Knowledge Talk - Chanakya Perspectiv for life


জ্ঞানের কথা

আমাদের দৈনন্দিন জীবন বড় বিচিত্র। আমরা প্রকাশ্যে থাকা সত্বেও মনে হয় একটা বিশাল অন্ধকারের মধ্যে ভ্রমন করছি। কারন মায়াই হল বড়। অন্ধকার। তাই শাস্ত্রে বলা আছে- 

কৃষ্ণ সূৰ্য্যসম মায়া হয় অন্ধকার। যেথা কৃষ্ণ সেথা নাহি মায়ার অধিকার। ছােট ছােট কথা জীবনে বড় রহস্য তৈরী করে যায়। যে কথাকে। আমরা একটা সাধারন বলে ভুলে যাই। মহাপন্ডিত চাণক্য আমাদের জীবন ধারাকে দেখে বড় গভীরভাবে এই নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। চাণক্যের জ্ঞান আজকের দিনে আমাদের গভীর সমস্যার থেকে সবাইকে মুক্তি দিতে পারে। খারাপ সময়ের জন্য ধনকে রক্ষা করা উচিত। কারন এটা ভােলা উচিত নয় যে ভাল সময় সর্বদা থাকে না। অন্ধকারও আলাের মত সময়ের পরিবর্তন হতে থাকে। লক্ষ্মী সর্বদা চঞ্চল, এ একজন রমনী একে বিশ্বাস করা। উচিত নয়। এ সর্বদা একস্থানে কোনমতে থাকে না। তাই চাণক্য সবাইকে বলেছেন ভাল সময়েই খারাপ সময়কে সামনে রাখতে হবে। সামান্য ধন। রত্ন বাঁচিয়ে রাখার অভ্যাস ভাল 

যে দেশে আদর হয় না, যেখানে কোন তাহারেরসামগ্রী থাকে না। বিদ্যা অজন করার কোন প্রথা নেই, সেখানে আদৌ বাস করা উচিত নয়। কারন মানুষ। সেখানে ডান ও ধনের উন্নতি পায় না। এমন স্থান অর্জন করা মঙ্গল। যেখানে ধনী ব্যক্তি থাকে না, বেদ পাঠ করা ব্রাহ্মন, ভাল দয়ালু রাজা থাকে না, বাসস্থানের ভাল জায়গা পাওয়া যায় না, অসুস্থ হলে ভাল বৈদ্য- কবিরাজ মিলে না এমন জায়গায় থাকা কোন মতে সুখকর নয়। তেমন স্থানে কোন বেকার মানুষ উন্নতি করতে পারে না। যদি বিষে অমৃত মেশানাে থাকে তাকে হাসি মুখে খেয়ে ফেলা ভাল। কেন অপবিত্র স্থানে যদি সােনা পড়ে থাকে তবে তাকে গ্রহন করা উচিত। যদি কোন মন্দ ব্যক্তির নিকট থেকে ভাল জ্ঞান পাওয়া যায় তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। যদি কোন খারাপ বংশে গুনবতী সুশীলা কন্যা থাকে তাকে বিয়ে কতে কোন সংশয় বােধ করা উচিত নয়। নিজের মনের গােপন কথা তার কোন দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। সেগুলি নিজের মনের মধ্যে লুকিযে রাখতে পারলে সুফল ফলে। সৎপাত্রে কন্যা দান করা উচিত। ছেলে মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠানাে পিতার কর্তব্য। শত্রুকে সর্বদা কোন না কোন ঝামেলায় শাসিয়ে রাখা উচিত। বন্ধকে সর্বদা সৎকাজের জন্য উৎসাহ দেওয়া উচিত। যােগ্য ব্যক্তি নিজের জীবনের সবকিছু নিজের বুদ্ধি দ্বারা চালিত করে সুখী হয়। পাগল ও বুদ্ধিহীনা ব্যক্তি থেকে সর্বদা দুরে থাকা উচিত। পাগল। শুর ন্যায় আচরন করে। একটি পশু ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তির সাথে কোন তফাৎ কে না। বুদ্ধিহীন ব্যক্তি ভাল কথা বললেও তার কোথাও না কোথাও খত। থাকে। কোনমতে ভালও গুনশালী মিষ্টি কথা তার মুখ দিয়ে বের হতে পারে না। তাই বুদ্ধিমান লােক কোনমতে বুদ্ধিহীন লােকের কাছে থাকবে না! পরিশ্রম করলে মানুষের দারিদ্রতা দূর হয় এবং ভগবানের আরাধনা। করলে পাপ দূর হয়। যে ব্যক্তি জেগে থাকে তার কোন ভয় থাকে না। যদি দুজন ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ আরম্ভ হয় তার মধ্যে একজন চুপ করে গেলে অপর একজন ও চুপ হয়ে যাবে? 

