Why sea water is salty and Salt water plants


সমুদ্রের জল লােনা কেন

 নদী-নালা-খাল-বিল ইত্যাদির জল লােনা নয়। অথচ সমুদ্রের জল লােনা। এর কারণ, সমুদ্রের জলে মিশে আছে প্রচুর পরিমাণে লবণ, অর্থাৎ, সােডিয়াম ক্লোরাইড। যদিও প্রথম অবস্থায় সমুদ্রের জল লােনা ছিল না। লােনা হয়েছে। অনেক পরে, ধীরে-ধীরে। পৃথিবীর ভূ-ত্বকে রয়েছে নানান ধরনের উপাদান। সবচেয়ে বেশি আছে সােডিয়াম ক্লোরাইড। এই যৌগটি জলে খুব সহজে গুলে। যায়। বৃষ্টির জল যখন মাটিতে পড়ে তখন তাতে সােডিয়াম ক্লোরাইড মিশে যায়। এই জল গিয়ে পড়ে নদীতে। নদী বেয়ে সেই জল চলে আসে সমুদ্রে। এইভাবে কোটি-কোটি বছর ধরে সমুদ্রে সােডিয়াম ক্লোরাইড জমা হওয়ায় সমুদ্রের জল লােনা হয়ে গেছে।

 এই সম্পর্কে আরও একটি মত চালু আছে। এই মত অনুসারে সমুদ্রের তলায় হাজার-হাজার কিলােমিটার জুড়ে আগ্নেয় শিলার স্তর আছে। এই শিলাস্তর খুব নরম ও চলমান। তাই এই স্তরে মাঝে-মাঝে ফাটল ধরে। তখন সেই ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসে জুভেলাইন ওয়াটার' নামে এক ধরনের জল যা ওই শিলাস্তরেই জমে আছে। এই জল সমুদ্রের জলে মিশলে এক ধরনের বিক্রিয়া হয়। ফলে সমুদ্রের জলে লবণের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

 লােনা জলের গাছপালা 

সৌরজগতে পৃথিবী ছাড়া আর কোনাে গ্রহে গাছপালা নেই। পৃথিবীতে ডাঙায় যেসব গাছ জন্মায় তাদের সঙ্গেই আমাদের পরিচয় বেশি। গাছে ফুল থাকবে, ফল থাকবে, পাখিরা বাসা বাঁধবে, ফুলের বাগানে মৌমাছির দল উড়ে বেড়াবে, এমন দৃশ্য দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। সমুদ্রের নীচে যে-জগৎ আছে, সেখানে যে গাছপালা আছে, সেখানেও কি এমন দৃশ্য দেখা যায় ?

 ডাঙার গাছপালা আর সমুদ্রের গাছপালার মধ্যে অনেক তফাত। সমুদ্রের নীচে যেসব গাছ জন্মায় তাদের শেকড়, পাতা, কুঁড়ি, ফুল, ফল কিছুই হয় না। এরা শেওলা জাতীয় নিম্নশ্রেণির জলজ উদ্ভিদ। লােনা জলে এরা জন্মায় বলে পুকুরে, খালে, বিলে দেখা জলজ উদ্ভিদের সঙ্গেও এদের পার্থক্য আছে। লােনা জলের গাছপালা 

সমুদ্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শেওলা, ছাতা এবং কয়েক ধরনের লতা জাতীয় গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এরা খুবই ছােটো মাপের। শেকড় বা পাতা। কিছুই থাকে না। এদের কাণ্ড স্পঞ্জের মতাে নরম। এইসব গাছে খুব ছােটো- ছােটো এক ধরনের গর্ত থাকে। এই গর্তগুলি বায়ুপূর্ণ থাকে। এই কারণেই এরা। জলে ভেসে থাকতে পারে। সাগরের তলার এইসব উদ্ভিদের তলদেশ খুব চ্যাপটা হয়। এই চ্যাপটা তলদেশ দিয়ে এরা মহীসােপানের পাথর শক্ত করে আঁকড়ে থাকে। 

