ত ভাল বাসতে হয় তার পর দশ থেকে। ষােল বছর পর্যন্ত শাসনে রাখতে হবে এবং ষােল বছর হয়ে গেলে পুত্রের সাথে বন্ধুর মত ব্যবহার করবে। তাতে সংসারে শান্তি বজায় থাকবে। 

ভয়ংকর আক্রমনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে পালিয়ে যায়। সেই জয়লাভ করে। যার কাছে ধর্ম, অর্থ ও জ্ঞান এই তিনটি নেই তার জীবন ব্যথ।এমন। মুখরা শুধু বেঁচে থাকে সমাজের বােঝা হয়ে। এদের মরা বাঁচা দুইই সমান। তাছাড়া ধর্মজ্ঞান যার নেই তার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। যেখানে মুখের পূজা হয় না, অন্নের ভান্ডার সর্বদা ভরা থাকে এবং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় না সেখানে মা লক্ষ্মীর অবস্থান। পুত্র মিত্র আর বন্ধু যদিআমাদের থেকে অনেকদূরেচলে যায় তাদের উন্নতিতে বংশের মান উজ্জ হয়। আর সে যদি সাধু হয় তাহলে তাে সােনায় সােহাগা। আমাদের মানব শরীর অনিত্যকালের জন্য। দীর্ঘকাল আমরা কেউ বেঁচে থাকার জন্য আসিনি। কখন যে কে চলে যাব এই শষ্য শ্যামলা পৃথিবী পরিত্যাগ করে তা কেউ কোনদিন বলতে পারে না। তাই আমাদের ধর্মাচরন করে চলা উচিত। কারন ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। ধর্মহীন মানুষ পশুর সমান। ধর্মাচরন কারী ব্যক্তিগন পরজন্মে ও শান্তিতে বাস করতে পারেন। যারা কৃষ বা ভগবানের ভক্ত তারাই দেবতা আর যারা ঠিক তার বিপরীত তারা অসুর। আর সুর অপেক্ষা অসুররাই হয় পাষন্ড। একেবারে কোন কিছু পালন আচার না করতে পারলেও কেবলমাত্র কৃষ্ণপ্রেয়সীতুলসী কাঠের মালা গলায় থাকলে আর কোন ভয় থাকবে না। যার গলে তুলসীর মালা নেই, মরা মানুষ আর তাতে কোন পার্থক্য নেই। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে ধরাতলে মানব আকারে অবতীর্ন হয়ে তুলসীর মালা গলায় দিয়ে লােকশিক্ষা দেবেন। তাই দেখে ভক্তকুল সঠিক শিক্ষা পেয়ে কলির কোলাহল থেকে উদ্ধার পাবেন। এ কথা পন্ডিত চানক্যও বলে গেছেন। 

যৎ পরিমান দ্রবে জঠর পূর্ন হয়। সেই পরিমান বস্তুতেই তাহার সত্ত্ব জানতে হবে। যে ব্যক্তি তার অধিক দাবী করে সেই ব্যক্তি চোর দন্ড পাবার যােগ্য

। ভগবান যাকে যাহা দিয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট থেকে তাই ভগবানের নিবেদন করে সবাই তার উচ্ছিষ্টভােজী দাসানুদাস হতে হবে।

  আমাদের পরিচয় আমরা সবাই ঈশ্বরের দাস। তাই ঈশ্বরকে সেবা করা হবে আমাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য। আগুন সব কিছুকে জ্বালিয়ে দেয় কিন্তু পৃথিবীতে এমন কতকগুলি বিষয় আছে যা বিনা আগুনে মানুষকে জ্বালিয়ে দেয়। খারাপ গ্রামে বস করা নীচ কুলের সেবা করা, খারাপ ভােজন করা, লড়াই। ঝগড়া করা স্ত্রী, মুখ পুত্র সুন্দরী বিধবা স্ত্রী প্রভৃতি মানুষকে কেবল জ্বালাতে থাকে। এমন গাভী থেকে কি লাভ, যে গর্ভবতী হয় না। এমন পুত্র থেকে কি লাভ যে বিদ্বান হয় না, যে ভগবদ্ভক্তি পায় না তার তাে মনুষ্য জন্য একেবারে বৃথা। সংসারে সুখে বাস করার জন্য মানুষ তিন জায়গায় শান্তি পেতে পারে। সন্তানের কাছে, স্ত্রীর কাছে আর সাধু সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্যে। কিছু বিষয় কেবল একবার মাত্র হয়, দ্বিতীয়বার আর হয় না। রাজার আজ্ঞা কেবল একবারই হয় দ্বিতীয়বার হয় না,পন্ডিতের শ্লোক আর কন্যাদন কেবল একবারই হয় দ্বিতীয়বার আর হয় না। 


