Proverb - What Chanakya Perspectiv about it


প্রবাদবাক্য

সমাজে অনেক প্রবাদ বাক্য ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- অরণ্যে রােদন, সােনায় সােহাগা, নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা, উঠলাে বাই তাে কটক যাই। এই সব প্রবাদ বাক্য নিয়ে পন্ডিত চাণক্য অনেক প্রকার জ্ঞানের কথা প্রকাশ করে গেছেন। 

পাগল শিষ্যকে উপদেশ দেওয়া, মেয়ে বা স্ত্রীকে পালন পােষন। করা। গরীব ও দুঃখীদের সাথে মেলামেশা করায় অনেক সময় ভাল লােক ও গরীব দুঃখী হয়ে যায়। সেবার সময় এলে সেবক লােকদের চেনা যায়। আত্মীয় স্বজনদের ভালবাসা কতটা খাঁটি দুঃখের সময় বােঝা যায়। যে মানুষ হাতের মুঠোয় পাওয়া জিনিসকে ছেড়ে যেটা পাওয়া সম্ভব নয় যদি তাকে পেতে চেষ্টা করে তাহলে হাতের জিনিস ও ছেড়ে যায়। লােভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। লােভে পড়ে মানুষ অনেক সময় নিজেকে ভুল পথে পরিচালিত করে। নখওয়ালাদের, শিংওয়ালাদের, পশু, স্ত্রী, রাজ পরিবারের লােকেদের আর নদীকে কদাচ বিশ্বাস করতে নেই।।

 নদী যে কোন সময় জলস্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অস্ত্র ধারী যে কোন সময় অস্ত্রদ্বারা হামলা করতে পারে। নখ ও শিং ওয়ালা পশু যে কোন সময় নখও শিং দ্বারা আঘাত করতে পারে। স্ত্রীলােক যে কোন সময় ভাল মানুষকে দুর্নাম দিয়ে বিপদে ফেলতে পারে। রাজ পরিবারের লােকেরা সামান্য কারনে রেগে গিয়ে বিপদ ঘটাতে পারে। তাই এদের থেকে সব সময় দুরে থাকা কর্ত্তব্য। ভাল থেকে ভাল সুস্বাদু খাবার হজম করার শক্তি। অনেক সময় সম্ভোগ করার শক্তি। সুন্দরী বউ পাওয়া আর দান দেওয়ার ক্ষমতা সহজ কথা নয়। এ সব জিনিস পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা করতে হয়। ভাল সন্তান সেই হয় যে বাবা মার আদেশ পালন করে। 

 ভাল ও যােগ্য পিতা সেই হয় যে নিজের সন্তানকে যথাযথ লালন পালন করে বিদ্যাশিক্ষা দিতে পারে। ভাল বন্ধু সেই হয় যে কোন সময় বিশ্বাসঘাতকতা করে না। ভাল স্ত্রী সেই হয় যে সম্ভোগ কালে নিজের স্বামীকে আনন্দ দিতে পারে। প্রত্যেক পাহাড়ে মনি রত্ন হয় না। প্রত্যেক ঝিনুকের মাঝে মুক্তা থাকে না। সব জায়গায় ভাল মানুষ পাওয়া যায় না। চুক চক করলেই সােনা হয় না। 

এই দুনিয়া অপবাদে ভরা তাই ভাবনা চিন্তা করে নিজের বুদ্ধি দ্বারা যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খারাপের সাথে থেকে খারাপকে ভাল করতে হবে। রাজাকে সেবা করা শােভা পায়। ব্যবসায়ীকে ব্যবসা করা শােভা পায়। সুন্দর গুনবান স্ত্রীর দ্বারা ঘরের শােভা বর্ধিত হয়। কিন্তু বাইরের শােভা বাড়ানর জন্য তাকে ব্যবহার করা যায় না। যার কাজ তার সাজে, অন্য লােকের ডঙ্কা বাজে। দক্ষিনা নেওয়ার পর ব্রাহ্মন। বিদ্যা অর্জন করার শিষ্য। জঙ্গলে আগুন লাগার পর জংলী পশু সব ত্যাগ করে চলে যায়। এ সংসারে মানুষ তার কাজ ফুরিয়ে গেলে সব ছেড়ে চলে যায়। সবাই যে যার নিজের কথা চিন্তা করে স্বাথ ফুরিয়ে গেলে অপরের কথা ভাবে না। 