যে যে স্থানে ঝগড়া বা কোন গন্ডগােল চলতে থাকে সে স্থান ত্যাগ। করে পালিয়ে যাওয়া উচিত। সে স্থানে কখনাে থাকা উচিত নয়। কারন ঝগড়ার মধ্যে থাকলে যে দোষী নয় তার বিপদ হয়ে থাকে। • যদি ভয়ঙ্কর খরা পড়ে তাহলে যে কোন বদমায়েস ব্যক্তির সাথে বন্ধুত। করা উচিত। নয়তাে মানুষ এমনিতে কুপােকাত হয়ে যাবে। বদমায়েস মানুষটি কোন না কোন স্থান থেকে আহার যােগাড় করে দেবে। যখন সে নিজের জন্য কিছু আনবে বদমায়েস লােকের জন্য ও কিছু আনবে। এমন সময় কেবল চালাক লােকই কাজে লাগে। পুত্র, মিত্র আর পরিবারের যারা আপন জন তারা কেবল দুরে চলে যায়। ভাল লােকের সাথে থাকলে ভাল হয়। পুত্র নিজের বংশের নাম উ ভুল করে। প্রত্যেক মানুষকে ভেবে দেখা উচিত যে সে কি পাপ কাজ করছে। দেখতে হবে এই সময় আসল বন্ধ কে দেশটা বা কোমন চলছে। আমি কি নিজের উপায়ে নিজে লাভ বা লােকসান করছি। আমি নিজে কি করতে পারি, আমার বুদ্ধি কতটা কাজ করতে পারে, এই সব কথা চিন্তা। করে রাস্তা চলা উচিত !এই সব যে ভাবে সে অবশ্যই নিজের সফলতার স্থানে পৌছে যায়। ভবিষ্যতে খারাপ হতে পারে ভেবে বর্তমানকে খারাপ করা ঠিক নয়। যে ভয়ঙ্কর ঘটনা আপনি কোনদিন দেখেননি তা নিয়ে ভেবে লাভ কি কেবল কল্পনা করে কোন লাভ নেই। 

যদি জীবনে কোন বিপদ এসে যায় নির্ভয়ে তার মােকাবিলা করা উচিত। কোন বিপদকে দেখে পিছু হটা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যারা ভয়কে নির্ভয় হয়ে তার মুখােমুখি দাঁড়াতে পারে তারা জয়ী হয়ে থাকে। ধনী ব্যক্তিদের বহু আত্মীয় স্বজন নিজে থেকে তৈরী হয়ে যায়। ধনৰ্বান। ব্যক্তিকে ভাল মানুষ আর গুনবান বলে মনে করা হয়ে থাকে। টাকা পয়সাও ধনের পূজা সর্বদা হয়ে আসছে। তাই ধন সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তির জন্য। অতি আবশ্যক। ধন সম্পত্তি নিজের কাছে থাকলে অনেক আপন লােকই পর হয়ে যায়। বাঘের থেকে এক, শিয়ালের থেকে চার, কাকের থেকে পাঁচ কুকুরের থেকে ছয় আর গাধার থেকে তিনটি গুন শেখা উচিত। যে কোন কাজ যদি বেশী হয়ে তাকে তৰু তা মন দিয়ে করা উচিত। মানুষকে এই গুন বাঘের কাছ থেকে শেখা উচিত। - বন্ধুকে সময় অনুসারে চোখে চোখে রাখা উচিত। এই গুন শিয়ালের কাছ থেকে শেখা দরকার। ঠিক সময়ে জাগা, ঝগড়া করা, বন্ধুদের তাড়িয়ে দেওয়া, কেড়ে খাওয়া কাকের কাছ থেকে শেখা দরকার। 

