The Truth - Chanakya Perspective about it

সত্য কথা

 সত্য এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়। একথা সকল মানুষ নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত আছে। কিন্তু তবু মানুষ মিথ্যাকে ভালবাসে। সত্য আর মিথ্যার মধ্যে বহুদিন থেকে লড়াই চলে আসছে। যে ব্যক্তি মহান জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান সেই। একমাত্র সত্যকে বেছেনিয়ে থাকে। পন্ডিত চাণক্য এর মীমাংসা করতে বহু চেষ্টা করে গেছেন। 

সংসার েএমন অনেক বস্তু আছে যা বিনা পেষনে আসল রূপ দেখতে পারে না। মেহেন্দীকে যতক্ষন না ভাল করে বাটা যায় ততক্ষন তার আসল রূপ প্রকাশ পায় না।

 আখকে যখন ভাল করে পিষবে তখনই তার মধ্যে দিয়ে মিষ্টি রস। বের হবে। তাতেই গুড়ও চিনি তৈরী হবে। ক্ষেতকে যদি ভাল করে চাষ না করা হয় তাতে কোনপ্রকারের ফসল উৎপন্ন করা যায় না।

যতক্ষন কোন স্ত্রীলােকের সাথে যথার্থ ব্যবহার করা না যায় ততক্ষন। তার আসল চেহারা বােঝা যায় না। কারন তেল বের করার জন্য তিলকেও। ভাল করে পিষতে হয়। যে অপরের সাহায্য নিয়ে থাকে সে পঙ্গু হয়ে যায়। যেমন চঁাদ সূৰ্য্যের। সাহায্য নিয়ে থাকে বলে সে দিনের বেলা আলাে দিতে পারে না। তেমনই। যে অন্যের ঘরে আশ্রিত সে যতই মহান হােক একদিন সে পন্যে হয়ে যাবে। কারন সহসা কোন সময় কোন কারনে তার মানষিক বিভ্রান্তি আসবে। যে মহান সে ব্যক্তি পরের আশ্রয়ে না থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। ভ্রমর যতক্ষন পদ্মের মধ্যে থাকে ততক্ষন সে আনন্দ নিয়ে বেড়ায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় বিদেশে তার এমনি ফুলই অনেক আনন্দ দেয়। তাই খালি পেটে থাকার চেয়ে কিছুটা আহার করা অনেক ভালাে। নেই মামার চেয়ে কানা মামা অনেক ভাল। তাকে তাে মামা বলে ডাকতে পারবে। তাই

যখন যেমন তখন তেমন মেনে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। চন্দনের গাছকে যতই কেটে ফেলা যাক না কেন তথাপি তার সৌগন্ধ থাকবেই। হাতী খারাপ হলেও সে চঞ্চলই হয়ে থাকে। আঁখ ঘানিতে পড়লে ও তার মিষ্টতা হারায় না। সােনাকে বেশ ভাল করে পােড়ালে ও তার চকচক ভাব দূর হয় না। সেরূপ ভাল বংশের লােকেদের যতই আভিজাত্য চলে যাক তথাপি তাদের ভাল গুন বিসর্জিত হয় না। ভালণ্ডন সর্বদা কছে কাছে থাকে। যতক্ষন বর্যা না হয় ততক্ষন কোয়েল পাখী ডাকে না। সেও সময় মত তার সঙ্গীত গায়। এমন অনেক প্রানী আছে যে সময় অনুসারে তারা কাজ কাম করে। যে কবি মহান হয় সে সময় অনুযায়ী তার কবিতা লেখে। পৃথিবীতে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন বহু ধনসম্পত্তি পেয়েও অর মনে কোন গর্ব হয় না।

 যদি কোন পুরুষ মানুষ কোন স্ত্রীলােক দ্বারা লালায়িত না হয় তাহলে সে মৃত্যুকে ভয় করে না। মৃত্যুর হাত থেকে সে বাঁচতে পারে। পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই যে সে খারাপ কাজ করে না। এমন কোন মানুষ নেই যে সুস্বাদু আহারাদি দেখে ও তার মুখে জল আসে না। সােনার হরিণ কেউ কোনদিন দেখে নি। তবু ও সীতা দেখেছিল। এমন কি হরিনকে ধরার জন্য রামচন্দ্র তার পিছনে পিছনে ছুটেছিল। তার জন্য সীতা হরন ও হয়েছিল। মানুষের যখন বিনাশের সময় হয় তখন এইসব উল্টো পাল্টা হয়ে থাকে। তাই বলা হয় যে সময় খারাপ হলেই বুদ্ধি ডান। ভ্রষ্ট হয়ে যায়।