সেই স্ত্র। ভাল যে চালাক ও চতুর হয়,সত্যকথা বলে এবং তার স্বামীকে ভালবাসে। সম্ভোগের সময় আনন্দ দেয় সেই স্ত্রীকে বিয়ে করলে মানুষ স্বর্গের মত সুখে বাস করে যে ধর্মে দয়া, মায়া, মমতা নেই সেই ধর্ম ত্যাগ করা শ্রেয়। যে গুরুর কাছে ধর্ম জ্ঞান হয় না তাকে ত্যাগ করা উচিত। যে স্ত্রী দ্বন্দ্ব করে তাকে ত্যাগ করা ভাল। যে মাতা পতিতা তাকে ত্যাগ করা পুত্রের কর্তব্য। যেমন ধর্মজ্ঞান হনি গুরুকে বলি রাজা ত্যাগ করেছিলেন। ধর্মজ্ঞানহীন মাতাকে ভরত ত্যাগ করেন, ধর্মভজ্ঞানহীন পিতাকে প্রহাদ ত্যাগ করেছিলেন, ধর্মজ্ঞানহীন যান্ত্রিক পত্নীগন তাদের স্বামীকে ত্যাগ করেন আর ধর্মজ্ঞানহীন দাদাকে বিভীষন ত্যাগ করেছিলেন

  আমি কে? কেন এই পৃথিবীতে মানব আকারে এসেছি? কয়দিন পরে। আবার চলে যাবএইগুলি চিন্তাভাবনাকরা উচিত। তাহলে মানুষ মহান হয়ে যাবে। দেবতা কি? মানুষের জন্য সবার চেয়ে বড় ঈশ্বর আগুন। কিন্তু এটা ভােলা উচিত নয় যে দেবতা মানুষের মনে থাকে। সাধারনত বিদ্যান মানুষের ক্ষেত্রে দেবতা কেবল একটামাটির মূর্তি। দেবতার ক্ষেত্রে সকলের পৃথক পৃথক বিচার আছে। /ভয়কে ততক্ষনই ভয় পাওয়া উচিত যতক্ষন না তার সামনে আসছে। তার ভয় যদি সামনেই এসে যায় তাহলে সাহসের সাথে তাকে মােকাবিলা করা উচিত। মুখ লােক পন্ডিতের সাথে বিবাদ বাধায়, কুঁড়ে মানুষ পরিশ্রমী মানুষের সাথে ঝগড়া করে, বেশ্যারা ভাল স্ত্রীলােক দেখলে ঈশা করে আর বিধবারা সধবাদের দেখলে ঈশা করে থাকে। /কড হলে বিদ্যা অর্জনে ক্ষতি হয়। অন্যের হাতে গেলে কাজের সময়। টাকা পয়সা পাওয়া যায় না। বজি কম পড়লে ক্ষেত খালি থাকে। সেনাপতি বিহিন সেনা নষ্ট হয়। এসকল বিষয়ে বিবেচনা করে চলা উচিত। কাম বাসনার চেয়ে বড় রােগ আর নেই। অজ্ঞানতার চেয়ে বড় শত্রু। আর নেই, ক্রোধের চেয়ে আগুন বড় নয়, জ্ঞানের চেয়ে বড় গুরু আর হয়। । এই চারটি বিষয় অতীব সত্য

  যেব্রহ্মজ্ঞানী হয় তার কাছে স্বর্গের কোন মাহাত্ম নেই। বীর পুরুষের কাছে মৃত্যু একটা সাধারন খেলা।ইন্দ্রিয়কে বশে রাখলে সুন্দরী স্ত্রী তারকাছেকিছুইনয়। জলের মধ্যে বৃষ্টির জল সবচেয়ে ভাল। শক্তির মধ্যে নিজের শক্তি শ্রেষ্ঠ। হয়। চোখের চেয়ে কোন বেশী তেজ নেই। অন্নের চেয়ে প্রিয় আর কোন বস্তু নেই। সংসারে পাঁচ রকমের ব্যক্তিকে পিতা বলে জ্ঞান করা হয়। যেমন ১

 যে জন্ম দেয়, ২ যে যােগ্যতা প্রাপ্ত করায়, ৩ যে রক্ষা করে, ৪ যে অন্ন। দেয় আর ৫ যে জ্ঞান দেয়। সেরূপ পাঁচজন মাতা ও সংসারে আছে। যেমন-১ রাজার স্ত্রী ২ গুরুর স্ত্রী ৩ বন্ধুর স্ত্রী ৪ স্ত্রীর মা আর ৫ নিজের। জন্মদাত্রী মা। এঁরা প্রত্যেকের কাছে চিরকাল পূজনীয়া। ভ্রমন শিক্ষার অঙ্গ হিসাবে ধরা হয়। কারন যে ব্যক্তি ভ্রমন করে তার জ্ঞান সর্বদা বাড়ে। এই সংসার একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়। যে ভ্রমন করে সে শিক্ষা জ্ঞান অনুভব সব কিছুই অর্জন করতে পারে। 