 সঙ্কোচের সাথে মেহন করা, সময় অনুযায়ী সংগ্রহ করা সজাগ থাকা, কারো প্রতি সহসা বিশ্বাস না করা এই গুনগুলি বুদ্ধি মান ব্যক্তির কাছ থেকে শেখা উচিত। প্রচন্ড ক্ষুধায় সন্তুষ্ট থাকা, গম্ভীর মনে থাকা সত্বেও মাঝে মাঝে জেগে থাকা, মালিকের প্রতি সৎ থাকা এই গুনগুলি কুকুরের কাছ থেকে শেখা দরকার প্রচন্ড ক্লান্তি থাকা সত্বেও বুঝে ওঠার ক্ষমতা থাকা, শীত গ্রীষ্মে। সর্বদা সন্তুষ্ট থাকা শুকনাে রুটি খেয়ে ও ভগবানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা এই গুন গুলি গাধার কাছ থেকে শেখা উচিত। এই সব গুন পেলে মানুষ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। 

ছােট বড় যে কোন কাজ একমনে শেষকরা উচিত। যদি কাজ করার পূর্ন শক্তি থাকে, ইন্দ্রিয়ের প্রতিসংষম রেখে সময়ের গতি অনুসারে কাজ করে, সময়ে ঘুমায়, সময়ে জাগে নিজের অধিকারের জন্য লডে, নিজের বন্ধুদের সাহায্য করে, সময়ে সংগ্রহ করে এবং সজান থাকে, কাউকে বিশ্বাস করে না, ক্ষুধার্ত থাকলেও সামান্য আহারে সন্তুষ্ট থাকে, মালিকের সর্বদা মঙ্গল চায় সাহসের সাথে বিপদের সম্মুখীন হয়, শীত-গ্রীষ্মকে ভয় পায় না, এই সকল গুন পশুদের কাছ থেকে শিক্ষা করলে জীবনে অনেক সাফল্য অর্জন করতে পারা যায়। বিশ্রাম সময়ে সমস্ত চিন্তা বর্জন করে ঈশ্বরের চিন্তা করা উচিত। কারন ঈশ্বর তার ভক্তের সমস্ত দায়িত্ব নিডো বহন করেন। চুরিত্রহীন নারীর নিকট থেকে দূরে থাকা উচিত T মন্দ ব্যক্তি অপমান করে গেলে বুদ্ধিমান ব্যক্তি কাউকে বলে না। এই সব কথা অপর কোন লােককে বললে তারা পিছনে লাগবে এবং উপহাস করে নিজের সম্মান হানি ঘটাবে। 

টাকা পয়সার লেনদেন ব্যাপারে, বিদ্যার্জন ও আহারের ব্যাপারে যে ব্যক্তির মনে সংকোচ থাকে না তিনি পরম সুখী। সংকোচের সাথে যে সুখ পাওয়া যায় তার থেকে বেশী লাভ ভাল নয়। সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় লাভজনক। । টাকা পয়সার জন্য চারদিকে দৌড় ঝাপ করলে কোন ফল হয় না। ভাগ্যে যা আছে তাই ঘটবে। এই বার্তা বুঝে সন্তুষ্ট থাকা কর্তব্য। স্ত্রী যেমনই হােক ধন যতই থাকুক আর আহার যেমন হােক সেগুলি যদি যথা সময়ে পাওয়া না যায় তাহলে তার আর শান্তি কোথায়। তবে শান্তি আছে, সবচেয়ে বড় শান্তি-ঈশ্বরের সাধন ভজন করা। জ্ঞান, দান ও বিদ্যা শিক্ষার পরম আনন্দ। " প্রথমে নিজের শত্রুর সাথে অনুকুল ব্যবহার করা উচিত। ভয়ঙ্কর শত্রুকে শক্তির দ্বারা দাবিয়ে রাখা উচিত আর শত্রুর দ্বারা জীবনের ক্ষতি হতে পারে তাকে যে কোন প্রকারে শেষ করা উচিত। মানুষ ভাল হয়ে জীবন কাটাতে পারে না। সােজা আর ভাল মানুষকে। সবাই চেপে রাখতে চেষ্টা করে। ভদ্র মানুষকে পাগলামি ভাবে। যেমন জয়। লে গিয়ে আগে সবাই সােজা গাছগুলিকে কাটে। ট্যারা বাঁকা গাছে কেউ হাত দেয় না। এমন সহজ সরল হওয়া উচিত নয়। 