  সাপের দাঁতে বিষ আছে, মাকড়সার মাথায় আর বিছার লেজে বিষ। থাকে কিন্তু খারাপ মানুষের সারা শরীরে বিষ থাকে। খারাপ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি বিষধর। অতএব খারাপ মানুষ থেকে দূরে থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারন সবাই যে যার ভাল চায়। যার শক্তি নেই সে সাধু হয়ে যায় যার কাছে পয়সা থাকে না সে ব্রহ্মচারী হয়, রােগী দেবতার ভক্ত হয়ে যায়। খারাপ স্ত্রী সবচেয়ে বেশি পতিব্রতা হয়। এরা সবাই মুখােশধারী হয়। কারন শক্তিশালী ব্যক্তি কোনদিন সাধু হয় না। ধনবান কোনদিন ব্রহ্মচারী। হয় না। স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ভক্তি করতে পারেনা। যুবতীআর সুন্দরীনারী খুবই কম পতিতা পালন করে। আসল কথা এগুলি বাধ্য হয়ে করতে হয়।

  মন যদি ভাল ও শুদ্ধ হয় তাহলে ঘরে গঙ্গা। লােভী মানুষের অন্যের দোষ কি আসে যায়। যারা একজনের কথা অন্যদের কাছে বলে বেড়ায় তাদের অন্যের পাপে কি আসে যায়। সত্যবাদীর ধ্যান ছায়া তপ জপের সাথে কোন সম্পর্ক নেই মন যদি শুদ্ধ হয় তাহলে তীর্থে যাওয়ার কি প্রয়ােজন আছে।

  ভাল মানুষের অন্যের গুনে কি যায় আসে। নিজের ক্ষমতা থাকলে বিদ্যা থাকলে পয়সার সাথে কি আসে যায়। যদি অপযশ থাকে তাহলে মৃত্যুর সাথে কি লেনা দেনা। গুনের সবসময় সব জায়গায় পূজা করা হয়। কিন্তু পয়সার পূজা করা হয় না। পূর্ণিমার চাদকে সবাই পূজা করে। কিন্তু গ্রহনের চাদকে কেউ পূজা। করে না। যদি কোন মানুষ গুনবান হয় তাহলে সবাই তাকে সম্মান করে পূজা করে কিন্তু নিজের মুখে যে নিজের গুন গায় তাকে কেউ সম্মান দেয় না বা প্রশংসা করে না? গুনী ব্যক্তি গুনী লােকের সমাদর জানেন। হীরা মুক্তার মূল্য সে কি বুঝবে যে এই নিয়ে উৎসাহিত নয়। মানিক্য তখনই শােভমান হয় যখন তাকে সােনায় বাঁধা হয়। তাই বিনা সাহারায় মানুষের কোন দাম থাকে না। প্রানীর চারটি জিনিসের ক্ষুধা বা চাহিদা কখনাে কমে না। ধন, জীবন, নারী ও অর্থ। যতই মানুষ পাক না কেন এগুলির চাহিদা তার অন্তরের মধ্যে সবসময় জাগরিত হয়।

  যে মানুষের কোন সম্মান নেই তার বেঁচে থেকে কোন লাভ নেই। মৃত্যুর যন্ত্রনা কিছুক্ষনের জন্য কিন্তু অপমানের যন্ত্রনা সৰ্ব্বক্ষনের। অন্নের চেয়ে বড় দান আর নেই। দ্বাদশীর চেয়ে বড় তিথি আর নেই। গায়ত্রী মন্ত্র থেকে কোন মন্ত্র বড় হয় না। কোন দেব দেবী মা বাবার চেয়ে বড় হয় না। এটা চরম সত্য।