 খারাপ ব্যবহার করার চাকর আর মন্দ স্থানে থাকা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা ভাল নয়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর যে দুঃখ নিকটতম আত্মীয়দের দ্বারা অপমানিত হওয়া, ঋনের বােঝা মাথায় থাকা, খারাপ রাজার সেবা করা, গরীব দুঃখীদের সঙ্গে একসাথে বাস করা। এসব কারনে মানুষের শরীর নিজে থেকে জুলতে । থাকে। তার জন্য নিজের শরীর খারাপ করার কোন মানে হয় না নদীর ধারে থাকা বড় গাছ যে কোন সময় ভেঙে গিয়ে নদীর জলে। ভেসে যেতে পারে। অন্য পুরুষের স্ত্রী যে কোন সময় যে কোন পুরুষকে ফাকি দিতে পারে। পুরুষ বিনা স্ত্রী ও রাজা বিনা মন্ত্রী যে কোন সময় হারিয়ে যেতে পারে। যে কোন মানুষ বিদ্যা ও জ্ঞানের দ্বারা বাঁচতে পারে। রাজা তার সেনা বাহিনীর বলে শক্তিশালী হতে পারে। 

ব্যবসায়ী চতুরতার দ্বারা ব্যবসা চালায় এবং শুদ্র সেবার জন্য কেবল জীবিত থাকে। প্রত্যেক বেশ্যা গরীবের ঘর ছেড়ে দেয় কারন তারা টাকা পয়সাকে। ভালবাসে। শক্তিহীন রাজাকে তার প্রজারা পছন্দ করে না কারন শক্তিহীন রাজা প্রজাদের রক্ষা করতে অক্ষম। যে গাছে ফল ধরে না পাখী কখনাে সে গাছে বসে না। অতিথি আহারের পর যে কোন সময় ঘর ছেড়ে চলে যেতে পারে। এ সংসারে এমন কোন মানুষ নেই যে যার দুঃখ নেই এবং যার কোন দোষ নেই চিরকাল কেউ সুখে থাকে না। আলাে ও অন্ধকারের মত সুখও দুঃখ থাকবেই। ব্যবহারের দ্বারা মানুষের বংশ পরিচয় পাওয়া যায়। কথা বলার সাথে সাথে মানুষের ভাল মন্দের পরিচয় পাওয়া যায়। যে কোন মানুষের শরীর দেখে তার খাওয়া দাওয়ার আন্দাজ বােঝা যায়। খারাপ মানুষ ও সাপের মধ্যে কে ভাল? সাপ সুযােগ পেলে ছােবল মারে কিন্তু খারাপ মানুষ সবসময় মানুষের খারাপ চিন্তা করে ক্ষতি করে। অতএব খারাপ মানুষ অপেক্ষা সাপ অনেকাংশে ভাল। রাজা ও অন্যান্য বড় বড় মানুষ বুদ্ধিজীবি ও বিদ্বান ব্যক্তিদের খোঁজ করেন। তাদের সব সময় কাছেকাছেরাখতে চেষ্টা করেন। কারন বড় বিপদ ও দুঃখের সময় তারাই কাজে লাগতে পারে। সাগর সবচেয়ে মহান। যখন তাতে ঝড় আসে তখন সমস্ত সীমা ভেঙে সব কিছুবিনাশ করে ফেলে। কিন্তু সাধ ও জ্ঞানী ব্যক্তিণনাখনাে নিজের সীমা ছাড়ায় না। ভাল লােকেরা সব সময় নিজেদের মজাদারের মধ্যে থাকে।

 মানুষ যতই সুন্দর দর্শনধারী হােক আর যতই ধনী ও বড় বংশে জন্ম গ্রহন করুক না কেন তার জ্ঞান-বিদ্যা না থাকলে কোন কাজে লাগে না। যেমন কিংশুক ফুল দেখতে সুন্দর কিন্তু তার কোন গন্ধ নেই সে কোন। সমাদর ও পায় না। রঙকালাে হলে কিছু যায় আসে না যদি তার সৌন্দর্য্য থাকে। তেমন স্ত্রী যতই সুন্দরী হােক না কেন স্বামীর প্রতি যদি তার ভালবাসা থাকে ও পারিবারিক কৰ্তব্য ঠিক মত পালন করে যায় তাহলে সেই হল আসল সুন্দর। 

বড়লােকের সৌন্দর্য্য আর অর্থ দেখা হয় কিন্তু কালাে কুৎসিৎ ব্যক্তি যদি বিদ্বান, জ্ঞানী ও গুনবান হয় তার তুলনা হয় না। তাকে সবাই সম্মান করে।। নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্য যে কোন একজনকে আত্মত্যাগ করতে হয়। দেশের জন্য ও নিজেকে আত্মত্যাগ করা মঙ্গল আত্মরক্ষার জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়। কিন্তু সত্যকে ত্যাগ করা। ঠিক নয়। সীতা হরনের পশ্চাতে সীতার অপরূপ রূপকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। 