দেহে তেল মাখানাের পরে শ্মশান থেকে আসার পরে, চুল কাটার পরে যদি কোন মানুষ স্নান না করে তাহলে সে মানুষ চন্ডাল ও অপবিত্র। এরূপ কাজ যেন কেউ না করে তাহলে সে ব্যক্তি অবশ্যই লক্ষ্মী ছাড়া হয়ে যাবে। জেল পান হজম কারক। কিন্তু খাওয়ার সাথে সাথে জল খেলে বিষের কাজ করে। তাই খাওয়ার অন্তত আধ ঘন্টা পরে জল খাওয়া উচিত। ধৈর্য্যের সাথে কাজ করলে অবশ্যই সাফল্য লাভ হয়। পরিষ্কার করলে ময়লা জিনিস পরিষ্কার থাকে। জল পান করার পূর্বে ভাল করে দেখে নেওয়া উচিত। সেই মত প্রত্যেক। প্রানীকে ভাবনা চিন্তা করে সামনের দিকে পা দুটো বাড়ানাে উচিত। ভাবিতে উচিত হয় প্রতিজ্ঞা যখন। কোন কাজ করার আগে ভাল করে। ভেবে চিন্তে করা উচিত। 
যদি জ্ঞান পেতে চায় তাহলে ভালভাবে সুখ পাবে না। যদি সুখ পেতে চায় তাহলে জ্ঞান পাওয়া যাবে না। আবার বিনা পরিশ্রমে কোন ব্যক্তি জ্ঞান ও সুখ পায় না তরিতরকারির চেয়ে দশগুন শক্তি আটায়। আটার চেয়ে দশগুন শক্তি দুধে। দুধের চেয়ে আটগুন শক্তি মাংসে। মাংসের চেয়ে দশগুন শক্তি ঘিতে। শােক করলে রােগ বাড়ে। দুধ খেলে শরীর বাড়ে। ঘি খেলে বীর্য বাড়ে, মাংস খেলে মাংস বাড়ে এসব প্রকৃতির নিয়ম, কেউ কোনদিন পাল্টাতে পারে না। পরিবারের সর্ব লােকেদের সাথে ভালবাসা রেখে মিষ্টি কথা বলুন- সুখী হবেন। বদমায়েস লােকের সাথে কড়া মনে ব্যবহার করুন আর ভাল মানুষের। সাথে বন্ধুত্বপূর্ন ব্যবহার করুন। শত্রুর সাথে সাহসের সঙ্গে কথা বলুন তাহলে সাফল্য পাবেন। নারীর সাথে ছলনাকারী পুরুষ সুখী হয়। সে সমাজে সম্মান লাভ ও করে। যে বিনা প্রয়ােজনে খরচ করে, নিজের আয়ের চেয়ে বেশী খরচ করে সে ভবিষ্যতে ভুগতে থাকে। মে বিনা কারনে ঝগড়া করে, যে ছােট জাতের নারীর সাথে সম্ভোগ করে তার ভবিষ্যৎ খারাপ হয় 