 রাজা, বেশ্যা, যমরাজ, আগুন, চোর, বালক, পনদাতা, ঝগরাটে এই আটজন এমনতর হয় যে এদের জন্য মানুষসুখদুঃখের কারন হয়ে যায়। কেতকী ফলে সাপ থাকে, কাদায় পদ্মা থাকে, কেবল একটা গুনের জন্য পদ্মফুলকে গজা করা হয়। প্রান। নিজের গুন দ্বারা বড় হয়। পয়সার দ্বারা হয় না। যে উপকার করে সে পর উপকারী হয়ে থাকে। খারাপ লােকের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তবে সে প্রানী সঠিকভাবে সমাজে চলতে পারবে। বুদ্ধি ও গুন ব্যতিত পুস্তক দ্বারা যারা জ্ঞান অর্জন করতে যায় তারা। ঠিক বিনা স্বামীতে গর্ভবতী নারী।

  পা ধৌত করার জল সন্ধ্যার পর যে জল থাকে সেটা কুত্তার প্রস্রাবের সমান। এটা ব্যবহার করা অনুচিত। এভাবে নায়ের ঘরে ক্ষের কর্ম করা পাথরে চন্দন বেটে লাগানাে। নিজের মুখ জলে দেখা নিকৃষ্ট বলে মানা হয়। বিনা নিমন্ত্রনে কারাে বাড়ীতে যাওয়া, জিজ্ঞাসা না করে দান দেওয়া, দুজনের কথার মধ্যে গিয়ে কথা বলা- এগুলি সব নিকৃষ্ট কাজ। 

 সােনার চুড়ি ধারন করলে হাতের সৌন্দৰ্যতা বাড়ে না। দান দিলে বাড়ে। স্নান করলে শরীর পরিস্কার হয় চন্দন দ্বারা নয়। ভােজন অপেক্ষা অধিক তৃপ্তি সম্মানের দ্বারা পাওয়া যায়। এই সব মূল্যবান ব্যাপারগুলি না বুঝলে যথার্থ সুখ পাওয়া অসম্ভব।

যারা শুয়ে থাকলে নাক ডাকে আর উলঙ্গ হয়ে বিছানায় ঘুমায় তারা অল্প আয়ুর হয়ে থাকে। দিনের বেলা সম্ভোগ আর রাতে অধিক প্রস্রাবকারী ব্যক্তি অল্পায়ু হয়ে থাকে। প্রত্যেক জিনিষের একটা সময় আছে। সময় ব্যতিত কাজ করলে ভাল ফল হয়। কোথায় একটা হাতী আর কোথায় একাট পিপিলিকা তবুও দুজনে এই পৃথিবীতে জীবতি থাকে। প্রানীর আকার প্রধান নয় তার কাৰ্যই প্রধান। গনেশ ঠাকুরের শুর আছে, মহাদেবর জটা আছে তবুও মানুষ তাদের পূজা করে। বাহিরের আকার দেখলে হয় না। তার গুন দেখতে হয়। মুখের সৌন্দর্যতা নাম মাত্র শরীরের আকার।

গরু যা কিছু আহার করুক না কেন সে দুধ দেয়। সেই দুধ দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরী হয়। তেমনই বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তিগন যা কিছু করুন না কেন সবটাই দামী। সেটা বােঝার চেষ্টা করতে হবে। তাদের অনুকরন করলে। নিজের জীবনে সাফল্য আসবে। কুকুর সর্বদা লেজটাকে ট্যারা রাখে, সাপ সর্বদা নিজের শরীরকে নিয়ে ট্যারা বাঁকা করে চলে। গাধা সর্বদা ধীরে ধীরে চলে। পিপিলিকাকে যতই দূরে উল্টোদিকে রাখা যাক না কেন সে ঠিক তার গন্তব্য স্থানে ফিরে আসে। মাছিকে যতই তাড়াও ঠিক সে সেই জায়গায় ফিরে আসবে। অতএব পরিষ্কার বােঝা গেল যে যে প্রানীর যা অভ্যাস তা ঠিক থাকবে। কোন দিন তার পরিবর্তন হবে না। কারন প্রানী মাত্রেই অভ্যাসের দাস।