রাবনের বিনাশ হয়েছিল কেবলমাত্র তার অভিমানের জন্য। যে কোন বস্তু সীমার বাইরে হওয়া বিপদের সূচনা করে। সীমার মধ্যে থাকলে সবচেয়ে ভাল। নিজের শক্তির দ্বারা মানুষ যে কোন কঠিন কাজ করতে পারে। তাতে তার বিশ্বাস থাকাটা একান্ত প্রয়ােজন। ব্যবসায়ীর পক্ষে কোন দেশই দুর বলে মনে করা উচিত নয়। তাতেই সে খুশী থাকলে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। বিদ্যান ব্যক্তির জন্য পৃথিবীর সব দ্বার উন্মুক্ত। সে যেখানে যাকনা কেন তার সম্মান সে ঠিকই পাবে। মাছ যেভাবে তার নিজের দেখা শােনা করে, কচ্ছপ নিজের একাগ্রতা দ্বারা পক্ষীস্পর্শ দ্বারা নিজের বাচ্চাদের লালন-পালন করে ঠিক সেইভাবে বুদ্ধিমান লােকের সাথে পালিত হলে সেই লােক তাদের মত বুদ্ধিমান হয়ে যায়। তাদের দেখা শােনায় বিচার বুদ্ধি দ্বারা তারা জ্ঞান অর্জন করে। শিক্ষা কামধেনুর সমান হয়। শিক্ষা পেলেই মানুষের বুদ্ধি বাড়ে। শিক্ষা ব্যতিত মানুষ ও পশু সমান শ্রেনীর হয়ে থাকে। এটা মানুষের মধ্যে একটা গুপ্ত ধনের মত থাকে যা কেউ চুরি করতে পারে না বা আটকে রাখতে পারে না। বিদ্যা মানুষের সত্যিকারের বিশ্বাসী বন্ধু। তাই শিক্ষাকে যে কোন মূল্যে গ্রহন করা যায়। অন্ধকার জীবনের বড় প্রকাশ শিক্ষা। 

ময়লা কাপড়ে যারা থাকে, মন্দ লােকেদের যারা সেবা করে, খারাপ ও বাসী খাদ্য যারা ভােজন করে, ঝগরাটে ও বিধবা স্ত্রী মানুষের পক্ষে পরম ক্ষতিকারক। এমন অবস্থা থেকে যত দুরে থাকা যায় তত ভাল। এরা নিজেদের উন্নতি করতে পারে না পরন্তু যাদের সাথে থাকবে তাদের ও ক্ষতি হবে। দুঃখ পূর্ন এই মায়ার সংসারে মানুষ মাত্রেই শান্তির জন্য চিন্তায় ডুবে। থাকে তার জন্য তাকে স্ত্রী, সন্তান ও সাধুর স্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। বেশী। চিন্তা ভাবনা না করে এদের মধ্যে একটিকে বেছে নিলে তবে শান্তি পাবে। পন্ডিতগন কেবল একবারই মুখ থেকে বের করে চরম জ্ঞানের কথা। তাই সেটা মন দিয়ে শােনা উচিত। কন্যাদান একবারই করা হয় মাত্র, তারপর সে কন্যা পরের হয়ে যায়। 

তপ, জপ ওপূজা একান্তে করতে হয়। কারন এটা একান্তেই ফল। পাওয়া যায়। দুজন যদি একসাথে পড়ে তাহলে তাদের দুজনেরই ফলদায়ক হয়ে থাকে। চারজন মিলে একসাথে মন করলে সহসা ক্লান্তি আসে না। পরিশ্রম। বলে মনে হয় না। পাঁচজন মিলে যদি একসাথে চাষকরে তাহলে ভাল ও বেশি ফসল হয়। অনেক লােক মিলে যদি যুদ্ধ করে তাহলে তাদের কেউ হারাতে পারে না। সন্তান ব্যতিত সংসার ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তাতে স্বামী-স্ত্রীর মন ভাল। থাকে না। মুখের মত ও বুদ্ধি দুটোই শূন্য। গরীবের ধন দৌলত সব শূন্য হয়। গরীব হওয়াটা বড় অপরাধ। জীবনে ধনবান হওয়া সবচেয়ে বড় গুন। অনুভবহীন মানুষের কাছে শাস্ত্র বিষের মত হয়ে থাকে। যে আহার। হজম হয় না সেটা বিষের মত লাগে।