যে লােক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে তৈরী রাখে, ভাল মন্দের আন্দাজ আগে থেকে করে নেয়। যার ফলে সে নিজেকে তৈরী রেখে ভবিষ্যতের যে কোন বিপদের মােকাবিলা করতে পারে। এমন লােক সর্বদা সুখে থাকে। আর যারা নিজেকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে চলে জীবনে তারা সুখী হতে পারে না কোন প্রকারে উন্নতি করতে পারে না। মানুষ যদি জীবনে মুক্তি পেতে চায়, তাহলে তাকে সেই বন্ধন গুলােকে ভাঙতে হবে আর নিজের মনকে সাহারা রূপে নিতে হবে। মানুষের জন্য একমাত্র শান্তির পথ নিজের মন। যদি কোন লােক ভাবে যে সে সংসার ত্যাগ করে বনে জঙ্গলে গিয়ে একাকি থাকবে তাহলে সে ভুল করবে! কারন সে কথা বলার জন্য ছটফট করে বেড়াবে জমিকে খুড়লে তার বুক দিয়ে জল বেরােতে থাকে। গুরুকে সেবা করলে বিদ্যা ও জ্ঞান লাভ হয়ে থাকে। গুরুর সেবা এমনভাবে করতে হবে যেমনটি কুয়াে খোড়ার সময় করা। হয়। গুরু সেবা ব্যতিত কোন মানুষ শিক্ষা ও জ্ঞান লাভ করতে পারে না। আর গুরু নিন্দার মত মহাপাপ ধরায় নেই। গুরুর দ্বারা জ্ঞান পাওয়া যায়। জ্ঞানই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রকাশ। যে পুরুষের নিকট থেকে আপনি একটা জ্ঞানের অর্থ ও লাভ করবেন। তাকেই গুরু বলে মানবেন। মহান ব্যক্তি না হলে তার কোন ভান থাকে না। জ্ঞান না থাকলে কোন মানুষ মানুষ হতে পারে না। 

সর্বদা অপরের ভাল করুন। স্বার্থের থেকে দুরে থাকুন, অপরের যে ভাল করে স্বয়ং ভগবান তার ভাল করে। এমন লােকের সর্বদা ভাল হয় এবং জীবনে মহাসুখ পায়। বহু মূল্যবান বস্তু এই সংসারে থাকে। যাকে কঠিন পরিশ্রম করেও পাওয়া যায় না। তাকে পাবার জন্য আমরা তপস্যা করে থাকি। তপস্যা এমন একটি পথ যার দ্বারা ভগবানকে ও পাওয়া সম্ভব। গুণবান ও মহান ব্যক্তিদের সঙ্গ নিয়ে যে পথ চলে কোনদিন তার বিপদ। হয় না।। জীবন মৃত্যুর চক্র অনবরত চলতে থাকে। আত্মা অমর হয়ে থাকে কেবল শরীরটা পালটায়। মানুষের জীবন হল আত্মা। আত্মার মৃত্যু বা ক্ষয় নেই। প্রানী কেবল শররি পরিবর্তন করে সংসারে যাতায়াত করে। প্রথম জন্মের কর্ম হেতু দ্বিতীয় জন্ম ফল পায়। তাই পরের জন্মে ভাল ও সুখে থাকার জন্য এ জন্মে ভাল কৰ্ম্ম করে যাওয়া উচিত। পড়াশােনা ছাড়া কাছে পুস্তক থাকলে যেমন জ্ঞান বিদ্যা লাভ হয় না। তেমনি অপরের হাতে অর্থ থাকলে কাজের সময় তার কোন ফল পাওয়া। যাবে না জীবন ত্যাগ হলে জীবন পাওয়া যায় কিন্তু ধর্ম ত্যাগ করলে সর্বনাশ হয়। শত্রর স্মরন নিয়ে যে ধন সম্পত্তি পাওয়া যায় তার চেয়ে ধন না। থাকাই শ্রেয়। পাপের অর্জিত ধন সম্পত্তি বেশী দিন থাকে না। কিছুদিন থাকার পর মানুষকে নিঃশেষ করে দিয়ে চলে যায়। তাই এমন পাপের উপার্জিত টাকা পয়সা থেকে দুরে থাকা ভাল। 

 যে কোন কাজ আরম্ভ করার আগে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করা উচিত। ১ এই কাজ কেন করছি।২ এর ফল কি হবে। ৩ নিশ্চিতভাবে কি এই কাজের সফলতা পাব। বুঝে সুঝে যথার্থ ভাবে কাজ আরম্ভ করতে হবে। শক্তিশালী শত্রুর থেকে দূর্বল মিত্র বেশী ক্ষতিকারক। কারন দুর্বল বন্ধু যে কোন সময়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। এই সংসারে যতই আপনার কাছের লােক থাকুক মনের কথা তাকে বলা উচিত হবে না। অপরে মনের কথা জানতে পারলে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

Post a Comment

0 Comments