পৃথিবীতে এমন লােক নেই যার মন আর বাহির এক। মনে এক জিনিস উদয় হয় তাে বাহির দিকে তার ঠিক উল্টোটা হয়ে থাকে। বাহির থেকে ভাল আর ভিতরে অন্যরাপ খারাপ মানুষ এই দুই রকমের হয়ে থাকে। হাতীর দাঁত দেখতে একরকম আর তার কাজও অন্যরকম। মহাপুরুষদের সবসময় গুন দেখে কাজ হয় না। প্রতেক মহাপুরুষের মধ্যে একটা না একটা খারাপ দোষ থাকবেই। যেমন অর্জুন নারী সেজে ছিলেন, রাজা শান্তনু ধীবর কন্যার উপর মােহিত হয়েছিলেন। মনে রাখবেন কোন মহাপুরুষ অপগুন ছাড়া হয় না। তাই গুরুর কোন দোষ বিচার করলে চলবে না। সুন্দরী মেয়ে, রূপবতী বিধবা, ষাঁড় সন্ন্যাসী,তান্ত্রিক আর গাধা এদের থেকে দুরে থাকা ভাল। এদের কাছেকাছে থাকলে যে কোন সমস্যা নিজের ঘাড়ে চাপবে। বুদ্ধিমানেরা এদের থেকে সর্বদা দুরে থাকে। পাগল, কুমারী কন্যা, কুষ্টরােগী, গুড়, চন্ডাল আর সাধুকে দুর থেকে নমস্কার কর। এদের সঙ্গ খুব খারাপ। গুনিগন এদের থেকে দুরে থাকে বেশ্যার সকালবেলা, জুয়ারীর দুপুরবেলা, মন্দিরে পাপীকে, মরাকে চিতায় আর শিশুকে কোলে দেখলে কোন প্রকার পাপ হয় না। এরা সবাই শুভ। এদের এই রূপ দেখলে জ্ঞান বাড়ে আর সত্যিকারের ঘটনা ও সত্য জিনিসটা জানা যায়। একবার এ বিষয়ে ভেবে দেখা উচিত। 

ভাগ্যে যেটা আছে সেটা হবেই। কর্ম আর পরিশ্রম দ্বারা ফল পাওয়াযায়। যদি আম খাওয়ার ভাগ্য থাকে তাহলে আম গাছের গােড়ায়। শুয়ে থাকলে আম নিজে থেকে এসে কি মুখে পড়বে? 

তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। কেবল যারা ভাগ্যের জোরে বেঁচে। থাকে তারা কিন্তু ভাগ্য ও ঈশ্বর দুটোর নামে বদনাম করে। আর যারা পরিশ্রম করে তারা ভাগ্যকে জিতে নিয়েছে।

  তেলেও ঘিতে কখনাে জল পাওয়া যায় না। এইভাবে বিপরীত স্বভাব। যুক্ত লােক কখনাে একসাথে থাকতে পারে না। সমস্ত পাখা এক ডালে রাত কাটায় আর সকালে চলে যায়। এই পৃথিবীটা একটা রঙ্গ মঞ্চ। এখানে কেউ কারাে নয় কেবল মায়ার বন্ধন। সময় কারাে কথায় চলে না বা কারাে কথামত থামে না। সময় নিজের। গতিতে চলেছে। সে কারাে জন্য কোন সময় প্রতিক্ষা করে না। এ জন্য সময়কে নষ্ট করে যাওয়া উচিত নয়। সময় জীবনের সব সময় মূল্যবান বস্তু। এটা বুঝে চলতে হয়। মদ আর সুন্দরী নারীর দ্বারা আনন্দ পাওয়া যায় না। এর দ্বারা যারা আনন্দ পায় তারা নকর ভােগ করে মাত্র। এই সুন্দরী নারী পুরুষের ধন =নত আর যৌবন নষ্ট করে নিরাশ করে দেয় মাত্র। এদের থেকে বাঁচার চেষ্টা করা বুদ্ধি মানের কাজ। 

হাতের সমস্ত আঙুল সমান হয় না। তেমন সকল মানুষ সমান হয় না। আমরা একে অপরের চেয়ে পৃথক তেমন আমাদের যে যার কাৰ্যকলাপ ও পৃথক। তাই আমাদের ঈর্শা থাকা অস্বাভাবিক নয়। মনে মনে সকলের উন্নতির কথা ভাবা উচিত অবনতির কথা নয়।

Post a Comment

0 Comments