ধর্ম-ভক্তি ও দয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। যে ধর্ম তা দেয় না তাকে ত্যাগ করা উচিত। যে স্ত্রী একটি কথায় রাগ করেও ঝগড়া করে থাকে তাকে বর্জন করা বিধেয়। বুদ্ধিহীন ব্যক্তি নিজের ভাই হলেও তার থেকে দুরে থাকা ভাল। কারন তার সাথে থাকলে কোন লাভ হবে না। " অধিকভ্রমনে পুরুষ মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যায়। স্ত্রীর সাথে অধিকসম্ভোগকরলে। বৃদ্ধাবস্থা চলে আসে। ঘােড়াকে বেশি সময় বেঁধে রাখলে সে বুড়াে হয়ে যায়। কাপড়কে বেশি সময় রােদে দিলে সেটা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সােনা চিনবার জন্য তাকে ঘষে, পিটে, আগুনে পুড়িয়ে দেখা হয়। সেরাপ মানুষের পরীক্ষা, ত্যাগ,গুন, আচার ব্যবহার দ্বারা বােঝা যায়। তাই মানুষের দোষ গুন দেখে বিচার করে তবে মন্তব্য করা উচিত। সংসারের সাথে সা'ৰ সম্পর্ক নেই সে কোন বিষয়ের অধিকারী হয় ।

যার কোন বাসনা নেই তার সাজ সজকরার অধিকার থাকে না। বিদ্যান-বুদ্ধিজীবি ব্যক্তিরা ভাল বক্তা হতে রে যে মানুষ মুখের উপর সত্যি সত্যি কথাগুলি বলে কে ছলনা করতে পারে না। মুখ পন্ডিতের কাছ থেকে দুরে থকা ভাল কারন তার থেকে বহু ক্ষতি। হতে পারে। সধবাদের দেখে বিধবাদের মনে হিংসার আগুন জ্বলতে থাকে। অলস মানুষের কাছ থেকে বিদ্যা সর্বদা দুরে থাকে। অন্যের হাতে টাকা পয়সা চলে গেলে তা আর ফেরত পাওয়া যায়। । যেমন সেনাপতির কোন সেনা না থাকলে সে বেকার। চোখ দেখলে রাগের মাত্রা বােঝা যায়। ধনদৌলত দ্বারা ধর্ম রক্ষা করা যায়। খাওয়া দাওয়া আর ব্যায়াম দ্বারা বিদ্যাকে রক্ষা করা যায়। শক্তি দ্বারা। রাজাকে রক্ষা করা যায়। ভাল স্ত্রী হলে সমস্ত পরিবারকে সে সুশৃংখল ভাবে রক্ষা করতে পারে। বেদজ্ঞ পন্ডিত, সত্যবাদী পুরুষ ও যারা শাস্ত্রের বদনাম করে বেড়ায়। তাদের প্রচুর দুঃখ কষ্ট ভােগ করতে হয়। দান দিলে নিজের দারিদ্রতা দুর হয়। যে মানুষ অন্যের দুঃখ দুর করে ভগবান ও তার দুঃখ দুর করে। দান দিলে কখনো ধন কমে না। বুদ্ধি সর্বদা অজ্ঞতাকে নষ্ট করে দেয়। যার জ্ঞান বুদ্ধি আছে সে কখনাে না খেয়ে মরবে না। ভাবনা ভয়কে নাশ করে দেয়। কামনা বাসনা সবচেয়ে বড় রােগ। যেটা শরীরকে কুরে কুরে নষ্ট করে দেয়। তার দ্বারা বুদ্ধি ও নষ্ট হয়ে যায়। ক্রোধ ও দ্বেষ দ্বিতীয় আগুনের রূপ যেটা মানুষকে শেষ করে দেয়। অক্রোধা জ্ঞানী মানুষ সুখী হয়। সংসারের কোন প্রকার দুঃখ তার কাছে থাকে না। প্রানী মাত্রেই পৃথিবীতে জন্ম নেয় আবার কয়েকদিন থেকে বিদায় নেয়। যে যেমন কাজ করে সে তেমন ফল ভােগ করে। কর্মফলে কেউ স্বগে যায় আবার কেউ নরকে যায়। যে কর্মফলে নরক অথবা স্বর্গ ভােগ করেতার সাথে তার কোন আত্মীয় বন্ধু বান্ধব থাকে না। কারাে সাথে কোন কালেও কারাে সম্পর্ক দীর্ঘকাল থাকে না। কোন খারাপ কাজ করার আগে মনে মনে চিন্তা করা উচিত। জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি সর্বদা স্বর্গলাভের চিন্তা করে তাদের মনে কোন প্রকার আজে বাজে চিন্তা থাকে না। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য স্বর্গলাভ করা। চোরের কাছে জীবন ভীষন প্রিয় হয়। ভােগ বিলাসী মানুষ যেখানে সুন্দরী রমনী দেখে সে তার পিছনে। ছােটে এবং তার জন্য পাগল হয়ে যায়। সেটাই হয় তার অওয়া জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে সুন্দরী স্ত্রী একাট কাঠি মাত্র।