বিধির বিধান অটুট। যেটা হবে সেটা ঠিকই হবে। তাকে কেউ কোন দিন এড়াতে পারে না। কাল এই সংসারে সবচেয়ে বেশি শক্তিমান। সে সবাইকে সময়ে বিনাশ করার জন্য প্রস্তুত। এই সংসার বিনাশ হওয়ার পর। কালই একমাত্র বর্তমান থাকে। কাল আবার সবাইকে জাগ্রত করায়। কালই। সংসারের একজন শ্রেষ্ট পরিচালক। লােভি ব্যক্তিকে টাকা পয়সা দ্বারা, অহংকারী ব্যক্তিকে হাত জোড় করে, মুখকে গায়ের জোরে, পন্ডিতকে কেবলমাত্র বুঝিয়ে বশে আনা যেতে পারে। ভীষন ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পর কাজ করতে থাকা, শীত-গ্রীষ্ম উপেক্ষা। করে নিজের কাজ করা, সর্বদা সন্তুষ্ট থাকা আর কাউকে অশান্তিতে না ফেলা মানুষ সুখী হয়। মনের সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় শান্তি ও ধর্ম। রাজার নিজের বাহুর শক্তি থাকে। বেদজ্ঞ ও জ্ঞানী বুদ্ধিমান ব্যক্তি। সর্বদা তরুনের মত শক্তি রাখে। স্ত্রীর সুন্দরতা আর তার মধুর ব্যবহার সবচেয়ে বড় শক্তি। এইসকল শক্তির কাছে বিজয়ী হওয়া বড় কঠিন। মাছেরা কেবল জলে মগ্ন থাকে আর জল শেষ হয়ে গেলে সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। সেই স্বার্থপূর্ন স্বভাব হওয়া অন্তত মানুষের উচিত নয়।মানুষ হয়ে জীব জন্তুর মত ব্যবহার আদৌ মানায় না। সমাজ বিভাজন তার পক্ষ হয় যার ধন ঐশ্বৰ্য আছে। ধনী ব্যক্তিকে সবাই সমর্থন করে থাকে। ধনবানই মানুষ বলে গন্য হয়। সমাজে যার কাছে টাকা পয়সা থাকে মানুষ তাকে মহান বলে মান্য করে।

   যে মানুষ দান করে,মিষ্টি কথা বলে, দেব দেবীর পূজা করে, ব্রাহ্মণকে সেবা। করে সেমানুষ সােজাস্বর্গেচলে যায়। তাকে পৃথিবীতে আমরা দেবতা বলে গন্যকরি। কথায় কথায় রাগ করা ভাল লক্ষ্মন নয়। কুঁড়েমি করা,নিজের বন্ধর সাথে হের ফের করা, শত্রুতা করা, খারাপ লােকের সাথে মেলামেশা করা। আর তাদের কথায় ওঠাবসা- এধরনের মানুষ সােজা নরকে চলে যায়। তার ইহ পরকাল ঝরঝরে।

  যে মানুষ মানুষের সেবা করে তার কথা শুদ্ধ হয়। বুদ্ধির শুদ্ধি দ্বারা। ইন্দ্রিয়কে নিজের বসে রাখা জীবের প্রতি দয়া করলে মন শুদ্ধি থাকে। সেই কারনে জীবের সেবা করা ভাল।

  যেমন ফুলে সৌগন্ধ, তিলে তেল, কাঠে আগুন, দুধে ঘী আর আঁখে গুড় থাকে। তেমন মানুষের মনে বিচার থাকে। সেই বিচার দ্বারাই সত্যিকারের মানুষকে চেনা যায়। খাবার যদি হজম না হয় জল খেলে তা হজম হয়ে যায়। ভােজন করার পর জল অমতের সমান হয়। কিন্তু ভােজন করার সময় জল পান করা বিষের সমান হয়। স্ত্রী বিয়ােগ হওয়া, বন্ধুর হাতে টাকা পয়সা চলে যাওয়া, অন্যের অধীনে থেকে ভােজন করা- এসকল বিষয় আদৌ ভাল নয়। মানুষের মন ছােট হয়ে গেলে তাকে উন্নত করা বড় কঠিন। গুনের দ্বারা রূপ শােভা পায়, পতিব্রতা স্ত্রী সাথে থাকলে রাজা কল্যান। কারী হয়। সন্তোষ থাকা ব্রাহ্মনকে সর্বদা শুদ্ধ বলে মানা হয়। শিক্ষা মহান বস্তু বলে তাকে সর্বত্র পূজা করা হয়। বিদ্যা সর্বস্থানে সমাদর পায় তাইবিদ্যাকে গ্রহন করা কর্তব্য। বুদ্ধিমান ব্যক্তি মাত্রেই বিদ্যাকে আশ্রয় করে চলে। যারা লেখা পড়া না করে মুখ হয়ে আছে, যারা মদ্যপান ও মাছমাংস ভক্ষন করে তারা পৃথিবীর বােঝা। যার কারনে ক্রমে ক্রমে পৃথিবী ধ্বংশের পথে চলেছে। দ্বারপাল, বিদ্যাথা ও যাত্রীকে ঘুমালে জাগিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু রাজা, শিও,স ও কুকুর ঘােমালে জাগান উচিত নয়। তারা তাদের সময় হলে এমনিতে দ্রুত হয়।