সমুদ্রের শ্যাওলা নানা রঙের হয়। কোনােটা সবুজ, কোনােটা বাদামি, কোনােটা ধুসর, আবার কোনােটা লাল। দেখা গেছে, সমুদ্রের ওপরের দিকের শ্যাওলাগুলি সাধারণত সবুজ রঙের হয়, তার নীচে হয় বাদামি, আর একেবারে নীচে, অর্থাৎ, গভীর সমুদ্রে যে-শ্যাওলাগুলি জন্মায় সেগুলির রং হয় লাল। 

 সাগরের তলায় ছাতা এবং শ্যাওলার উপনিবেশ দেখতে পাওয়া যায়। এক- এক জাতের শ্যাওলা এবং ছাতা এক-এক জায়গায় ঝাক বেঁধে থাকে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, এই সামুদ্রিক শ্যাওলায় প্রচুর পুষ্টিগুণ আছে। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই শ্যাওলা আমাদের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেবে। 

আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সার্গোসা সাগর। এখানে এক ধরনের। আগাছা জন্মায়। নাম সার্গাসাম। রং বাদামি। সারা সাগরে ছেয়ে থাকা এই আগাছাগুলি হঠাৎ-হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। এই অদ্ভুত ঘটনার জন্য আগেকার দিনের। লােকেরা সার্গোসা সাগরে যেতে ভয় পেতেন। আসলে সার্গাসাম জলের নীচে জন্মায়। যতদিন ছােটো থাকে ততদিন এরা জলের নীচেই থাকে। তখন এদের দেখতে পাওয়া যায় না। বড়াে হলে এদের গায়ে বায়ুভরতি থলি গজায়। তখন এরা জলের ওপর ভেসে ওঠে। তখনই এদের দেখতে পাওয়া যায়। থলেগুলি। নষ্ট হয়ে গেলে একসঙ্গে এরা মারা যায়। তখন এরা জলের তলায় তলিয়ে যায়। এটাই এদের উধাও হওয়ার কারণ।

 লােহিত সাগরের জল লালচে দেখতে হলেও, আদৌ লাল নয়। আসলে এখানে এক ধরনের আগাছা জন্মায় যাদের রং লালচে। তাই এই সাগরের জল লালচে দেখায়। 

 প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে এক ধরনের লতা জন্মায়। সাধারণত মহীসােপান অলে—যেখানে জলের গভীরতা কম থাকে সেখানে— এদের দেখতে পাওয়া যায়। সমুদ্রের গাছপালার মধ্যে এরা সবচেয়ে লম্বা। অনেক সময় এরা পরস্পরের সঙ্গে জড়াজড়ি করে জলের ওপর মাথা তুলে ঢেউয়ের সঙ্গে দুলতে থাকে। দেখে মনে হয় যেন দুটি সাপ জড়াজড়ি করে দুলছে। তাই এই লতাগুলােকে ‘ডেভিলস্ সু লেস’ বা দানবের জুতাের ফিতে বলা হয়। এই লতা পুড়িয়ে তৈরি হয় কেল্প, যা থেকে আয়ােডিন পাওয়া যায়। নীচে এক থেকে দেড় হাত লম্বা তালগাছের মতাে এক ধরনের গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এদের গুঁড়ি থাকলেও শিকড় বা পাতা থাকে না। মাথাটা দেখতে অনেকটা ফুলের মতাে। পাথরের গায়ে এরা আটকে থাকে। এদের বলা হয় সামুদ্রিক পাম।

 সূর্যের আলাে সমুদ্রের গভীরে একশাে মিটার পর্যন্ত যেতে পারে। সালােকসংশ্লেষের জন্য যেহেতু গাছের সূর্যরশ্মি দরকার তাই এইসব সামুদ্রিক গাছ। সমুদ্রের নীচে সাধারণত একশাে মিটার গভীরতার মধ্যেই জন্মায়। গভীর সমুদ্রে, সেখানে সূর্যের আলাে পৌঁছােয় না, সেখানে উদ্ভিদ জন্মায় না বললেই চলে।

Post a Comment

0 Comments