 বিদেশে বিদ্যাই মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু। একমাত্র বিশ্বাসী মানুষকে সাথী করা উচিত। যেমন অসুস্থ লােকের সবচেয়ে বড় সাথী ঔষধ। মৃত্যু পথযাত্রীর একমাত্র সাথী ধর্ম বা শ্রীহরির নামগুনকীর্তন,র্যে ভাল কাজ করেছে কমই তাকে মুক্তি দিতে পারে মাত্র। সাগরের কাছে বর্ষা হওয়া না হওয়া তাতে তার কিছু যায় আসে না। যার পেট ভরা তার কাছে সুস্বাদু উপাদেয় খাদ্য দেওয়া কোন মানে হয় না। যেমন ধনী লােককে দান দেওয়া বেকার মাত্র। সুয্যের প্রকাশে প্রদীপ জ্বালিয়ে কোন লাভ নেই, কারন প্রদীপের আলাে সূয্যের চেয়ে অনেক অনেক ক্ষীন। মেঘ হলে আকাশ থেকে যে বর্ষার জল পড়ে তার চেয়ে পবিত্র জল আর নেই। যে কাজ আপনি আপনার ক্ষমতাবলে করেন তার থেকে সফল পাবেন। কারাে ভরসায় থেকে কোন কাডে সফলতা আসে না। চোখের থেকে বেশী তেজ আর কোন কিছুতে হয় না। আহারের থেকে বেশী ভালবাসার বস্তু আরএ সংসারে হয় না। কারন অন্নই মানুষের। একটা জীবন। নিৰ্ধনী ব্যক্তি সর্বদা ধন সম্পত্তির জন্য এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়ায়। তার মনের মধ্যে সর্বদা ধনী হওয়ার বিপুল চেষ্টা। এটা তার সবচেয়ে বড় মুখতা। কারন ভাগ্যে না থাকলে যতই চেষ্টা করাে না কেন কিছুই হবে না। ভাগ্য + চেষ্টা = ফল। এ জগতে প্রত্যেক প্রাণীর কিছুনা কিছু আশা আকাঙ্খা আছে। তারা কেউ পায় আবার কেউ পায় না। ঈশ্বর ভক্তির আশা থাকলে সেটা পাওয়া যায়। মনুষ্য মধ্যে নারী পাখীদের মধ্যে কাক, পশুদের মধ্যে শিয়াল খুব চালাক। এদের থেকে সর্বদা সতর্ক থাকা উচিত। এদের সাথে চালাকি। করতে গেলে সে ভুল করবে। পাখীদের মধ্যে কাককে নীচু মানের ধরা হয়। তদ্রপ পশুদের মধ্যে। কুকুরকে, খুনীদের মধ্যে পাপকে আর যে আপনাকে সবসময় নিন্দা করে সে। সবচেয়ে বেশী নীচু মানের। কাসার বাসন ছাই দিয়ে মাজা উচিত নয় । তামার বাসন তেঁতুল দিয়ে মাজা উচিত নয়। নদীর তীব্র গতির সামনে যাওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক বস্তু পরিষ্কার করার জন্য পৃথক পৃথক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যেমন জিনিস তার তেমন স্থান। যে ভাল রাজা সে তার প্রজাদের সুখ দুঃখ দেখার জন্য রাতে ঘুরে বেড়ায়। যে ব্রাহ্মন পূজা পাঠ করে তাকে সম্মান করা উচিত। তারা যথেষ্ট সম্মানের অধিকারী। কারন তাদেরগুন সব সময় মঙ্গলের দিকে। স্ত্রীকে সবসময় গৃহকাজে ব্যস্ত থাকা উচিত। কারন তাকে গৃহিনী বলা হয়। সেই নারী আদর ও সম্মানের অধিকারী যে ঘরে থেকে নিজ স্বামীর সেবা ও ছেলে মেয়েদের লালন পালন করে।

Post a Comment

0 Comments