  যারা মানুষের দয়া বা কৃপা করতে আগ্রহী নয় তেমন মানুষেরা সমাজে না, থাকাই ভাল। কারন তাদের দ্বারা কোন কাজ হয় না। ডাক্তার যদি রােগীকে চিকিৎসা ঠিকমত না করে যদি পয়সার দিকে বেশী। লক্ষ্য রাখে তাহলে তাকে ডাক্তার না বলে ডাকাত বলে আখ্যা দেওয়া উচিত। মানুষ যদি ঈশ্বর সেবা ও ভগবানের নাম গান করতে না শিখল তাহলে তার মানুষ জন্ম বৃথা। ঈশ্বরে যার বিশ্বাস নেই সে নাস্তিক। তার থেকে ভাল লােকেরা দুরে থাকতে চেষ্টা করে। কেউ যদিমনেকরে ভগবানকে দেখিনিঅতএবভগবান বলে কেউ নেই। এটা একটা কল্পনা মাত্র। তাহলে তারা মুখের স্বর্গেবাসকরছে। কারন তাদের যদি। প্রশ্ন করা হয় তােমরা তােমাদের বাবার ঠাকুরদাকে দেখেছ? উত্তর দেবে না। তাহলে তাদের কি বাবার ঠাকুরদা বলে কোন মানুষ ছিল না। বাবার ঠাকুরদা না থাকলে বাবার বাবা এলাে কোথা থেকে আর নিজের জন্মদাতা বাবা কি করে থাকলাে। তা না হলে সে তাে জারজ সন্তান হয়ে গেল। আত্মনাশি নরকের দ্বার স্বরূপ কাম -ক্রোধ লােভ এই তিনটি। এই তিনটি পরিত্যাগ না করলে মানুষ কোনদিন সুখী ও জ্ঞানী হতে পারে না

 এই সংসারের স্থাবর জঙ্গমাদি সবই ঈশ্বরের সত্বা। তার চৈতন্য দ্বারা। সর্বত্র পরিব্যপ্ত। সুতরাং তার প্রদত্ত বিষয়গুলি যথাযথ ভাগ করা উচিত। কারাে ধনে আশা করা আদৌ উচিত নয়। তাতে পাপের বােঝা মাথায় চাপে মাত্র, পূন্য কিছু হয় না। যে ভগবানের আদি,অন্ত ও মধ্য অথবা আত্মীয়, পর এবং অন্তর বাহির নেই, জগতে এইসব বিষয় যা থেকে উৎপন্ন হয় এবং এই সংসার যাঁর স্বরূপ তিনি সত্য এবং পরিপূর্ন ব্ৰহ্ম। বর্নাদি জীব জন্ম গ্রহন করা মাত্রেই দেবতা, পিতৃ, বন্ধু, ঋষি, প্রানি মনুষ্যের নিকট ঋনী ও তাদের অধীন হয়। যিনি অহং ভাব পরিত্যাগ করে সম্পূর্নভাবে পরম শরনীয় শ্রীহরির শরনাগত হন তিনি ঋষি ও দেবতা স্বরূপ। তাকে দর্শন করলেই জীবের কল্যান হয়। কারন তিনি স্বজন বাপিতৃগনের কিঙ্কর বা ঋনগ্রস্থ হননা। তাই ভগবানের ভক্তকে দেখা মাত্রইদন্ডবৎ করা মানুষের একান্ত কর্ত্তব্য। তাতে। কল্যান বই অকল্যান হয় না। / শ্রীহরির নাম কীৰ্ত্তনে ও নববিধা ভক্তিদ্বারা শ্রীহরির সেবায় আত্মনিয়ােগ করলে আর তাকে পৃথক ভাবে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় না। কারন শ্রীহরির নামে সব অশুদ্ধ বিশুদ্ধ হয়ে যায়

Post a Comment

0 Comments